জালাল উদ্দিন আহমেদ
খতিব ও খুতবা
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১২ জানুয়ারী,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ১১:০৪ পিএম, ১২ জানুয়ারী,সোমবার,২০২৬
বিষয়টি একটি সাধারন প্রশ্ন হতে পারতো। কিন্তু ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে একটু হিসেব নিকেশের ব্যাপার আছে বৈকি! এটা আমার দুঃসাহস বলা ঠিক হবে কিনা জানিনা। তাছাড়া আমার এই ভূখন্ডের সিংহভাগ অর্ধ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত জনপদে ধর্মের ছোটখাট বিষয় নিয়ে একটু আধটু ভাবা উচিত। শুধু অর্ধ বা পুর্ণ অশিক্ষিতের কথাই বা বলি কেমন করে। যারা শিক্ষিত তারাও কি এই গড়পড়তায় পড়ে কিনা সেটাও ভাবা উচিত। বয়স ফুরিয়ে আসার সন্ধিক্ষনে এসে কেন যেন এসব যুক্তি তর্কের ভাবনাগুলি আমাকে প্রায়শই ভাবায়। অবশ্য যেসব নিয়ে বলার চেষ্টা করবো তা কখনোই ধর্মের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। বরঞ্চ ধর্মকে নিয়ে উদারনৈতিক চিন্তার ছিটেফোঁটা দু'এক টুকরো মুক্তচিন্তা হতে পারে। এসব নিয়ে ভাবিনা বলেই হয়তো আমরা মুসলমানরা সারা জীবন পরকালের পুঁজি সংগ্রহের চিন্তা নিয়ে বৃদ্ধ বয়সে এসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি তাবলিগ চিল্লা এতেকাফ হজ্ব জাকাতের পিছনে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। অথচ এসব বিষয়াদি মুসলমানদের জন্য রুটিন ওয়ার্কের মত। ইসলামের জীবন বিধান একজন মানুষের জন্মের পর থেকেই শুরু হয়। এবং তা ছকে বাঁধা ফ্রেমের মত। নামাজ রোজা হজ্ব জাকাতকে সামনে টেনে এনে আমরা সমাজে যে ক্যায়োটিক সিচুয়েশনের সৃষ্টি করি তা কিন্তু কোরানের শিক্ষা নয়।
আমার একশ্রেণীর বন্ধু আছে যারা ক্যাটাগোরিক্যালি কেউ আমার বাল্যকালের কেউবা উঠতি যৌবনের সময়কালের অথবা কেউ চাকুরীকালীন সহকর্মী বন্ধু। এমনকি অধস্তন বন্ধুস্থানীয় সহকর্মীও। কালে ভদ্রে দেখা সাক্ষাৎ বা ফোনে কথাবার্তা হলে, কথার শেষ পর্যায়ে একটি নসিহত মূলক বার্তা তার বা তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। ভাই বন্ধু বা দোস্ত সন্বোধন করে বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গে প্রশ্ন করে, “জনাব হজ্ব করেছেন। ওটা খুব প্রয়োজন। জীবনের এই অতি জরুরী বিষটিকে অবহেলা করা ঠিক হবেনা। তাছাড়া মুসলমান হিসাবে এটা তো আমাদের জন্য ফরজ” ইত্যাদি ইত্যাদি ধরনের নসিহত মূলক ফরমাইশি বাক্যবান। বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনি এবং ক্ষনিকের জন্য হলেও কিছুটা অসহায়ত্বের আবেগে বুঁদ হয়ে পড়ি। যাহোক সেতো অন্য কথা। কিন্তু যে শিরোবাম দিয়ে আমার এই লেখার সূত্রপাত তার মূল প্রতিপাদ্য হলো খতিব ও খুতবা। যিনি খুতবা পাঠ করেন তিনিই খতিব। তিনি ইমামও বটে। আবার ইসলামী বয়ানে তিনি নেতা। ইমাম হচ্ছেন সমাজের নেতা। ইসলাম ফোবিয়া ধরে নিয়ে আমার কথাগুলো কিছুটা মৌলবাদী স্টাইলের মনে হচ্ছে নাতো! হয়তোবা তাইই হবে। কি করি বলুন, এটাই তো সত্য কথা। একজন ইমাম বা নামাজের খতিব৷ তিনিই তো মুসলিম সমাজের নেতা বা দিক নির্দেশক হবেন। কোরান হাদিসের আলোকে মুসলিম সমাজে তিনিই তো নেতা এবং সাধারনে আলো দেখানোর দায়িত্ব তো তারই। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে আজ মসজিদের ইমামের অবস্থান কোথায়! আর এই অবস্থানগত স্খলন কেন এত নিম্নমুখী তা কি আমরা ভেবেছি! একবার ভাবুন তো মুসলিম অধ্যুষিত আঠার কোটির এই ছোট্ট ভূখন্ডে আমরা কতটুকু মুসলমান হয়ে বেঁচে আছি। ইমান নামাজ রোজা হজ জাকাতের কোন্ অংশটি আমরা পরিপুর্ণ ইসলামের দেখানো পথে শিখতে চলতে বা পালন করতে পারছি সেটাও তো অযুত সহস্র প্রশ্ন।
তাহলে কি রাষ্ট্র কাঠামো আমাদের এই ইসলাম গরিষ্ঠ জনপদের সাবলীলতায় গিট্টু হয়ে অবস্থান করছে! সেটাও তো মনে করার কারন দেখছিনা। মূলকথা হচ্ছে সমাজ কাঠামো, শিক্ষা এবং গণ সচেতনেতা। তবে রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরাও একটু আধটু হয়তো বলার চেষ্টা করবেন যে রাষ্ট্র কাঠামোও এর জন্য দায়ী। যাহোক এসব একাডেমিক এবং গবেষনার বিষয় হলেও শিক্ষা ব্যবস্থার দিক নির্দেশনার কথাটি সবার আগে উচ্চারনে এসে পড়ে। যে ছেলেটি পাঁচ সাত বছর বয়স হতে আলিফ বা তা পড়া শুরু করে এগার বার বছর বয়সে কোরানে হাফেজ হয়ে তার কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন তিনি কোন দৃষ্টিকোন নিয়ে এ সমাজের একজন সমাজ সচেতন মানবিক মূল্যবোধের মানুষ হলেন বা হবেন তা আমার মাথায় ঢুকতে চায় না। আবার মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে যারা আলিম দাখিল ফাজিল ডিগ্রী নিয়ে সমাজে ছড়িয়ে পড়লেন তাদেরই বা বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোয় অংশ গ্রহনের অবাধ প্রবাহ কোথায়! আর যারা ওইসব মাদ্রাসা ডিগ্রী নিয়ে ইমাম মোয়াজ্জিন মৌলভী মাওলানা হচ্ছেন তাদেরই বা ইতিহাস সংস্কৃতি সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা বিজ্ঞান সচেতনতার দৌড় কতটা updated বা competitive হওয়া উচিত, তা কি রাষ্ট্রচিন্তার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ বা বুদ্ধিজীবিরা ভেবেছেন কখনো! আমরা যারা মুসলমান তাদের জীবনটাই হোল জীবনবোধের শিক্ষা নিয়ে চলমান। আর এই জীবন এবং জীবনবোধ নিয়ে স্রষ্টার সৃষ্টি হয়ে আমাদের ইহকাল ও পরকালের প্রতিটি ইঞ্চি পাই মেপে এগোতে হয়। একজন মুসলমানের জীবনের মূল প্রতিপাদ্য যেখানে হক্কুল ইবাদ এবং হক্কুল্লা নিয়ে ঘুর্ণায়মান সেখানে ইহজাগতিক সমস্ত ঝড়ঝঞ্জা অতিক্রম করে তার জন্য ঐশীবাণীর মহাগ্রন্থ কোরানের শিক্ষায় তিনি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে দুনিয়াকে সুন্দর সাবলীল করে গড়ে তুলবেন - এটাই তো কাঙ্খিত আকাঙ্খা।
ইতিহাস আমরা পড়ি। প্রয়োজনের আকাঙ্খা নিয়েই আমাদের ইতিহাস পড়তে হয়, জানতে হয়। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে আমাকে যুগপোযোগী হয়ে গড়ে উঠতে হয়, সে শিক্ষার পথচলা কোথায়! আমরা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোয় আলোকিত হতে চাই। কিন্তু কই! আমরা আমাদের এই আটাত্তর বছরের মুসলিম আচার আচরন ও আকিদায় এখনো প্রতিযোগিতার মানদন্ডে একটি পুর্ণাঙ্গ মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারলাম না। এতগুলো কথা হয়তো বলতে হোত না,’ কেননা এখনো বাঙালীর প্রান্তিক গেরস্ত ঘরের অভিভাবকরা তাদের উত্তর পুরুষদের জন্য আলিগড়কেই তাদের ইসলামী সর্বোচ্চ ডিগ্রীর মানদন্ড ভাবেন। মিশরের আল আজহারের কথা নাইবা উচ্চারন করলাম।
যেটা বলার জন্য এত এত ভূমিকা নিয়ে এগোতে হোল সেটা কিন্তু খুব যে চাহিদায় অতল তা কিন্তু নয়। আমরা মাছে ভাতে বাঙালী। কিন্তু যে ইসলামী তমুদ্দন মজলিশের চেতনায় আমরা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম তার গোড়ায় পানি ঢালার ব্যবস্থাদি কি সচল রাখতে পেরেছি? আমজনতা হিসাবে প্রতি জু'মার নামাজটাই হোল আমাদের মত মুসলিম প্রধান দেশে একটি ধর্মীয় উৎসবের উপলক্ষ। ৭২ বছর বয়সের জীবন নিয়ে এখনো আমি জু'মার নামাজের পূর্বে খতিব সাহেবের ইসলামী জাগরনের কিচ্ছা কাহিনী এবং নবী রসুল ও সাহাবীদের বীরত্ব মহত্ব ও সততার কথাগুলি ঘুরে ফিরে শুনে আসছি কিন্তু খতিবের খুতবা পাঠের অআ কখ কিছুই জানলাম না বা বুঝলাম না। এটা কি আমার ব্যর্থতা নাকি খুতবা পড়া খতিবের - এই প্রশ্ন রেখেই আমি আমার এই নিবন্ধের যবনিকা টানতে চাই। আল্লাহ আমাদের সকলকে পরিপুর্ণ ইসলামের জীবন বিধানে নিবেদিত করুন। আ'মীন!
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
অবশেষে খুলনা-২ আসনে মঞ্জুর পক্ষে নামছেন দলের সব নেতা
খতিব ও খুতবা
অস্ট্রেলিয়া বিএনপির খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশু নিহত
‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না’: হুমকির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিকরা
ইরানে হামলার ব্যাপারে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন ট্রাম্প
২৯৫ ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার
তাসনিম জারার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প
স্বেচ্ছাসেবক নেতা মুছাব্বির হত্যা: প্রধান শুটারসহ আটক ৩
মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়: তারেক রহমান
মার্কিন চাপে ‘বিপুল সংখ্যক’ রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি শুরু করলো ভেনেজুয়েলা
ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মতি
১০ কোটি না, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও আমাকে কেনা যাবে না: ডিসি সারওয়ার আলম
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



