জালাল উদ্দিন আহমেদ
যে কথা হয়নি বলা-৫
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৭ মে, বুধবার,২০২৬ | আপডেট: ০৫:০৪ এএম, ১০ জুন, বুধবার,২০২৬
এখন যে আলোচনাগুলো হবে তা পড়তে বা শুনতে একটু নিম তিতা নিশিন্দা তিতার পর্যায়ে পড়লেও বাস্তবতায় টইটম্বুর এসব কথা বা বিষয়গুলি স্বাধীন বাংলার আশিভাগ মানুষজন জানে এবং মানে। তবে রাজনীতির বেহায়াপনার কুটচাল কিংবা উলঙ্গপনার ঘোরটোপে সাধারন বাঙালী কিছুটা জিম্মি থাকে বলেই হয়তো এর outburst এ তেমন জোয়ার তুলতে পারেনা। তাছাড়া ব্যক্তিপুজার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দেশের রাষ্ট্রীয় মেকানিজম এমনভাবে একপক্ষীয় তারাজুতে সাজানো গোছানো থাকে যে, ভিন্নমতের আওয়াজ বা শোর তুলার বিষয়টি তখন শুভেন্দু বাবুর মাইকে আযান না দিয়ে নামাজ পড়ার পর্যায়ে প’ড়ে ছটপট করে। বিষয়টি সীমান্ত সংলগ্ন তথাকথিত জিগরি দোস্ত নামক বৃহৎ রাষ্ট্রটির সৎ প্রতিবেশীর মুখোশে দাদাগিরির ছড়ি ঘুরানো প্রসঙ্গে। রাষ্ট্র কখনো রাষ্ট্রের বন্ধু হতে পারেনা। বিশেষ ক'রে সীমান্ত লাগোয়া রাষ্ট্র সমূহের ক্ষেত্রে তো বটেই। ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্ম বিবাদ নিয়ে দু তিন টুকরো হওয়া রাষ্ট্রের জন্য তো নয়ই। স্বাধীনতা পরবর্তী এযাবতকাল পর্যন্ত এদেশে যেসব রাজনৈতিক শক্তি কিংবা ক্ষমতার পক্ষগুলি দেশ শাসন করেছে তারা কখনোই সীমান্তের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করেনি বা করার চেষ্টাও করেনি। তাছাড়া বন্ধু রাষ্ট্রই যদি হবে তবে কোন্ হিসাবে সৎ প্রতিবেশী সুলভ আচরনের মুলা ঝুলিয়ে তারা সীমান্ত সুরক্ষার নামে কাঁটাতারের বেড়া দেয়। কিংবা সীমান্তরক্ষী দিয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটির সীমান্তে স্বপ্রনোদিতভাবে মানুষ হত্যায় লাগাতার একই কায়দায় তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়! আরো যতসব ব্যবসা বণিজ্য, নদী সমস্যা ও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নিজেদের সুবিধাভোগের গোয়েন্দা বৃত্তির যাঁতাকল কিংবা বৃহৎ শক্তির আদলে চোখ রাঙানী দেখিয়ে নিজেদের সাজানো পুতুল সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে বাধাগ্রস্ত করেছে।
ইদানীং সময়ে যেহেতু বাঙালীর নতুন প্রজন্ম আমজনতাকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের মত করে বাংলাদেশকে সাজাতে চাচ্ছে তখন ঐসব পশ্চিম ভারতীয় শাসকদের চক্রান্তে তারা তাদের অংশের বাংলায় ধর্মের হুজুগ তুলে বাঙালী(বাংলাদেশী) বাহারী কিংবা অনুপ্রবেশকারীর তকমা ঝুলিয়ে পশ্চিমের বাঙালী অধ্যুষিত রাজ্যটিকে নরকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। SIR, CAA এর মাধ্যমে ভোটার লিষ্টে নাম উঠানো কিংবা ভারতীয় নাগরিকত্ব সংশোধনের নামে শুধুমাত্র সংখ্যালঘু মুসলিম ভারতীয় বাঙালীদের হেনস্তা করা কিংবা তাদেরই