জালাল উদ্দিন আহমেদ
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২ মার্চ,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:৫৭ পিএম, ২ মার্চ,সোমবার,২০২৬
মহাভারতের সেই বিখ্যাত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের দৃশ্যপটে সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরের মুখ দিয়ে কপটতার আশ্রয়ে উচ্চারিত বাক্যটির কথা মনে আছে কি? অবশ্য ভাঙ্গা হাঁড়ির এবাড়ির বাঙালীয়ানার ঘরের বাচ্চারা ওসব পড়েনা। অথবা বলতে পারেন তাদেরকে ওসব পড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়। তারা বীর সেনাপতি ওমর বিন খালিদের বীরত্বের কথা পড়ে। পড়ে ইসলামী ইতিহাস ঐতিহ্যের চৌদ্দ পনের'শ বছর আগেকার ইসলামী ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা। ওবাড়ির তরুন প্রজন্মও ঠিক একই কায়দায় শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য প্রতাপাদিত্য শিবাজিদের নিয়েই শিক্ষিত হয়। কিন্তু আজ আমি কয়েক হাজার বছর আগেকার পৌরাণিক কাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে আমার বাল্যশিক্ষার সেই শঠতা দিয়ে যুদ্ধ বিগ্রহ হানাহানি ইত্যাদি অবসানের গল্পটি শুনাতে চাই।
রামায়ন ও মহাভারত হিন্দু ধর্মীয় দুটি মহাকাব্য। সংস্কৃত শ্লোকের ছন্দোময় কাহিনী চিত্র দিয়ে এই দুটি মহাগ্রন্থে তাদের ধর্মীয় মাহাত্ম্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। মহাভারতে মূলতঃ দুটি রাজবংশের ভালমন্দ ও যুদ্ধ বিগ্রহের বিয়য়াদি উত্থাপন করে ধর্মীয় মাহাত্ম্যের কথা বলা হয়েছে। সেখানে কুরু বংশের রাজা শান্তনু, ভীষ্ম, ধৃতরাষ্ট্র এবং পাণ্ডুর বংশধরেরা এই কাহিনীর মূল চরিত্র। পাণ্ডুর পুত্ররা পঞ্চপাণ্ডব নামে খ্যাত। মহাভারতে যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেব এই পাঁচ ভাইয়ের সততা, বীরত্ব এবং ধর্মীয় নিষ্ঠার বর্ণনা দেয়া আছে। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্ররা কৌরব দুর্যোধন দুঃশাসন প্রমুখ এক'শ ভাইয়ের এক বিশাল বলয়। শৈশব থেকেই কৌরবদের ঈর্ষা এবং দুর্যোধনের অন্যায় আচরণ পাণ্ডবদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে। কৌরবরা শকুনি মামার সাহায্যে পাশা খেলার ছলনায় পাণ্ডবদের রাজ্য ও সর্বস্ব কেড়ে নেয়। পাশা খেলায় হেরে পাণ্ডবরা বারো বছরের বনবাস ও এক বছরের অজ্ঞাতবাসে যেতে বাধ্য হয়। বনবাস শেষে পাণ্ডবরা তাদের রাজ্য ফিরে পেতে চাইলে দুর্যোধন তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে ১৮ দিন ব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ নামে ইতিহাস প্রসিদ্ধ। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের সহায়তায় পাণ্ডবরা জয়ী হয়। যুদ্ধের পর যুধিষ্ঠির হস্তিনাপুরের রাজা হন।
