রাশেদুল ইসলাম
চিরকুট দুইশত উনিশ
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৬ জুলাই,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৫:২০ পিএম, ২৬ জুলাই,রবিবার,২০২৬
১ জুলাই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস । ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী । ১ শত ৫ বছর আগে ১৯২১ সালের এই দিনে ৮ শত ৭৭ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে । সেদিন ছাত্রী ছিল মাত্র ১ জন । নাম লীলা নাগ । মুসলমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১৭৮ জন; অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থী সংখ্যার ৫ ভাগের একভাগ । এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, ১৯২১ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ পূর্ববাংলার মুসলমান ও নারী সমাজ ব্রিটিশ পশ্চিমবাংলার হিন্দু সম্প্রদায় ও নারীদের তুলনায় শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকের সকল ক্ষেত্রেই পশ্চাদপদ ছিলেন । তাই, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বলা যায়, পূর্ববাংলার জনজীবনে সচেতনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা করে । চলতি ২০২৬ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ । এ উপলক্ষে টিএসসিতে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই বা প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল । অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইমিরেটাস অধ্যাপক ড এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরি । সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ।
১৯১১ সালে গঠিত স্যার রবার্ট নাথান কমিটি ব্রিটিশ পূর্ববাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি অতিচমৎকার রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৯২৩ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য বড়লাট লর্ড রিপন সকলকে একই কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু প্রশ্ন আসে কিসের এবং কিভাবে ক্ষতিপূরণ ? বিষয়টি অনেকেই জানেন যে, ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত বঙ্গভঙ্গ আইনে পূর্ববাংলা এবং আসামকে নিয়ে ব্রিটিশ ভারতের একটি নতুন প্রদেশ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয় । নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকা । কিন্তু কংগ্রেসের সর্বভারতীয় আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার এক পর্যায়ে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ আইন রদ করতে বাধ্য হন । এতে পূর্ববাংলায় যে অসন্তোষ দেখা যায়, মূলত সেই অসন্তোষ দূরীকরণের জন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় । এটাকে ব্রিটিশরাজ প্রদত্ত রাজকীয় ক্ষতিপূরণ বলার কারণ এইযে, ব্রিটিশরাজের ধারণা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণেই পূর্ববাংলার পশ্চাদপদতা এক সময় দূর হবে। এর প্রমাণ মেলে ১৯৪৮ সালে ২৪ শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে, যেখানে পাকিস্তানের বড়লাট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে ভাষণ দেন । সেই ভাষণে নতুন পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু- এই ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ করেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এই প্রতিবাদই ধর্মের ভিত্তিতে স্বাধীন হওয়া পূর্ব পাকিস্তানে ভাষাভিত্তিক জাতীয় আন্দোলনের শুভ সূচনা করে । পর্যায়ক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দেশব্যাপী ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আন্দোলন গড়ে তোলেন । ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, বাঙালি জাতির গৌরবময় অর্জন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ, যার ফলশ্রুতিতে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ- প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রয়েছে। ১৯৯০ সালের এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, এমনকি সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব - প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন ।
এ পর্যায়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে যারা অবস্থান নেন, তাঁদের বিষয়ে উল্লেখ করা অনেকটা প্রাসাঙ্গিক হয়ে পড়েছে । প্রাবন্ধিক কুলদা রায় তিন শ্রেণির মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতা করেন বলে উল্লেখ করেছেন-
১। কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী
২। পশ্চিমবাংলার মুসলমান এবং
৩। পূর্ববাংলার মুসলমান (সূত্র- নিজেকে অভিজাত মনে হয়, লেখক- রাশেদুল ইসলাম, প্রকাশক- ইছামতি প্রকাশনী)।
কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কি না বা কে কে ছিলেন এসব আমার আলোচনার বিষয় নয় । আমার আলোচনার বিষয় দুই বাংলার মুসলমান । পশ্চিমবাংলার মুসলমানদের মনে হয়েছে, পূর্ববাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় হলে তাঁদের কোন লাভ নেই । পূর্ববাংলার মুসলমানেরা ভেবেছেন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হলে, যেহেতু এদেশে হিন্দুরা লেখাপড়ায় এগিয়ে আছে, তাঁদেরই লাভ বেশি হবে । এতে মুসলমানদের কোন লাভ নেই । তাই তাঁরা সেসময় ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক- তা চাননি । উভয় ক্ষেত্রেই মুসলমানদের হীনমন্যতা ও অদূরদর্শিতার প্রমাণ মেলে । একশত বছর পার হলেও আমাদের মুসলমানদের সেই মন-মানসিকতার কোন পরিবর্তন হয়েছে কি ? চলতি ২০২৬ এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে একজন তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত মুসলমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা দিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই বক্তব্যের কেউ কেউ সমর্থন করেছেন বলে দেখা গেলো । এসব মন্তব্যের জবাব দিতে রুচিতে বাঁধে । তাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খেদোক্তি দিয়েই শেষ করি-
‘সাতকোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি’ ।
রাশেদুল ইসলাম । ৩ জুলাই, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।
নিয়তির লিখন
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
‘যুদ্ধে জড়ালে খুবই খারাপ হবে’,চীন-রাশিয়াকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
নদীপথে অবৈধভাবে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিয়েছে বিজিবি
যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেল বাংলাদেশ
শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি!
উত্তপ্ত নয়াদিল্লি রণক্ষেত্র, যন্তর মন্তরে ইন্টারনেট বন্ধ
জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
আলোচনায় হাসিনার দেশে ফেরা
দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় লুকিয়ে চাকরির সুপারিশ করেন জামায়াত এমপি
রূপপুরে সাগরচুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য : ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিল তোলা হয় ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ
বিচারকের ছোড়া পেপার ওয়েটে মাথা ফাটল আইনজীবীর!
চিরকুট দুইশত পঁচিশ
ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিমুখে যাত্রা, চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
নাতিদের জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন



