
জালাল উদ্দিন আহমেদ
দিন বদলের প্রত্যাশা
প্রকাশ: ১১:৫০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর,সোমবার,২০২০ | আপডেট: ০৮:২২ পিএম, ৪ এপ্রিল,শুক্রবার,২০২৫

আমরা শোকাহত। একে একে আমাদের আলোকিত মানুষগুলো আমাদের সামনে থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। অজানা আশংকায় আমরা আমজনতাও আজ এই অদৃশ্য করোনার ভয়ে জুবুথুবু হয়ে পড়েছি। জানিনা কোথাকার জল কোথায় গিয়ে পড়ে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকের প্রয়ান দিয়ে শুরু হয়েছে এই মৃত্যুর মিছিল। একে একে হারাচ্ছি রাজনীতির পোড় খাওয়া ডাকসাইটে নেতাদের। আমাদের অভিভাবকহীন করে চলে যাচ্ছেন বুদ্ধিজীবি, শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতির ডাকসাইটে নেতা ও আমলারা। আশংকাজনক ভাবে আমাদের বিমর্ষ করে করোনার কাছে হার মেনে বিদায় নিচ্ছেন সেই সব সম্মুখ যোদ্ধারা যারা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যচ্ছেন। বলছি স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত ডাক্তার নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের কথা আর আইন শৃংখলার সাথে জড়িত সেইসব বাহিনীর সম্মুখ যোদ্ধাদের কথা। এর সঙ্গে আছেন আরো একদল সাহসী সাংবাদ কর্মী যারা সম্মুখ যোদ্ধার ভুমিকায় প্রতনিয়ত আমাদের এই মরনঘাতি মহামারীর দিক দিগন্ত জানিয়ে দিচ্ছেন। তাছাড়া আইন শৃংখলার মানুষজন যেভাবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জনপদের স্বাস্থ্যবিধির শৃংখলা রক্ষার্থে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তা অস্বীকার করার কোন অবকাশ আছে কি? আমরা সৌভাগ্যবান এই কারনে যে, আমাদের সরকার প্রধান তার সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা দিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহামারীর এইসব দিনগুলিতে যেভাবে তার শ্রম ও মেধা ব্যয় করছেন তা কি কোন প্রশংসায় মাপা যায়! কিন্তু তাঁর চারপাশে ঘুর ঘুর করা পদ ও পদবীর পোষ্টবক্সগুলো ঠিকমত পোষ্টেড কিনা তা নিয়ে জনমনে কানাঘুষা আছে। তাছাড়া কথায় কথায় শিরোমনিকে ব্র্যাকেটে রেখে যেভাবে পদাধিকারী ও পোষ্টবক্সগুলো তাদের নিজেদের উৎকর্ষতা বাড়িয়ে চলেছেন তা কিন্তু সাদা চোখেই দেখা যায়। এমনকি প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী মানুষ তাদের পুর্ব পুরুষদের সম্পর্কের সুবিধাভোগে যেভাবে সরকারী উন্নয়নমুখী কর্মধারায় নয়ছয় করে শিরোমনির মন ও কর্মস্পৃহায় রক্তক্ষরন ঘটাচ্ছেন, বিশ্বাসের অটলে থাকা অপামর জনগন তা ঠিকই টের পাচ্ছেন।
সত্যি কথা বলতে কি, মহামারীর এই দুর্যোগপুর্ণ সময়ে আমরা একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলাম বলে মনে হচ্ছে। পঞ্চাশ বছরের ফালনামা খুললে দেখা যায় বাঙালী বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অখন্ড শক্তি কিংবা পঁচাত্তর পরবর্তী সৃষ্ট খন্ডিত চেতনার এই দুটি তাঁবুর ফ্যামিলি ডাইনেস্টিতে আবদ্ধ। মাঝখানে লেজেহোমোএর কয়েকটি বছর ও ছিটে ফোঁটা দু-একজনের ক্ষণকালের বিচরণ ছাড়া এদেশে এই দুটি পরিবারের বলয়েই আমাদের রাজনীতি মোহাচ্ছন্ন থেকেছে। সেক্ষেত্রে ফ্যামিলি ডাইনেস্টির দৌদান্ড প্রতাপে ক্ষমতা আহরণকারী বর্তমান উত্তরাধিকারী পক্ষের মাননীয় শিরোমনি দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ পারাকাষ্টায় তাঁর আশেপাশে ও পিছনে ঘুর ঘুর করা ওইসব ক্ষমতালিপ্সু পদলেহনকারী পোষ্টবক্সগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে ফেলে দিতে পারতেন। এবং করোনা প্যান্ডেমিকের এই মহা দুর্যোগে এটাই ছিল সর্বোৎকৃষ্ট সময়। আমরা এটাও জানি এদেশে রাজনৈতিক অস্তিত্ব বলতে এই দুটি ধারা বা বলয় আমাদের আস্থার প্রতীক হয়ে এখনো টিম টিম করে জ্বলছে। এর বাইরে ওসব হাফ কোট বা ফুল কোট ওয়ালাদের কোন রাজনৈতিক অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। এদেশের পঞ্চাশ বছরের রাজনীতির সহজ পাঠে সে কথাই আমাদের জানান দেয়।
আজকে দেশের এই দুর্যোগপুর্ণ দিনগুলিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই হোল মূলকথা। মানুষকে ভালোবেসে দুর্যোগপুর্ণ এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন সবচেয়ে বড় কাজ। অথচ আমাদের এই রাজনীতির সুবিধা ভোগীরা সাজানো গুছানো ড্রয়িং রূমে বসে মুখে মাস্ক লাগিয়ে প্রেস ব্রিফিং দিয়ে তাদের করোনা যুদ্ধের কাজটি সেরে নিচ্ছেন। মনে হচ্ছে যেন সংবাদ পাঠ করছেন। তাদের সেই সংবাদ পাঠের অর্ধেকটা স্তুতি বা বন্দনা এবং বাকী অর্ধেকটা ক্ষয়ে যাওয়া বা নির্জীব হয়ে যাওয়া প্রতিপক্ষ দলটির পিন্ডি চটকানো। হয়তোবা পাঁচ দশ পার্সেন্ট থাকে বিষয় ভিত্তিক কথা বার্তা। তাদের এই রাজনীতির সুবিধাভোগে মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতাধর উঠতি দাদারা নিজেদের মত করে সরকারী অনুদানের নয়ছয় করে যাচ্ছেন। রিলিফ চুরি করে ধরা পড়ার দৃশ্যও আমরা দেখছি মিডিয়ার কল্যানে। রিলিফ বা অনুদান বন্টনের লিষ্ট বানাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনের ভোট না নেয়া ওইসব মেয়র, চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। দেশের একতরফা রাজনীতির দোলাচালে ওরাই রাজা, ওরাই প্রজা। তাইতো দেখি জবাবদিহিহীন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির আশীর্বাদ পুষ্ট ওইসব জনপ্রতিনিধিরা রিলিফ ও অনুদানের খাতায় তাদের ফ্যামিলি ও চোদ্দ গুষ্টির নাম দেখিয়ে তা দেদারসে লুটেপুটে নিচ্ছে। এটা নিয়ে রাষ্টীয়ভাবে শোরগোল হচ্ছে। খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও এ নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। শুনেছি তদারকি করার জন্য প্রতিটি জেলায় একজন করে সচিবকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঠিক আছে, ভাল কথা। কিন্তু সমন্বয় কোথায়! এখানে রাজনৈতিক বিচক্ষনতাই বা কিভাবে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করছে! সবকিছুতেই যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন পড়ে এবং তাঁকে হস্তক্ষেপ করতে হয় তাহলে রাজনীতির পোষ্টবক্সগুলোর প্রয়োজনীয়তা কোথায়! ডিজিট্যালের বদৌলতে যদি এক টেবিলে বসেই সব কিছুর নিকাশি করা যায় তবে মাঠে গিয়ে দৌড়াদোড়ির কি দরকার। জানিনা সচিব মহোদয়রা মাঠে যান কিনা? এমপি মন্ত্রী মহোদয়রা যে মাঠে নেই তার প্রমান এই মাস্ক পরে ড্রয়িং রূমের প্রেস ব্রিফিং।
শুনেছি রাজনীতি আজকাল চলে রাজকীয় ঢংয়ে। স্থানীয় কমিটি করার নাম করে কেন্দ্রীয় নেতা এবং তাদের চেলারা পিক্নিকীয় আমেজে প্রত্যন্ত এলাকায় বহর ছুটিয়ে যান। সেখানে দু-তিন দিন রাজকীয় হালে থাকা খাওয়া করে তারা তাদের পছন্দ মত কমিটি করে কেন্দ্রে ফিরেন। আর তাদের এই তিন দিনের থাকা খাওয়া বিল বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা স্থানীয়ভাবে যোগাড় করতে গিয়ে রাজনীতি এক অদৃশ্য কলুষতার প্যাঁকে নিমজ্জিত হয়। ফলস্বরূপ স্থানীয় রাজনীতি তখন আর জন সম্পৃক্ততায় থাকতে পারে না। এভাবেই ঠিকাদার কন্ট্রাক্টর ও মাসলম্যান দাদাগিরির উত্থান হচ্ছে আমাদের রাজনীতির প্রথমপাঠে।
