avertisements 2

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১০ আগস্ট,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:১৬ পিএম, ১০ আগস্ট,সোমবার,২০২৬

Text

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ১১ দলের বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বৈঠকের পর জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেছিলেন, ‘ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেটা কোনো বিষয় নয়। আমরা এমন একজন খুব ভালো প্রার্থী দেব, যাকে জাতি মেনে নেবে।’

বর্তমান সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল অনেকটাই আগে থেকে অনুমান করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও কেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে—এই প্রশ্নের জবাবে সাইফুল আলম খান মিলন বলেছিলেন, সরকারি দলের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন না।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমরা সরকারি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী চলব না। তারা তাদের কাজ করবে, আমরা আমাদের কাজ করছি।’


নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নতুন একটি প্রক্রিয়ার প্রস্তাব ছিল, যার মাধ্যমে সর্বজনগ্রহণযোগ্য একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। জোটের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংস্কারকৃত সংবিধানের আলোকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

কিন্তু সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও অধিবেশন এখনো হয়নি উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং একজন অভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, অলি আহমদ বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের চলমান সংকটে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার অভিভাবকত্ব প্রয়োজন বলে মনে করে জোট।

নাহিদ বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় সর্বসম্মতিক্রমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে সুযোগ ছিল, তা তৈরি হয়নি। তবে ১১ দলীয় জোট প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বার্তা দিতে প্রার্থী দিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের বিবেচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

পরে অলি আহমদ বলেন, তাকে প্রার্থী করায় তিনি ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।

‘সবাই মনে করেছে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নাই,’ বলেন তিনি।

অলি আহমদ বলেন, ‘মানুষের জন্য যেটা ভালো, আমরা হারব বা জিতব—এটা প্রশ্ন না। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব।’

ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া ১১ দলীয় জোটের দায়িত্বের অংশ।

‘আমরা মনে করি, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং তার সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে,’ বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

‘আমরা দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিটাকেই এই দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি,’ বলেন তিনি।

avertisements 2