রাশেদুল ইসলাম
নিজেকে অভিজাত মনে হয় (তিন)
প্রকাশ: ১১:৪৩ পিএম, ২১ অক্টোবর, বুধবার,২০২০ | আপডেট: ০৬:২৮ পিএম, ১০ মার্চ,মঙ্গলবার,২০২৬
এখন রমনা পার্ক উন্মুক্ত । সবার জন্য খোলা । আমি দাঁড়িয়ে আছি ওয়াকওয়েতে । আমার ডানদিকে জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সের প্রাচীর । বাদিকে রমনা লেক থেকে বেরিয়ে আসা নালা । নালার পানি কেমন দুষিত মনে হয় যেন । লেকের পানি পরিস্কার করা হলেও, এখানকার নালা- ডোবার পানি পরিস্কার করা হয়না বোধহয় । এরকম জায়গায় আমার দাঁড়ানোর কথা নয় । কিন্তু প্রভাতের শুভ্র আলোয় অগণিত পাখির কূজন শুনে দাঁড়িয়ে যায় আমি । তারমানে রমনা পার্কের সব গাছে একইভাবে পাখি বসে না । কোন গাছে অনেক পাখি বসে; কোনটাতে একেবারেই না ।
বন্ধু হারুনের কথা মনে পড়ে আমার । তিনি একবার সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলায় এক পরিদর্শনে যান । সেখানে থানার আশেপাশের গাছগুলোতে ঝাকেঝাকে পাখি দেখে অভিভুত হন তিনি । কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন, সেখানকার গাছে একটিও পাখি নেই । এর কারণ জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরক্ত হন । তিনি বলেন, তাঁর অফিস আঙিনার গাছগুলোতে কেন পাখি বসে না, তা তাঁর জানার কথা নয় । তাঁর উত্তরে বন্ধুটি বিরক্ত হন । থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অবিলম্বে তাঁকে অফিস আঙিনা পাখিবান্ধব করার পরামর্শ দেন তিনি । লিখিত প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি ।
কয়েক বছর পরে বন্ধুটি যখন আরও উচ্চপদে আসীন; তখন একই অফিসারকে কুমিল্লায় বদলি করার একটা তদবির পান তিনি । পুরনো স্মৃতি মনে হতেই, তিনি সেই অফিসারকে ডেকে পাঠান । অফিসার তাঁকে চিনতে পারেন নি । কিন্তু বন্ধুটি তাহেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস আঙিনা পাখিবান্ধব করার প্রশ্ন তুললে, তিনি তাঁকে চিনতে পারেন এবং আগের মতই বিরক্ত হন । তিনি আগের মতই জানান, গাছে পাখি না বসলে, কোনকিছু করার নেই তাঁর । এ ধরণের উত্তরে বন্ধুটি আবারও বিরক্ত হন । তিনি তাঁকে কুমিল্লায় বদলি না করে, একটি পাহাড়ি অঞ্চলে বদলী করেন । তাঁর মনে হয়েছে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কোন কর্মকর্তাকে অবশ্যই পরিবেশ বান্ধব হতে হবে; পাখি বান্ধব হতে হবে ।
আমি বন্ধু হারুনের সাথে একমত । পরিদর্শনকালে তাঁর এ ধরণের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ আমাকে মুগ্ধ করে । এর সাথে দেশপ্রেমেরও একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে । জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে পৃথিবীর ঝুঁকিপ্রবণ দেশের শীর্ষে বাংলাদেশ । সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের কারণে এদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে সত্য; তবে উন্নয়নের পাশাপাশি নগরায়ন বেড়েছে । ব্যাপক হারে পাহাড় ও গাছপালা কাটা পড়েছে । পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার মত প্রয়োজনীয় বনভূমি আমাদের নেই । এ অবস্থায় দেশের সকলে যাদি পরিবেশ বান্ধব না হয়; যার যার বসতবাড়ি এবং অফিস আঙিনা যদি পরিবেশ বান্ধব না হয়; তাহলে ভবিষ্যতের ভয়াবহ দুর্যোগ ও দুর্গতি আমাদের অনিবার্য পরিণতি হতে পারে ।
আমি বোধহয় বিষয়বস্তুর বাইরে চলে গেছি । বাস্তবে আমি এখন রমনা পার্কের একটা প্রাচীন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে । গাছটির বয়স কত ? আমি অনুমান করার চেষ্টা করি । গাছের বয়স নির্ণয়ের একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে । কিন্তু সাধারণ কলা বিভাগের ছাত্র আমি । সেই হিসাব পদ্ধতি আমার জানা নেই । তবে ইতিহাস আমার জানা । আমি ঐতিহাসিক ঘটনা দিয়ে গাছটির বয়স জানার চেষ্টা করি ।
মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬১০ সালে ঢাকাকে সুবে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন । তিনি সুবেদার ইসলাম খান চিশতীকে সুবেদার নিযুক্ত করেন । এই নিয়োগে খুশী হয়ে সুবেদার ইসলাম খান ঢাক বাজিয়ে আনন্দ উৎসব করেন । কথিত আছে, সেদিনের ঢাক বাজিয়ে অনুষ্ঠান করা মানুষের মনে এমন প্রভাব ফেলে যে, এই নগরীর নাম পরবর্তীতে ঢাকা হয়ে যায় । আবার অনেকে বলেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কারণে এই নগরীর নামকরণ করা হয় ঢাকা । তবে ১৬১০ সালে সুবেদার ইসলাম খান ঢাকা নগরীর পত্তন ঘটান এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে তখন রাজধানীর নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীর নগর । রমনা নামটি মোঘলদের দেওয়া । সুবেদার ইসলাম খান রমনা সংলগ্ন এলাকাকে একটি অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসাবে গড়ে তোলেন । কিন্তু পরবর্তীতে সুবে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে স্থানান্তর করা হলে, ঢাকা নগরীর গুরুত্ব কমে যায় এবং ধীরে ধীরে রমনা অঞ্চল ঘন জঙ্গলে পরিণত হয় । তবে আমার সামনের গাছটি সেই সময়ের নয় ।