সুতরাং হে প্রিয় নেত্রী! আপনি জানেন, আপনার চারপাশে ঘিরে থাকা অতিকথনের মুজিব সৈনিকদের। তাদের ফালনামা আপনি ছাড়া আর কেউ বেশী জানে বলে আমি অন্ততঃ বিশ্বাস করি না। আপনার পার্টি ও রাষ্ট্র চালানোর এই সুদীর্ঘ পদচারনায় একজন পোড় খাওয়া মানুষ হিসাবে বাংলার অপামর জনগন আপনার কাছে অনেক কিছু আশা করে। মনে পড়ে! আপনার দাদীর মৃত্যুতে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদে কেটে আকাশ বিদীর্ণ করা সেই মহা মানবের(?) কথা। মনে আছে সেইসব মুজিব কোট গায়ে দেয়া মহারথীদের কথা। যারা পিতার রক্ত স্নাত উঠান বেয়ে বঙ্গ ভবনে “আমি শপথ করিতেছি”র দেশপ্রেমী সেজে সেই রাতে বঙ্গভবনে নৈশভোজ করেছিল। নিশ্চয় মনে আছে সেই পোষাক ওয়ালা অর্বাচীনের কথা যিনি অবরুদ্ধ পিতার টেলিফোন পেয়ে বলেছিলেন “আমার কিছু করার নেই”। কিংবা মনে পড়ে সেই বীর বাঙালীকে যিনি পঁচাত্তর পরবর্তী ঘটনার প্রতিবাদে অস্ত্রহাতে মাঠে নেমেছিলেন। ফলে দেশদ্রোহী তকমা নিয়ে ১৬টি বছর বিদেশে নির্বাসনে কাটাতে হয়েছিল তাকে। মনে পড়ে অনেক কিছুই। প্রাণ খুলে লিখতে ইচ্ছা করে সবকিছু। আপনি তো মহান। আপনার মহানতার সুযোগে আজকে সেইসব চাচা ভাই বন্ধুরা আপনার খুব কাছের সেজে দোউর্দান্ড প্রতাপ নিয়ে আপনার চারপাশে মৌমাছির চাক বানিয়ে রেখেছে। এই চাক ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার এখনই সময়। আমরা আপনাকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছি। অন্ততঃ বাংলার মানুষের মুখের দিকে চেয়ে এগিয়ে আসুন। সুবিধাভোগী লুটেরার দল যে সিংহ দুয়ার বানিয়ে আপনাকে বাংলার মেহনতি মানুষের কাছ থেকে আলগা করতে চায় সেই সিংহ দুয়ার ভেঙ্গে জনতার কাতারে চলে আসুন। নিজের উঠান পরিস্কারে মন লাগান। তরুন যুবারা আপনার হুংকারের অপেক্ষায় একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের কাজে লাগান। যেমন লাগিয়ে ছিলেন ২০০৯এ। সেই পুরনো আমলা যিনি রক্তস্নাত পঁচাত্তরে বঙ্গভবনে শপথ পাঠ করিয়ে ধন্য হয়েছিলেন আজ সেই তিনিই ময়ুরের পুচ্ছ লাগিয়ে আপনার রাজনীতির প্রধান পরামর্শক হয়েছেন। এরকম হাজারো নমুনায় আজ বাংলার রাজনীতি উইপোকার ঢিপিতে পরিণত হয়েছে। হয়তো বলবেন, “ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়”। হোক না! বঙ্গবন্ধু তো একটাই আমাদের। তেমনি শেখ হাসিনা, সেটাও তো একজনই। উত্তরাধিকারীর জৌলুষ দেখান। ধুলো ময়লা ঝাড়ার এই মোক্ষম সময়টাকে কাজে লাগান নেত্রী। দেখবেন বাঙালী আরো বেশী করে আপন করে নেবে আপনাকে।
এই করোনা দুর্বিপাকে জন মানুষের নেত্রী হিসাবে আপনার আকুলতা আমরা ঠিকই টের পাই। ভাবছেন, ওরা তো আমারই লোক। কিন্তু ওই ওদের মধ্যেই তো “ওরা” লুকিয়ে আছে। যেমন লুকিয়ে ছিল আমাদের সেই বুকভাঙ্গা আগষ্টের সময়গুলিতে। এই সিংহ দুয়ার তারাই তৈরী করেছে। সুতরাং সিংহ দুয়ার ভাঙ্গার দায়িত্ব আপনার। আপনার চারপাশে থাকা পরজীবিদের অন্ন যোগানে বাঙালী আজ হাঁপিয়ে উঠেছে। সুতরাং দিন বদলের এখনই সময়। আপন ঐতিহ্যে নিজস্ব স্বকীয়তায় একবার হুংকার দিয়ে দেখুন না! সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে আমরা গোটা বাঙালী জাতি একপায়ে দাঁড়িয়ে আছি। জন্মদিনের শুভেচ্ছায় এটুকুই প্রত্যাশা।
মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর।
জালাল উদ্দিন আহমেদ
দিন বদলের প্রত্যাশা
আমরা শোকাহত। একে একে আমাদের আলোকিত মানুষগুলো আমাদের সামনে থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। অজানা আশংকায় আমরা আমজনতাও আজ এই অদৃশ্য করোনার ভয়ে জুবুথুবু হয়ে পড়েছি। জানিনা কোথাকার জল কোথায় গিয়ে পড়ে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকের প্রয়ান দিয়ে শুরু হয়েছে এই মৃত্যুর মিছিল। একে একে হারাচ্ছি রাজনীতির পোড় খাওয়া ডাকসাইটে নেতাদের। আমাদের অভিভাবকহীন করে চলে যাচ্ছেন বুদ্ধিজীবি, শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতির ডাকসাইটে নেতা ও আমলারা। আশংকাজনক ভাবে আমাদের বিমর্ষ করে করোনার কাছে হার মেনে বিদায় নিচ্ছেন সেই সব সম্মুখ যোদ্ধারা যারা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যচ্ছেন। বলছি স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত ডাক্তার নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের কথা আর আইন শৃংখলার সাথে জড়িত সেইসব বাহিনীর সম্মুখ যোদ্ধাদের কথা। এর সঙ্গে আছেন আরো একদল সাহসী সাংবাদ কর্মী যারা সম্মুখ যোদ্ধার ভুমিকায় প্রতনিয়ত আমাদের এই মরনঘাতি মহামারীর দিক দিগন্ত জানিয়ে দিচ্ছেন। তাছাড়া আইন শৃংখলার মানুষজন যেভাবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জনপদের স্বাস্থ্যবিধির শৃংখলা রক্ষার্থে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তা অস্বীকার করার কোন অবকাশ আছে কি? আমরা সৌভাগ্যবান এই কারনে যে, আমাদের সরকার প্রধান তার সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা দিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহামারীর এইসব দিনগুলিতে যেভাবে তার শ্রম ও মেধা ব্যয় করছেন তা কি কোন প্রশংসায় মাপা যায়! কিন্তু তাঁর চারপাশে ঘুর ঘুর করা পদ ও পদবীর পোষ্টবক্সগুলো ঠিকমত পোষ্টেড কিনা তা নিয়ে জনমনে কানাঘুষা আছে। তাছাড়া কথায় কথায় শিরোমনিকে ব্র্যাকেটে রেখে যেভাবে পদাধিকারী ও পোষ্টবক্সগুলো তাদের নিজেদের উৎকর্ষতা বাড়িয়ে চলেছেন তা কিন্তু সাদা চোখেই দেখা যায়। এমনকি প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী মানুষ তাদের পুর্ব পুরুষদের সম্পর্কের সুবিধাভোগে যেভাবে সরকারী উন্নয়নমুখী কর্মধারায় নয়ছয় করে শিরোমনির মন ও কর্মস্পৃহায় রক্তক্ষরন ঘটাচ্ছেন, বিশ্বাসের অটলে থাকা অপামর জনগন তা ঠিকই টের পাচ্ছেন।
সত্যি কথা বলতে কি, মহামারীর এই দুর্যোগপুর্ণ সময়ে আমরা একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলাম বলে মনে হচ্ছে। পঞ্চাশ বছরের ফালনামা খুললে দেখা যায় বাঙালী বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অখন্ড শক্তি কিংবা পঁচাত্তর পরবর্তী সৃষ্ট খন্ডিত চেতনার এই দুটি তাঁবুর ফ্যামিলি ডাইনেস্টিতে আবদ্ধ। মাঝখানে লেজেহোমোএর কয়েকটি বছর ও ছিটে ফোঁটা দু-একজনের ক্ষণকালের বিচরণ ছাড়া এদেশে এই দুটি পরিবারের বলয়েই আমাদের রাজনীতি মোহাচ্ছন্ন থেকেছে। সেক্ষেত্রে ফ্যামিলি ডাইনেস্টির দৌদান্ড প্রতাপে ক্ষমতা আহরণকারী বর্তমান উত্তরাধিকারী পক্ষের মাননীয় শিরোমনি দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ পারাকাষ্টায় তাঁর আশেপাশে ও পিছনে ঘুর ঘুর করা ওইসব ক্ষমতালিপ্সু পদলেহনকারী পোষ্টবক্সগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে ফেলে দিতে পারতেন। এবং করোনা প্যান্ডেমিকের এই মহা দুর্যোগে এটাই ছিল সর্বোৎকৃষ্ট সময়। আমরা এটাও জানি এদেশে রাজনৈতিক অস্তিত্ব বলতে এই দুটি ধারা বা বলয় আমাদের আস্থার প্রতীক হয়ে এখনো টিম টিম করে জ্বলছে। এর বাইরে ওসব হাফ কোট বা ফুল কোট ওয়ালাদের কোন রাজনৈতিক অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। এদেশের পঞ্চাশ বছরের রাজনীতির সহজ পাঠে সে কথাই আমাদের জানান দেয়।