ধর্মীয় জাতিস্বত্বার নিম্ন বর্ণের মতুয়া রাজবংশী ও নমঃশুদ্রদের উদ্বাস্তু করার এ এক মাস্টারপ্লান। মোটকথা, বাঙালীকে চাপে রেখে প্রতিবেশী মুসলিম প্রধান বাংলাদেশ নামক ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রটিকে বাগে রেখে বন্ধুত্বের যাঁতাকলে অচল করে রাখার এ এক সূদুর প্রসারী মাড়ায়ারী নীলনক্সা। আজকের বাস্তবতায় বাঙালী তার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা বা শাসক হওয়ার খায়েসে কতিপয় জাফর আলী খান, জগৎ শেঠ বা রায়দুর্লভ নামক কীটানুর অমার্জনীয় আনাগোনায় বাংলার নৈঋত ও বায়ু কোণে সৃষ্ট দুর্যোগের ঘনঘটা সব সময় বাঙলীকে আতঙ্কগ্রস্ত রাখে। এসব রুখার অসম সাহসী মনোবল নিয়ে আপন অস্তিত্বে মাথা উঁচু করা বাঙালী হাজারো ক্ষয় ক্ষতি উপেক্ষা করে নিজেদেরকে দৃশ্যমান গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
একটু বাস্তবতায় আসি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির জন্ম হয়। এর আগে এটি ঘোষিত মুসলিম পাকিস্তান রাষ্ট্রের পুর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু আগের ব্যাখ্যা মোতাবেক আবারও বলতে চাই, ভিনভাষী, ভিন জাতিস্বত্বা ও ভিন সংস্কৃতির ধর্মীয় সাযুজ্যতার সংমিশ্রন ঘটিয়ে কখনো একটি ধর্মীয় জাতিস্বত্বা তৈরী করা যায়না। যেটা পুর্ব বাংলার বাঙালী জাতিস্বত্বা পছন্দ করেনি বা তা হতে দেয়নি। এরজন্য তারা সংগ্রাম করেছে, রক্ত ঝরিয়েছে, অবশেষে নিজের অস্মিতা তৈরীর জনযুদ্ধে কামিয়াব হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আবারও সেই সীমান্ত লাগোয়া সৎ প্রতিবেশী তথাকথিত বন্ধু রাষ্ট্রটির নামটি চলে আসে। আধিপত্য ও শত্রুতার বিষাক্ত ছোবল তুলে সাতচল্লিশের আগষ্টে যে ধর্ম পরিচয়ের দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল তা ভারতীয় আর্য অনার্যের মাড়োয়ারী শাসকরা কখনোই মন থেকে মেনে নেয়নি। ফলে প্রতিহিংসা ও আগ্রাসনের সুপ্ত বাসনায় তারা সব সময় এসব নিয়ে সময় দিয়েছে বা সজাগ থেকেছে এবং তাদের চিরায়ত অভ্যেসের নরুন বাজিয়েছে। পুর্ব পাকিস্তানের মুসলিম-হিন্দুর (৮০:২০) বাঙালীয়ানা যখন আপন অস্তিত্বের অস্মিতায় নিজের মত করে হাঁটতে চাইলো তখন যেন আকাশের চাঁদ পাওয়ার আহ্লাদে নড়েচড়ে বসলো ওই ভারত শাসকের দিল্লি বলয়, যারা এতদিন পশিমবঙ্গ নামক বাঙালী অধ্যুষিত ঘটি বাঙালীদের নিয়ে কিছুটা হলেও আশংকিত ছিল। কারন তারা মনে করতো খন্ডিত বাঙালীর একটির মুখে কাঠি লজেন্স ধরিয়ে দিলেই বুঝি তাদের দুর্বল করে রাখা যায়। তাছাড়া বিশ কোটি জনসংখ্যার মার্কেট ভ্যালু নিয়েও বেনিয়া মাড়োয়ারীদের লোলুপ দৃষ্টি এক শতবর্ষীয় আকাঙ্খা। এর ফলশ্রুতিতে তারা পুর্ব বাংলার বাঙালদের মুক্তির আকাঙ্খায় তাদেরকে ধনে জনে কলে কৌশলে সর্বোতোভাবে সাহায্য করেছিল।
