avertisements 2

সিরিয়াল কিলার

ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার ছদ্মবেশে করেছেন ৬ খুন!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৯ জানুয়ারী,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৯:২৪ এএম, ১১ আগস্ট,মঙ্গলবার,২০২৬

Text

আটক সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাট।

দেখতে ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীন, কিন্তু পেশায় সিরিয়াল কিলার। সাভারে দুই নারীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত কথিত মশিউর রহমান খান সম্রাটকে আটকের পর এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এর আগে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ঘটা তিনটি হত্যাকাণ্ড এবং সাভার মডেল মসজিদের সামনে বৃদ্ধকে হত্যার সাথেও তার সংশ্লিষ্টতা আছে। এজন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে, পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারটির নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি এমন ভবঘুরেদের ওপর পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি শিক্ষার্থী ও বাসিন্দাদের।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে মশিউর রহমান খান সম্রাট নামে নিজেকে পরিচয় দিয়ে সাভার থানা, সরকারি হাসপাতাল, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় ঘুরতেন। থানার পুলিশ থেকে শুরু করে এখানকার বহু মানুষের সাথে তার গড়ে ওঠে সখ্যতা। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সাভার থানা রোডের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নতুন করে আগুনে পোড়া আরও দুই মরদেহ উদ্ধারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভবঘুরে, ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো সেই সম্রাটকে শনাক্ত করে পুলিশ। কমিউনিটি সেন্টারের নিচতলার যে জায়গায় সে ঘুমাতো, সেখানে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বের করে দোতলায় নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে ক্যামেরায়। এরপরই তাকে আটক করা হয়।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আরাফাতুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত রোববার দুপুরে দুটি পোড়ানো মরদেহসহ পাঁচ মাসে এই পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগের তিনটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ ও পৌরসভার সহায়তায় কমিউনিটি সেন্টারটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি সম্প্রতি সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে পুলিশের টহল টিম ওই স্থানটিতে নজরদারি করছিল। সর্বশেষ গত শনিবার রাতেও পুলিশের একটি দল কমিউনিটি সেন্টারটিতে গিয়ে সেখানে যারা অবস্থান করছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানে এই সম্রাটসহ আরেকজন নারীকে দেখতে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, গতকাল কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে পোড়া অবস্থায় অজ্ঞাতনামা দুই জনের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে মশিউর রহমান সম্রাটের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখে অভিযান চালিয়ে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। হেফাজতে নেওয়ার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট গতকালের হত্যাকাণ্ডসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করে।

এদিকে এই ছয় হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সাভার মডেল মসজিদ এলাকায় হত্যার শিকার বৃদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। বাকিদের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। একই সঙ্গে সম্রাটের নাম এবং তার দেওয়া বাসার ঠিকানা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবেও নিজেকে দেখানোর চেষ্টা হলেও তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আরাফাতুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আসামির দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক কলোনি এলাকায় গেলেও পুলিশ তার ঠিকানা শনাক্ত করতে পারেনি। যেহেতু সে ভবঘুরের মতো চলাফেরা করে, সেহেতু তাকে আমরা ভবঘুরে হিসাবেই জানি। পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীনার মতো কিছু, কোনো সাইন জিজ্ঞাসাবাদে আমরা পাইনি। আমাদের কাছে অনেকটা সুস্থ মানুষের মতোই আচরণ করেছে। আমরা ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছি। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে আমরা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারব, এর আগেও সে কোনো ঘটনা ঘটিয়েছে কি না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গতকাল উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে একজন ১৩ বছর বয়সি কিশোরী বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যজনের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর বলে ধারণা করলেও তার লিঙ্গ-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সবসময় পাগলের বেশ ধারণ করে থাকা সম্রাটের কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখত স্থানীরাও। মোবাইল চালানো থেকে শুরু করে সব কাজই করতে পারতো। কখনো পুলিশের পোশাকে, কখনো হাফপ্যান্ট পরে বা উলঙ্গ হয়ে ঘোরাফেরাও করতো। উত্ত্যক্ত করতো নারী শিক্ষার্থীদেরও।

এদিকে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারটির নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি এমন ভবঘুরেদের ওপর পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি শিক্ষার্থী ও বাসিন্দাদের। অন্যথায় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2