মহাভারতের এই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ছিল মূলতঃ একটি অসম যুদ্ধ। একদিকে রাজ্য হারানো সততা নিষ্ঠা ও নৈতিকতা সমৃদ্ধ ধর্মনিষ্ঠ পান্ডবদের পাঁচ ভাইয়ের একটি পক্ষ, অন্যদিকে ধনে জনে ও শক্তি ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ পাপাচারে নিমগ্ন কুরু বংশের এক'শ ভাইয়ের রাজত্বের এক বিশাল বহর। যাদের ছিল দ্রোণাচার্য নামক এক মহাবীর যুদ্ধবাজ সেনাপতি। এই যুদ্ধে অপরাজেয় দ্রোণাচার্যকে বধ করার জন্য শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শে যুধিষ্ঠির একটি কূটকৌশল অবলম্বন করেন। ভীম 'অশ্বত্থামা' নামের এক হাতিকে হত্যা করে রটান যে অশত্থামা নিহত হয়েছে। ওদিকে দ্রোণাচার্যের পুত্রের নাম ছিল অশত্থামা। যুদ্ধক্ষেত্রে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রোণাচার্য পুত্রশোকে কাতর হয়ে পড়েন। পুত্রশোকে তিনি কাতর হয়ে অস্ত্র ত্যাগ করলে, তখন তাকে সহজেই হত্যা করা সম্ভব হয়। যুধিষ্ঠিরের মুখে "অশ্বত্থামা হতঃ ইতি গজ"(অশ্বত্থামা নামক হাতী নিহত হয়েছে) বাক্যটিই এই ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। যুদ্ধের ১৫তম দিনে দ্রোণাচার্যের বীরত্বে যখন পান্ডবরা দিশেহারা তখন শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শে যুধিষ্ঠির এই “অশত্থামা হত ইতঃ গজ” বাক্যটি উচ্চারন করেন। তবে যেহেতু যুধিষ্ঠির ছিলেন ওই ধর্ম কাহিনীর সবচেয়ে সত্যবাদী পুরুষ বিধায় তিনি শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শে “গজ(হাতি)” শব্দটি একটু আস্তে উচ্চারণ করেছিলেন যাতে দ্রোণাচার্য সেটা শুনতে না পারেন। এটাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের কুটকৌশল। এই ঘটনা মহাভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নীতিবাচক ও কূটনৈতিক চাল হিসেবে পরিচিত, যেখানে সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে এক অপরাজেয় যোদ্ধাকে পরাজিত করা হয়েছিল। এই বার্তার মাধ্যমে “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে”র বার্তায় চূড়ান্ত জয় ধর্মেরই হয় বলে ধারনা দেয়া হয়েছে।
এতক্ষন যেসব বয়ান শুনানো হোল তা একটি ধর্মীয় গ্রন্থ হতে উদ্ধৃতি। এখানে ধর্ম নিয়ে কোন ইতিবাচক নেতিবাচক গল্প সাজানোর জন্য এসব স্মরন করা হয় নি। প্রতিটি ধর্মেই বা তাদের জন্য প্রচারিত ধর্ম গ্রন্থে এধরনের কুটকৌশল বা বলা যায় রণকৌশল অবলম্বন করেই সেই কাহাবতের “ ধর্মের কল বাতাসে নড়ে”র যথার্থতা প্রমান করা হয়েছে। এটা অধর্ম নয়। বলা যায় নিজ অস্তিত্বের স্থায়িত্ব সুদৃঢ় করার নিমিত্তে রণকৌশলে কুটিলতা বা কঠোরতা মিশিয়ে তা প্রয়োগের মাধ্যমে সফলতা করায়ত্ত করা হয়েছে। সত্যের পুজারী ধর্মাবতার যুধিষ্ঠির ঠিক সেই কাজটিই করেছিলেন। তিনি মিথ্যা বলে কাউকে প্রবঞ্চিত করেননি। তবে একটু কৌশলে সত্যটি বলে দূরাচারী শত্রুকে ঘায়েল করেছিলেন। অন্যান্য ধর্মের বিভিন্ন কাহিনী ও বর্ণনায় আমরা এধরনের কুটকৌশলের ব্যবহার দেখতে পাই। আমরা জানি ইসলাম ধর্মের উত্থানের দিনগুলির শুরুতে যখন বিধর্মী কোরাইশদের সঙ্গে মুসলমানদের বদরের যুদ্ধ হয় তখন মাত্র ৩১৩ জন মুসলমানের সঙ্গে হাতি ঘোড়া সমৃদ্ধ হাজারো কোরাইশদের যুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধের কৌশল হিসাবে নবী মুহাম্মদ(সঃ) কোরাইশদের পানির প্রধান উৎস অর্থাৎ বড় বড় কুপ বা কুয়াগুলো অবরুদ্ধ করে দেন। ফলে কোরাইশরা পানির পিপাসায় বাধ্য হয়ে মুসলিম বাহিনীর মাত্র তিন'শ তের জনের অল্প সংখ্যক বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়। এবং সেটা নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে কখনোই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়নি। এখানে সত্য, মানবতা ও নৈতিকতার কোন ব্যতয় ঘটেনি। ধর্ম প্রতিষ্ঠায় এসব কুটকৌশলের নীতিগত অনুমোদন সার্বজনীন।
বর্তমান বিশ্বে অবশ্য ধর্ম নিয়ে কোন যুদ্ধবিগ্রহ ঘটছে না। তবে যেটা ঘটছে তা অবশ্যই ধর্ম আবহের ছায়ায় নিজেদের মহীয়ান বা শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের ছিটেফোঁটা পদচিহ্নের নমুনা হিসাবে সেসব বিবেচনা করা যায়। এসব কার্যধারায় ন্যায় অন্যায়ের কোন সুনির্দিষ্ট প্যারামিটার আছে বলে মনে করার কোন কারন নেই। তবে হিংসা প্রতিহিংসা বা দূরন্তপনার বাড়বাড়ন্ত সৃষ্টি করে ধরনীতলে যাতে অনাচার সহিংসতার বিস্তার না ঘটে সেসব নিরোধের একটা একতরফা এবং জোর জবরদস্তিমূলক সংঘর্ষ বলা যেতে পারে। এখানে ধর্মশিক্ষার কোন আলোকবর্তিকা নেই। নেই নীতি নৈতিকতার কোন সুনির্দিষ্ট ছকে বাঁধা নির্দেশ নামা। কিছুটা হামবড়া আচরনের ‘'আপনি মোড়ল’ সাজার চিত্রনাট্য। যেখানে চাপিয়ে দিয়ে নত করানোর এক জাত্যাভিমানী অহংকারের আস্ফালন। সুতরাং স্রষ্ঠা ঘোষিত ধর্মের বিষয়ে যেখানে যতি টানা হয়ে গেছে সেখানে স্রষ্ঠা প্রদত্ত ধর্মের মধ্যে থেকেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানে মানবকুলে অনাকঙ্খিত ক্যায়োটিক সিউয়েশনর উদ্ভব ঘটবে সেতো সৃষ্টিকর্তা নিজেই ঘোষনা দিয়েছেন। মনুষ্য জাতিকে আশরাফুল মোখলুকাত(প্রাণীকুলের শ্রেষ্ট) ঘোষনায় তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য মনুষ্যরূপী শয়তানকেও দুনিয়তে পাঠিয়েছেন তিনি। এখনকার দিনে দুনিয়া ব্যাপী চলমান অসহিষ্ণুতা হয়তোবা তারই মহড়া। তবে ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’র যথার্থতা কালের বহমানতায় উচ্চকিত হবেই - এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ল, কত টাকা ভরি?
আব্বাস ভাই বললেন ‘দুষ্টুমি করবা না’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
মার্চে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম
কে হচ্ছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরবর্তী উত্তরসূরি?
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
এবারও হামলার লক্ষ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি?
খুলনার দিঘলিয়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
নাগরিকদের অবিলম্বে ইসরায়েল ত্যাগ করতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
নিয়োগ পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় সব প্রার্থী বাদ
সৌদিতে নিপীড়নে এক নারী ফিরলেন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে, অন্যজন মানসিক ভারসাম্যহীন
৫ মামলায় জামিন পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী
জামায়াতকে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীদের তালাক দিতে বললেন এমপি মোবাশ্বের
রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন আসিফ মাহমুদ
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



