avertisements 2

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে আলোচনা

সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১২ আগস্ট, বুধবার,২০২৬ | আপডেট: ০৮:০০ পিএম, ১২ আগস্ট, বুধবার,২০২৬

Text

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই: স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে লাকেম্বার বাংলা কমিউনিটি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক নুর এমপি, রাশেদা বেগম হীরা এমপি, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান এবং কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শাহ জে. মিয়া। অনুষ্ঠানে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন মোশিউর রহমান মুন্না এবং সদস্য সচিব ছিলেন শফিকুল আলম শফিক।

গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা

আলোচনায় বক্তারা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

বক্তারা গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি সম্মান জানান। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

প্রধান অতিথি আরিফুল হক চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা

বিশেষ অতিথি নুরুল হক নুর এমপি প্রবাসীদের কল্যাণে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, বিমানবন্দরে পৃথক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এবং তৃতীয় টার্মিনালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান।

প্রবাসীদের দেশে যাতায়াতের সময় হয়রানি ও ভোগান্তি কমানো এবং বিভিন্ন সেবা আরও সহজ করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাশেদা বেগম হীরা এমপি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা দেশের প্রতি যে দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা ধারণ করেন, তা দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গ

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি তাঁর বক্তব্যে বিগত শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

৩১ দফা নিয়ে আলোচনা

বিশেষ বক্তা অধ্যাপক ড. শাহ জে. মিয়া বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ৩১ দফার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয়, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।

তিনি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণের দাবি

বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কনস্যুলার সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ভৌগোলিক পরিসর এবং বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা বিবেচনা করে কনস্যুলার সেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনে আরও কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান হায়দার আলী।

এফ এম তৌহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিগত সরকারের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।

 অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মোশিউর রহমান মুন্না বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।

 

শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে হলে তাদের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দায়িত্ব রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংকট ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে প্রবাসীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সদস্য সচিব শফিকুল আলম শফিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো প্রবাসে স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

আলোচনা শেষে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের দ্রুত সুস্থতা এবং বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রবাসের মাটিতে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশ, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2