মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মী নিয়োগে নতুন নীতিমালা
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৫ জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,২০২৬ | আপডেট: ১২:০৪ এএম, ১৬ জানুয়ারী,শুক্রবার,২০২৬
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মী (এক্সপ্যাট্রিয়েট) নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, নিয়োগকর্তা ও শিল্পখাতকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবাসী কর্মী নিয়োগের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই নীতির আওতায় এমপ্লয়মেন্ট পাস ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩-এর বেতন কাঠামোর পুনর্গঠন এবং মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের নিয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে দেশটির জাতীয় সংবাদ মাধ্যম বারনামা।
বারনামা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিচালিত বিদ্যমান প্রবাসী কর্মী নিয়োগ নীতিকে ২০২২ সাল থেকে শিল্পখাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা ১৩তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (আরএমকে-১৩)-এর লক্ষ্যসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রবাসী নিয়োগের আগে যোগ্য স্থানীয় জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেতন পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি নতুন নীতিমালায় প্রথমবারের মতো প্রবাসী কর্মীদের নিয়োগের নির্দিষ্ট মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা আগে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত ছিল না। এই মেয়াদ নির্ধারণের লক্ষ্য একদিকে যেমন উচ্চদক্ষ প্রবাসী কর্মীদের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ নিশ্চিত করা, অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের জন্য স্থানীয় কর্মীদের সম্পৃক্ত করে একটি সুসংগঠিত উত্তরাধিকার (সাকসেশন) পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা।
নীতিমালার বাস্তবায়ন বিষয়ে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কেডিএন শিল্পখাত, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসহ সকল অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক ও পরামর্শ সভা আয়োজন করবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে নীতির রূপান্তর প্রক্রিয়া যেন সুশৃঙ্খল হয় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে—তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মালয়েশিয়া মাদানি নীতির আলোকে সরকার প্রতিটি নীতিগত সংস্কার ধাপে ধাপে ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করবে। যাতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
নতুন নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো,এমপ্লয়মেন্ট পাস ক্যাটাগরি ১-এর ন্যূনতম বেতন ১০ হাজার রিঙ্গিত বা তার বেশি থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার রিঙ্গিত বা তার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি ২-এর ক্ষেত্রে বেতন ৫ হাজার,৯,৯৯৯ থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার বা ১৯,৯৯৯ রিঙ্গিত করা হয়েছে। ক্যাটাগরি৩-এর বেতন ৩ হাজার, ৪ হাজার ৯৯৯ থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ও ৯,৯৯৯ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন ও উৎপাদন-সম্পর্কিত সেবা (এমআরএস) খাতে এটি ৭ হাজার ও ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত হবে।
এছাড়া, ক্যাটাগরি ১ ও ২ এমপ্লয়মেন্ট পাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ক্যাটাগরি ২ ও ৩-এর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক। ক্যাটাগরি ৩ এমপ্লয়মেন্ট পাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ বছর। একই সঙ্গে ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩-এর সকল প্রবাসী কর্মীকে তাদের নির্ভরশীলদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় আসার অনুমতি দেওয়া হবে।
সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মী নিয়োগে শৃঙ্খলা আসবে, স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।





