রাশেদুল ইসলাম
চিরকুট দুইশত তেইশ
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৪ জুলাই,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:১৪ এএম, ১১ আগস্ট,মঙ্গলবার,২০২৬
ছবি- একজন ফেসবুক বন্ধুর পোস্ট থেকে নেওয়া।
জনাব নাসির উদ্দিন দেশে বা দেশের বাইরে বিপদে পড়া মানুষের সেবায় ছুটে চলেন । ভায়া মিডিয়া নয়, সরাসরি টার্গেট গ্রুপের কাছে নিজে চলে যান তিনি। বলা যায়, জীবনের হুমকি থাকলেও তিনি এ ধরণের কাজ করে চলেছেন। জনাব নাসির উদ্দীন সাহেবের মত যারা বন্যাদুর্গত বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ।
বর্তমানে চট্টগ্রামের ৫টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা চলছে । পানিবন্দি মানুষের দুর্বিষহ জীবন চোখে দেখার মত নয়। নাসির উদ্দিন সাহেব জেনেছেন বাঁশখালির দুর্গম এলাকায় গত কয়েকদিনে কোন সাহায্যকারী দল যাননি । তাই তিনি নিজে সেখানে যান । কিন্তু একদল সিন্ডিকেট দাবী করেন ত্রাণসামগ্রী তাঁদেরকে দিয়ে দিতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছেন ।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ । প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের মানুষের ভবিতব্য । কারণ, বাংলাদেশ ভাটির দেশ । আষাঢ়ের বৃষ্টির সাথে উজান থেকে নেমে আসা প্রবল ঢেউ বন্যার কারণ ঘটায়। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস তো আছেই । বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষ, নিম্নাঞ্চলে যাঁদের বসবাস- তাঁদের কপালের অলঙ্ঘনীয় লেখা প্রতিবছর বন্যার মত বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় । কিন্তু দুঃখজনক আর এক সত্য এই যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এদেশের মানুষ যতটা না কষ্ট পায়, তারচেয়ে বেশি কষ্ট পায়, এদেশের মানুষের তৈরি বিপর্যয়ে । পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে, এদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, এদেশের মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে অনেক বেশি । মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ শুধু জান ও মালের ক্ষতি করে না, এ দুর্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হৃদয় ও স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান করে দেয় ।
আমাদের দেশের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশে শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল একতা ও পারস্পারিক শ্রদ্ধা ভালোবাসার মধ্যে সকলে পাশাপাশি বসবাসের শিক্ষা । একজনের বিপদে আর একজন মানুষ ছুটে যাবে সাহায্য করার জন্য, বিপদে পড়া মানুষের সম্পদ লুটপাটের জন্য নয় । একটা গল্প আমি আগেও বলেছি; এখানে আবারও বলি। এটা আমেরিকার উত্তর কেরোলিনার কথা । আমরা দু’বন্ধু একটা শপিংমলে থাকা অবস্থায় সেখানে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি শুরু হয় । মোবাইল ফোনে কোথাও না গিয়ে যার যার অবস্থানে থাকার জন্য মেসেজ আসে । আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে মধ্যরাত পার হয়ে যায় । আমরা বাইরে এসে দেখি চারিদিকে গাছপালা পড়ে একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে । সেই দুর্যোগপূর্ণ রাতে এক মেক্সিকান ভদ্রলোক তাঁর গাড়ীতে অনেক কষ্টে ডিউক ইউনিভার্সিটির ডরমিটরিতে আমাদের পৌঁছে দেন । ভাড়া দিতে গেলে তিনি বলেন, ‘এ রকম দুর্যোগপূর্ণ রাতে কোন বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করলে আমার ভাড়া শোধ হয়ে যাবে’ ।
এখানে প্রশ্ন, বিপদে পড়া মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করার এই শিক্ষা সেই মেক্সিক্যান ভদ্রলোক কোথায় পেয়েছেন। কে তাঁকে শিখিয়েছেন? নিশ্চয়ই তাঁর পরিবার বা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ।
এখানে আবারও প্রশ্ন, আমাদের সন্তানদেরকে আমরা কি এ ধরণের শিক্ষা দিয়ে থাকি ?
আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এ ধরণের শিক্ষা দেয় ?
এসব প্রশ্নের এককথায় উত্তর, ‘না’ ।
আমরা আমাদের সন্তানদের কাউকে উপকার করার শিক্ষা দিই না ।
অথচ, আমরা দুর্যোগপ্রবণ দেশের মানুষ । চোখের পলকে একজন সুখী ও সচ্ছল পরিবারকে নিঃস্ব হয়ে অন্যের সাহায্যের আশায় থাকতে হয় । আপনাকে বা আমাকেও একই অবস্থায় পড়তে হবে কি না – আমাদের জানা নেই। তাই এ ধরণের প্রকৃতি নির্ভর দেশের শিক্ষাপদ্ধতির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানবিকতার, পারস্পারিক শ্রদ্ধা ভালোবাসার।
এটা কিন্তু কঠিন কিছু নয় ।
আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে দুর্নীতি ও অপরাধ প্রবণতা, নাসির উদ্দিন সাহেবের বর্ণনামতে সিন্ডিকেট তৈরি হওয়াসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড মাথায় রেখেই অর্পণ- দর্পণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এদেশের সকল প্রকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শুদ্ধাচার অনুশীলনে চল্লিশের চর্চা’ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করে আসছে । সুখের কথা, এদেশের পথশিশুসহ সকল শিশু এখন প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় এসেছে । প্রস্তাবিত কর্মসূচির স্বল্পমেয়াদে কোন সুফল পাওয়া যাবে না সত্য, কিন্তু এ ধরণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে, দীর্ঘমেয়াদে এ দেশের সমাজকাঠামো সম্পূর্ণ বদলে যাবে । মানুষ নামক মানুষের যে অমানবিক কার্যকলাপ এখন দৃশ্যমান, এ দেশের ভবিষ্যৎ মানুষ তা দেখবে না ।
সরকারের পাশাপাশি আমরা যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের ৭টি জেলার পানিবন্দী সকল মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াই । মহান আল্লাহ সহায় হোন ।
রাশেদুল ইসলাম । ১১ জুলাই, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।
১০ জন শিক্ষক পড়িয়েছেন ২ জন শিক্ষার্থীকে, তবুও কেউ পাস করেনি
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপুঞ্জের ফোর্থ এষ্টেট
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, আসছে নতুন নিয়ম
চাচা বেশি উইড়েন না, বিএনপি নেতাকে ‘অদৃশ্য মুসাফিরের’ চিঠি
চীনের বিকল্প খুঁজতে অস্ট্রেলিয়ার স্ক্যান্ডিয়াম খনিতে বড় বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের
ওয়েব সিরিজ দেখে স্ত্রীকে হত্যা, যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই প্রযুক্তিবিদ
গ্রিসের উপকূলে ২ শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি
সেউতা সীমান্তে অভিবাসী ঢলে মৃতের সংখ্যা ১০০
‘আমি লজ্জিত, দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী’—সাকিব ইস্যুতে আসিফ আকবর
থাইল্যান্ডের স্কুলে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত ৬
শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য ভারত সমর্থন করে না: রণধীর জয়সওয়াল
আমিও বিশ্বাস করতে চাই তিনি ডিসেম্বরেই আসবেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন: আইনমন্ত্রী
৩৬ জুলাইকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’ বলে শুভেচ্ছা দিলেন তিশা
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
নাতিদের জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু



