জালাল উদ্দিন আহমেদ
যে কথা হয়নি বলা: শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৭ জুন,রবিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:৩৫ এএম, ১০ জুন, বুধবার,২০২৬
লিখতে বসেছিলাম বাঙালীর বাঙালীয়ানা হয়ে বেড়ে উঠার ঝড় ঝঞ্জাময় দিনলিপির কথা। প্রিয় পাঠক, ছয়টি এপিসোডে বয়ানকৃত সেসব বর্ণনায় শুধু বঞ্চনা ষড়যন্ত্র আর নিগ্রহের কথাবার্তা প্রতিটি ছত্রে ছটপট করে ডুকরে কেঁদেছে। ১২মে হতে ৩১মে পর্যন্ত ৬পর্বে প্রকাশিত “যে কথা হয়নি বলা” শিরোনামে যে পর্ব সমূহ লেখা হয়েছে তারই শেষ পর্বে ‘শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ’ বলে যে উপসংহার টানতে চেয়েছিলাম তারই ব্যাখ্যা দেয়ার তাগিদ অনুভূত হওয়ায় এই পাদটীকার আশ্রয় নিলাম। আশা করি বাঙালী হৃদয়ের একান্ত চাওয়ার কথাগুলো পড়তে মন চাইবে। তবুও শংকা একটু থেকে যায়। কারন বাঙালীর দিনমান বহুমুখী স্রোতে ভাসতে ও ভাসাতে গিয়ে আজ এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, কেউ হয়তো চট করে বলে ফেলবেন 'অমুকে ভাল ছিলাম, তমুকে ভাল ছিলাম' ধরনের আহাম্মকি কথাবার্তা। ওজন নিয়ে আধার সৃষ্টি হওয়ার সে দিনগুলি কি এখন আছে! সার্ধশত বছরের অহংকারের ভারতীয় অস্মিতা তৈরীর আধার অর্থাৎ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আজ ছটপট করছে নিজেদের অস্তিত্ব পুনরুদ্ধারে। এদিকে বিষাক্ত ষড়রিপুর ফাঁদে গলা পর্যন্ত ডুবে থাকা বাঙালীর পৌনে এক'শ বছরের প্লাটফরমটি অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ বাঙালীর কাছে ঘৃণিত ও পরিত্যাক্ত এক বিষফোঁড়।
তারপরেও এই দুটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দেশের আড়মোড়া ভেঙ্গে শক্ত কোমরে দাঁড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাঙালী তথা ভারতীয় জনজীবনে প্রাণের সঞ্চার করেছিল তার ধারে কাছে কি কেউ আছে! সেক্ষেত্রে এই দুটি সবেধন নীলমনি ৬০-৭০ বছরের ব্যবধানে তাদের রাজনৈতিক স্বচ্ছ্বতা ও সততা নিয়ে সাধারন জনগনের আস্থার যে জায়গায় তৈরী করেছিল তার তুলনা তো তারাই। তুলনামূলক আলোচনায় এই দু’টি রাজনৈতিক আধারের পরিধি এবং কর্মধারার ব্যপকতা ভিন্নধর্মী হলেও তদের লক্ষ্য কিন্তু এক। কিন্তু বংশ পরম্পরা ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্রে গড়ে উঠা রাজনীতির কালচার যে আখেরে জন আকাঙ্খার হিতে না গিয়ে তা বিপরীতে কাজ করে তার জলজ্যান্ত প্রমান এই বংশ পরম্পরায় টিকে থাকার দুই রাজনীতির আধার থেকেই পাওয়া যায়। ইন্দিরাজীর ভারত শাসনের সেই স্টেট অব ইমার্জেন্সি অধায় কিংবা বাংলাদেশ প্রেক্ষিতের বঙ্গবন্ধুর একদেশ একজাতি একদল সমন্বয়ের বাকশাল এবং তার চৌত্রিশ বছর পর তারই কন্যা হাসিনা শেখ কর্তৃক দেশে স্বৈরাচারী মাফিয়া রাজ কায়েম করার বিষয়গুলি রাজনীতির কর্তৃত্ববাদী বংশ পরম্পরার গণতন্ত্রায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রাজনীতির বংশ পরম্পরায় সাম্প্রতিক সৃষ্ট বিএনপি নামক দলটি কিছুটা পজেটিভ নোট নিয়ে বাংলার জন সমর্থনে এগোতে চাচ্ছে বটে কিন্তু ডানপন্থা ঘরানার ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ নিয়ে পারতপক্ষে স্বার্থান্বেষী বুর্জোয়া ক্যাপিট্যালিজমেই তাদের চেহারা ফুটে উঠছে। সেক্ষেত্রে রাজনীতির এই নব সঞ্চারের প্লাটফরমটি কবে না পুর্বসুরীদের পথ অনুসরনে বাঙালীর উঠানে অভিশপ্ত বিষ্ফোঁড় হয়ে অবির্ভূত হয় সেই আশংকা নিয়েই এখন আমাদের দিনমান। কারন জন্মের পর হতে এযাবতকাল পর্যন্ত এই দলটির নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও কারিশমা থাকলেও অধস্তন মাঠঘাটের নেতৃত্ব ও কর্মী বাহুল্যে এই প্রতিষ্ঠানটি যে বরাবরই বহুমত ও পথের বিচ্ছিন্ন আনাগোনায় এলোমেলো হয়ে পড়ে তা বলাই বাহুল্য।
দিন যায় দিন আসে, কিন্তু যেটা আসার আকাঙ্খা নিয়ে আঠাশ কোটি বাঙালী প্রতি নিয়ত স্বপ্ন বুনতে থাকে তা কিন্তু ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। আজকের দিনে বাংলাদেশের বাঙালীরা পুনরায় তাদের কাঙ্খিত গণতন্ত্রের পথে চলতে শুরু করলেও তার হাঁটার পথে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুবিধাদি নিয়ে কি তারা চলতে পারছে! গণতান্ত্রিক চর্চা ও তার সুবিধভোগের সমতল পাটাতন কি সাধারন জণগন পেয়েছে! বৃহৎ প্রতিবেশীর বৈরী আচরনে এখনো নিজেদের চলার সাবলীলতায় তারা পৌঁছাতে পারছে না। “মুখে মধু অন্তরে বিষ” চরিত্রের আযান দেয়া মিত্র প্রতিবেশীর দ্বিচারনে বাংলাদেশের স্বাধনীতার স্বচ্ছতা আজ ঘোলাটে রূপ ধারন করতে বসেছে। এসব করার ব্যাপারে বাঙালীরাই বোধ হয় হাতে নরুন নিয়ে বসে আছে। বাঙালী চরিত্র থেকেই ফুটে বেরিয়ে আসছে এসব আত্মবিদ্ধংসী এলোমেলো বিচার বিশ্লেষন। আমারই এই নিবন্ধের কোন এক পর্বে হয়তো বলেছিলাম, “বাংলাদেশের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবসকে কবে না ওরা বাংলাদেশ বিজয়ের নামে উদযাপন করা শুরু করে সেটাই এখন দেখার বিষয়”। কারন একজন বাংলাদেশী সাজ্জাদ কাদিরের ‘EkusebartaTv' নামক একটি সামাজিক চ্যানেলে প্রায়শই লক্ষ্য করি বাংলাদেশের জাতীয় অস্মিতা ও অস্তিত্ব নিয়ে উল্টোপাল্টা মতামত প্রচার করা হয়। গতকাল ছিল জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের সভাপতি নির্বাচনের দিন (০২-০৫-২০২৬)। কথিত সেই চ্যানেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের বিজয় দিবস ও তার অস্তিত্ব নিয়ে যেভাবে ব্যঙ্গাত্বক ভঙ্গিমায় তরুন ঘোষ নামক একজন তথাকথিত বাঙালী ভারতীয়কে দিয়ে একটি এপিসোড প্রচার করা হোল তা সত্যিই অপরাধমূলক এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবোধের জন্য হুমকিও বটে। সম্ভবতঃ উপস্থাপক পলাতক গ্রুপেই পড়েন বলে মনে হয়। যাহোক বাঙালীর শত্রু বাঙালী, এটা বহুবার বলা হয়েছে।