আজকে দেশের এই দুর্যোগপুর্ণ দিনগুলিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই হোল মূলকথা। মানুষকে ভালোবেসে দুর্যোগপুর্ণ এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন সবচেয়ে বড় কাজ। অথচ আমাদের এই রাজনীতির সুবিধা ভোগীরা সাজানো গুছানো ড্রয়িং রূমে বসে মুখে মাস্ক লাগিয়ে প্রেস ব্রিফিং দিয়ে তাদের করোনা যুদ্ধের কাজটি সেরে নিচ্ছেন। মনে হচ্ছে যেন সংবাদ পাঠ করছেন। তাদের সেই সংবাদ পাঠের অর্ধেকটা স্তুতি বা বন্দনা এবং বাকী অর্ধেকটা ক্ষয়ে যাওয়া বা নির্জীব হয়ে যাওয়া প্রতিপক্ষ দলটির পিন্ডি চটকানো। হয়তোবা পাঁচ দশ পার্সেন্ট থাকে বিষয় ভিত্তিক কথা বার্তা। তাদের এই রাজনীতির সুবিধাভোগে মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতাধর উঠতি দাদারা নিজেদের মত করে সরকারী অনুদানের নয়ছয় করে যাচ্ছেন। রিলিফ চুরি করে ধরা পড়ার দৃশ্যও আমরা দেখছি মিডিয়ার কল্যানে। রিলিফ বা অনুদান বন্টনের লিষ্ট বানাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনের ভোট না নেয়া ওইসব মেয়র, চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। দেশের একতরফা রাজনীতির দোলাচালে ওরাই রাজা, ওরাই প্রজা। তাইতো দেখি জবাবদিহিহীন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির আশীর্বাদ পুষ্ট ওইসব জনপ্রতিনিধিরা রিলিফ ও অনুদানের খাতায় তাদের ফ্যামিলি ও চোদ্দ গুষ্টির নাম দেখিয়ে তা দেদারসে লুটেপুটে নিচ্ছে। এটা নিয়ে রাষ্টীয়ভাবে শোরগোল হচ্ছে। খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও এ নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। শুনেছি তদারকি করার জন্য প্রতিটি জেলায় একজন করে সচিবকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঠিক আছে, ভাল কথা। কিন্তু সমন্বয় কোথায়! এখানে রাজনৈতিক বিচক্ষনতাই বা কিভাবে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করছে! সবকিছুতেই যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন পড়ে এবং তাঁকে হস্তক্ষেপ করতে হয় তাহলে রাজনীতির পোষ্টবক্সগুলোর প্রয়োজনীয়তা কোথায়! ডিজিট্যালের বদৌলতে যদি এক টেবিলে বসেই সব কিছুর নিকাশি করা যায় তবে মাঠে গিয়ে দৌড়াদোড়ির কি দরকার। জানিনা সচিব মহোদয়রা মাঠে যান কিনা? এমপি মন্ত্রী মহোদয়রা যে মাঠে নেই তার প্রমান এই মাস্ক পরে ড্রয়িং রূমের প্রেস ব্রিফিং।
শুনেছি রাজনীতি আজকাল চলে রাজকীয় ঢংয়ে। স্থানীয় কমিটি করার নাম করে কেন্দ্রীয় নেতা এবং তাদের চেলারা পিক্নিকীয় আমেজে প্রত্যন্ত এলাকায় বহর ছুটিয়ে যান। সেখানে দু-তিন দিন রাজকীয় হালে থাকা খাওয়া করে তারা তাদের পছন্দ মত কমিটি করে কেন্দ্রে ফিরেন। আর তাদের এই তিন দিনের থাকা খাওয়া বিল বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা স্থানীয়ভাবে যোগাড় করতে গিয়ে রাজনীতি এক অদৃশ্য কলুষতার প্যাঁকে নিমজ্জিত হয়। ফলস্বরূপ স্থানীয় রাজনীতি তখন আর জন সম্পৃক্ততায় থাকতে পারে না। এভাবেই ঠিকাদার কন্ট্রাক্টর ও মাসলম্যান দাদাগিরির উত্থান হচ্ছে আমাদের রাজনীতির প্রথমপাঠে।