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন আমলের কথা । ১৮২৫ সালে ব্রিটিশ কালেক্টর ডাউইজ ঢাকা নগর উন্নয়নের পদক্ষেপ নেন । তিনি রমনা পার্কের দক্ষিন দিকটা ঘিরে ঘোড়দৌড়ের মাঠ তৈরি করেন । ইংরেজ বীরের জাতি । ইউরোপের ছোট একটা দেশের প্রতিকুল পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইংরেজ টগবগে ঘোড়ার মত গোটা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়ায় । ঘোড়দৌড় বা রেসকোর্স তাই তাদের রক্তে উন্মাদনা জাগায় । মূলত পূর্ব বাংলায় কর্মরত ইংরেজেদের চিত্তবিনোদনের জন্যই রমনার দক্ষিণ দিকে গড়ে ওঠে রমনা রেসকোর্স ময়দান । পরবর্তী কালে ঢাকার নবাব পরিবার পুরনো হাইকোর্ট ভবন এলাকা থেকে রমনা গ্রিনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে একটি রাজকীয় বাগান গড়ে তোলেন । সেই বাগানের নাম দেন, ‘শাহবাগ’ । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রমনা রেসকোর্স ময়দানের নামকরণ হয় ‘সোহরাওয়ার্দি উদ্যান’ । তবে আমার সামনের গাছটি সে সময়েরও নয় বলে আমার মনে হয় ।
প্রকৃতপক্ষে আধুনিক রমনা পার্ক প্রতিষ্ঠার মূল পরিকল্পনা হয় ১৯০৮ সালে । ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের আদেশে পূর্ববাংলা এবং আসামকে নিয়ে একটি ভিন্ন প্রদেশ গঠন করেন । প্রাদেশিক রাজধানী হয় ঢাকা । তখনকার অভিজাত ইংরেজদের মনোরঞ্জনের জন্যই মূলত লন্ডনের কিউই গার্ডেনের অনুরূপ একটি গার্ডেন প্রতিষ্ঠার জন্য মিঃ প্রাউডলককে ঢাকায় আনা হয় । প্রাউডলক ছিলেন কিউই গার্ডেনের অন্যতম একজন কর্মী । আমার মনে হয় সামনের গাছটি প্রাউডলকের প্রথম দিকে লাগানো একটি গাছ । আমার ধারণা ঠিক হলে গাছটির বর্তমান বয়স ১ শত ১২ বছর । অবশ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাছটির প্রকৃত বয়স বের করা সম্ভব ।
আমি লেকের গাঁ ঘেঁষে ওয়াকওয়ে বরাবর হাঁটতে থাকি । সবুজ গাছপালা ঘেরা লেকের পানি সবুজাভ মনে হয় । ৮.৭৬ একর আয়তনের এই লেক রমনা পার্কের অনুপম সৌন্দর্যের একটি বড় কারণ । আমি লেকের ছবি তোলার চেষ্টা করি ।
রমনা পার্কে ঢোকার বেশ কয়েকটি গেট আছে । তবে মিনটো রোড সংলগ্ন গেটটি দেখলেও বোঝা যায় সেটি একমাত্র ভিআইপি গেট । গেটের নাম ‘অরুণোদয়’ । মিনটো রোড সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত অভিজাত শ্রেণির বাসিন্দাদের জন্যই গেটটি করা । গেটের ডানদিকে আর একটু হাঁটলে আরও একটি গেট । সেটি মূলত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের অভিজাত মেহমানদের জন্য । যে কোন পাঁচতারকা হোটেলে ব্যায়ামাগার থাকে । কিন্তু আমার মত অনেকে আছেন, যারা চার দেয়ালের মধ্যে ব্যায়াম করতে চান না । তাঁদের কথা ভেবেই মূলত গেটটি তৈরি হয়েছে ।
ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকলেই বাদিকে মহিলা অঙ্গন । এর চারদিকটা ঘেরা । অভিজাত এলাকার বায়ু সেবনকারী মহিলাগণ এখানে নিজেদের মত ব্যায়াম করে থাকেন
(চলবে )
ইস্কাটন, ঢাকা । ১৬ অক্টোবর, ২০২০ ।
ভারত থেকে আজই বাংলাদেশে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল
বেগম জিয়ার ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা গ্রহণ করলেন জাইমা রহমান
ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য সংকট তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
বাড়ির দরজা খুলেই প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘চলেন যুদ্ধে যাই’
ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ২ জন ভারতে আটক
সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মাটির নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল লুকিয়ে রেখেছিলেন ব্যবসায়ী
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন
তারুন্যের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলুক
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন আরো ১৬৫ বাংলাদেশি
খুলনায় ৫টি বিদেশী পিস্তল ও ৯৬ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক
ইরানকে ‘আত্মসমর্পণের’ নির্দেশ ট্রাম্পের, নাকচ করে ইরানের বার্তা
ডিএনসিসির তহবিলে ১,২৬০ কোটি টাকা জমা রেখে এসেছি: মোহাম্মদ এজাজ
‘আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?’ স্পষ্ট ব্যাখ্যা
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