শেষ কথা, ‘ঘরপোড়া গরুর আবার রক্ত সন্ধ্যার ভয়’ কথাটি বোধ হয় বাংলা ও বাঙালীর হেঁসেল থেকেই বেরিয়ে আসা একটি প্রবাদ। সেক্ষেত্রে পুর্ব বাংলার আনপাড়(অশিক্ষিত) ম্লেচ্ছ বাঙালী যদি তার জন্মলগ্ন থেকেই নিজের অস্তিত্ব ও অস্মিতা নিয়ে আপন উঠান তৈরীর স্বপ্ন দেখতে পারে, তবে ত্রিশত বর্ষী কলকাতা সভ্যতার পন্ডিতস্মন্য ব্রাহ্মন্য শ্রেণী চরিত্রের ধুতি পৈতাওয়ালাদের কাছে আপন অস্তিত্বের ম্লেচ্ছ বাঙালীর চেয়ে মধ্য ও উত্তর ভারতীয় আর্য অনার্যের কোলাহল এবং মধ্য ভারতের দ্রাবিড়ীয় মারকাট দাঙ্গাবাজ সর্বভারতীয় অবস্থানটিই শ্রেয় বলে মনে হয় কেন! সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি অস্বচ্ছ নির্বাচনে জিতে আসা বাঙালী(!) বাবু অতি ভারতীয় হওয়ার দৌড়ে যেভাবে বাংলাদেশী বাঙালী চিহ্নিত করার নামে রাস্তাঘাটে দৌড়াদোড়ি করছেন এবং একজন বাঙালী হয়ে অন্য বাঙালীদের নিয়ে অসভ্য ও অসত্য উচ্চারনে পথঘাটে শোর তুলে নিজেকে অতি ভারতীয়ের মড়োয়ারীদের কাতারে বসাতে চাচ্ছেন তাতে করে সেই কাকের ময়ূরপুচ্ছ লাগিয়ে নিজেকে ময়ূর সাজানোর গল্পটার কথা মনে করিয়ে দেয় না কি! আর হবেইবা না কেন। সাগরদাড়ির রাজনারায়ন দত্তের সেই মেধাবী ছেলেটির কথা মনে আছে কি! ইংরাজী প্রীতির মোহজালে তিনি ইংরেজ কবি হতে চেয়ে মধুসুদন দত্তের আগে মাইকেল বসিয়েও শেষমেশ ‘’হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন” লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন। এখন তো আর বৃটিশরা নেই। তাই কলকাতার হালফিলের বাঙালী বাবুদের কর্তাবাবু গুজরাঠের চাওয়ালা আর দিল্লির গেরুয়া যোগীর সঙ্গে “এ রুটি তো পুড়া হ্যায় কেমন করে খাব হ্যায়” করতে করতে কবে না দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে ফেলেন,
‘'আমি বাংলায় গান গায়,
আমি বাংলার গান গাই,
আমি আমার আমিকে চিরদিন
এই বাংলায় খুঁজে পাই।”
প্রতুল বাবু বেঁচে থাকলে এতদিনে হয়তো নন্দিগ্রামের অধিকারী বাড়ির সামনে শুভেন্দু বাবুর বরিশ্যাল্লা মাতার সামনে এই গানের কোরাস গেয়ে ধর্ণা বসাতেন।
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
দেশে ১০ শতাংশ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করলেন আদালত
সেই উপদেষ্টারা কে কোথায়
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যায় সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ
যে কথা হয়নি বলা: শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
আজ থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে, কোন পথে কত
সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৫০ জন উদ্ধার, আটক ৯
বিজিবির তৎপরতায়, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ১৭ জন ফিরলো ভারতে
ব্রিটিশ তরুণ নওয়াক হত্যাকাণ্ড, উত্তপ্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নীল অর্থনীতি
মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে নতুন সোস্যাল মিডিয়া বার্তা দিলেন দীপেন দেওয়ান
ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
আইসিইউতে পিতা, হোটেলে ওঠেন ছেলে, সেখানেই এক পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