সুতরাং হে প্রিয় নেত্রী! আপনি জানেন, আপনার চারপাশে ঘিরে থাকা অতিকথনের মুজিব সৈনিকদের। তাদের ফালনামা আপনি ছাড়া আর কেউ বেশী জানে বলে আমি অন্ততঃ বিশ্বাস করি না। আপনার পার্টি ও রাষ্ট্র চালানোর এই সুদীর্ঘ পদচারনায় একজন পোড় খাওয়া মানুষ হিসাবে বাংলার অপামর জনগন আপনার কাছে অনেক কিছু আশা করে। মনে পড়ে! আপনার দাদীর মৃত্যুতে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদে কেটে আকাশ বিদীর্ণ করা সেই মহা মানবের(?) কথা। মনে আছে সেইসব মুজিব কোট গায়ে দেয়া মহারথীদের কথা। যারা পিতার রক্ত স্নাত উঠান বেয়ে বঙ্গ ভবনে “আমি শপথ করিতেছি”র দেশপ্রেমী সেজে সেই রাতে বঙ্গভবনে নৈশভোজ করেছিল। নিশ্চয় মনে আছে সেই পোষাক ওয়ালা অর্বাচীনের কথা যিনি অবরুদ্ধ পিতার টেলিফোন পেয়ে বলেছিলেন “আমার কিছু করার নেই”। কিংবা মনে পড়ে সেই বীর বাঙালীকে যিনি পঁচাত্তর পরবর্তী ঘটনার প্রতিবাদে অস্ত্রহাতে মাঠে নেমেছিলেন। ফলে দেশদ্রোহী তকমা নিয়ে ১৬টি বছর বিদেশে নির্বাসনে কাটাতে হয়েছিল তাকে। মনে পড়ে অনেক কিছুই। প্রাণ খুলে লিখতে ইচ্ছা করে সবকিছু। আপনি তো মহান। আপনার মহানতার সুযোগে আজকে সেইসব চাচা ভাই বন্ধুরা আপনার খুব কাছের সেজে দোউর্দান্ড প্রতাপ নিয়ে আপনার চারপাশে মৌমাছির চাক বানিয়ে রেখেছে। এই চাক ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার এখনই সময়। আমরা আপনাকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছি। অন্ততঃ বাংলার মানুষের মুখের দিকে চেয়ে এগিয়ে আসুন। সুবিধাভোগী লুটেরার দল যে সিংহ দুয়ার বানিয়ে আপনাকে বাংলার মেহনতি মানুষের কাছ থেকে আলগা করতে চায় সেই সিংহ দুয়ার ভেঙ্গে জনতার কাতারে চলে আসুন। নিজের উঠান পরিস্কারে মন লাগান। তরুন যুবারা আপনার হুংকারের অপেক্ষায় একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের কাজে লাগান। যেমন লাগিয়ে ছিলেন ২০০৯এ। সেই পুরনো আমলা যিনি রক্তস্নাত পঁচাত্তরে বঙ্গভবনে শপথ পাঠ করিয়ে ধন্য হয়েছিলেন আজ সেই তিনিই ময়ুরের পুচ্ছ লাগিয়ে আপনার রাজনীতির প্রধান পরামর্শক হয়েছেন। এরকম হাজারো নমুনায় আজ বাংলার রাজনীতি উইপোকার ঢিপিতে পরিণত হয়েছে। হয়তো বলবেন, “ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়”। হোক না! বঙ্গবন্ধু তো একটাই আমাদের। তেমনি শেখ হাসিনা, সেটাও তো একজনই। উত্তরাধিকারীর জৌলুষ দেখান। ধুলো ময়লা ঝাড়ার এই মোক্ষম সময়টাকে কাজে লাগান নেত্রী। দেখবেন বাঙালী আরো বেশী করে আপন করে নেবে আপনাকে।
এই করোনা দুর্বিপাকে জন মানুষের নেত্রী হিসাবে আপনার আকুলতা আমরা ঠিকই টের পাই। ভাবছেন, ওরা তো আমারই লোক। কিন্তু ওই ওদের মধ্যেই তো “ওরা” লুকিয়ে আছে। যেমন লুকিয়ে ছিল আমাদের সেই বুকভাঙ্গা আগষ্টের সময়গুলিতে। এই সিংহ দুয়ার তারাই তৈরী করেছে। সুতরাং সিংহ দুয়ার ভাঙ্গার দায়িত্ব আপনার। আপনার চারপাশে থাকা পরজীবিদের অন্ন যোগানে বাঙালী আজ হাঁপিয়ে উঠেছে। সুতরাং দিন বদলের এখনই সময়। আপন ঐতিহ্যে নিজস্ব স্বকীয়তায় একবার হুংকার দিয়ে দেখুন না! সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে আমরা গোটা বাঙালী জাতি একপায়ে দাঁড়িয়ে আছি। জন্মদিনের শুভেচ্ছায় এটুকুই প্রত্যাশা।
মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর।