ফল হয়েছিল বটে, তবে পশ্চিম পাকিস্তানী আধিপত্যবাদী খান পাঠানদের হিংস্রতা এবং বাঙালীর মেকি বন্ধু সাজা বৃহৎ রাষ্ট্রটির অতি তৎপরতায় বাংলা ভূখন্ডের ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা ও গণহত্যার উর্ধগতি সারা পৃথবীকে বিমূঢ় করে দিয়েছিল। কারন মাত্র নয় মাসে পাক সেনাদের অত্যাচার নিপীড়ন এবং ধ্বংসযজ্ঞে যেমন ছোট্ট ভূখন্ডের বাংলার মাটি বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছিল, পাশাপাশি মাত্র নয় মাসের এই অসম যুদ্ধে বাঙালীর তিরিশ লক্ষ প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। তাছাড়া আরো বহুবিধ অমানবিক অত্যাচার ও অপকর্মে এই জনপদে সামাজিক ভারসাম্যতা হারিয়েছিল। স্বাধীনচেতা বাঙালীর বন্ধু সেজে হাত কপচানো দিল্লি বলয়ের অতি তৎপর হওয়ার কল্যানে আমরা নয় মাসে বিজয় উৎসবে উচ্ছ্বসিত হলাম। তবে এখানে মুক্তিযুদ্ধের পরিসমাপ্তি নিয়ে একটা সূদুর প্রসারী প্রশ্নচিহ্ন রেখেই কিন্তু বন্ধু রাষ্ট্রটি বাঙালীর বিজয় উৎসবে একটি বড় ঢেকুর তুলেছিল। এতসব বলতে গেলে তো আবার চেতনার বাণিজ্য করা হাফ জনাব হাফ বাবুদের তিতি তিরিক্ষি শুরু হবে। মুক্তিযুদ্ধটি যৌথ কমান্ডে পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতের গ্রেটার ইন্ডিয়ার স্বপ্নবাজ আর্য দ্রাবিড়ের মহাপ্রভুরা কিন্তু একটি জলজ্যান্ত প্রশ্ন রেখে পরাজিত পাকিস্তানী সেনাদের অত্মসমর্পন অনুষ্ঠানটি নিজেদের মত ক'রে সাজিয়ে নিল। মুক্রিযুদ্ধকালীন বাঙালীর হতচ্ছাড়া নেতৃত্বের বেখেয়ালী খেসারতে এই সূদুর প্রসারী ছকটি তারা ফ্রেমে বেঁধে নিল। শুধু তাই নয়, ইদানীংকালে তারা বাঙালীর বিজয় দিবসটি যেভাবে ‘'ভারত বিজয়ে’'র উদযাপনে প্রকাশিত হয়েছে তাতে ক'রে ১৬ ডিসেম্বর কবে না বাংলাদেশ বিজয়ের রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয় -সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
-চলমান-
দেশে ১০ শতাংশ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করলেন আদালত
সেই উপদেষ্টারা কে কোথায়
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যায় সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ
যে কথা হয়নি বলা: শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
আজ থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে, কোন পথে কত
সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৫০ জন উদ্ধার, আটক ৯
বিজিবির তৎপরতায়, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ১৭ জন ফিরলো ভারতে
ব্রিটিশ তরুণ নওয়াক হত্যাকাণ্ড, উত্তপ্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নীল অর্থনীতি
মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে নতুন সোস্যাল মিডিয়া বার্তা দিলেন দীপেন দেওয়ান
ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
আইসিইউতে পিতা, হোটেলে ওঠেন ছেলে, সেখানেই এক পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