অবশেষে শুক্রবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন ইউনূস-মোদি

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনারের পরিচয়পত্র পেশ

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে প্রাণহানি ছাড়াল ২৭০০

সবার আগে ঈদের তারিখ ঘোষণা করলো অস্ট্রেলিয়া

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা বাংলাদেশে, উচ্চ ঝুঁকিতে ৪ অঞ্চল

ডিসির বাংলোর গর্তে মিললো সংসদ নির্বাচনের সিলমারা বিপুল ব্যালট

ফ্ল্যাট, প্লট, ঘের, খামার—সবই আছে অপূর্বর

২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেল বাংলাদেশ

ব্যাংককে ভূমিকম্পে ধসে পড়ল ভবন, আটকা ৪৩

লুটপাটের রাজনীতিবিদদের কাছে ২৪ দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয়: নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের কাঁটা

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

গোপন গ্রুপ চ্যাটে সাংবাদিক, যুদ্ধ পরিকল্পনা ফাঁসে চাপে ট্রাম্প

শিম্পাঞ্জির চিত্রকর্ম দেখে অবাক শিল্পপ্রেমীরা

রমজানের ২৪ দিনেই প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড, এলো ২৭০ কোটি

দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!

গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!

কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক

সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু

সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন

অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ

অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা

কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার

হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার

খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি

কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু

মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু

হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক
