জালাল উদ্দিন আহমেদ
সাধু সাবধান
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৩১ জানুয়ারী,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০১:০২ এএম, ১ ফেব্রুয়ারী,রবিবার,২০২৬
সম্ভবতঃ কবি রফিক আযাদ তার এক বিখ্যাত কবিতায় বলেছেন,
“ভাত দে হারমজাদা,
তা না হলে মানচিত্র খাব”।
আসলেই তো তাই। এই ক্ষুধার জ্বালা যেন সর্বগ্রাসী উইপোকার ঢিপি হয়ে আমাদের রাষ্ট্র সমাজ এবং প্রাত্যহিক সংসার জীবনকে কুরে কুরে খাচ্ছে। নইলে কেন এই একটি কবিতার লাইনের উদ্ধৃতি উপস্থাপিত হয়ে আজ আমাদের সবকিছুর চাহিদা আলাদিনের চেরাগের সামনে হৈ হৈ রৈ রৈ করে বোতাম টিপা শুরু করে দিয়েছে! কেনইবা সমাজবদ্ধতা ও জাতীয়তাবোধের মুখে কালি লেপে মানুষ তার মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা, পরমত সহিষ্ণুতা এবং প্রেম-প্রীতি-ভালবাসার কৃষ্টি কালচারকে শিকেয় তুলে দেশকে এক অনিশ্চতার ডুবোচরে খাবি খাওয়াবে। হতে পারে কোন অপশক্তির পরিকল্পিত ইন্ধনে এসব অনিয়ম ও অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটছে। কিন্তু যে দেশপ্রেম ও ইচ্ছেশক্তির পেন্ডুলামে চড়ে আমরা চব্বিশের ৩১ জুলাইকে ৩৬এ নিয়ে গেলাম, যে ছত্রিশ দিনের রক্তস্নানে বাংলার জেন-জিরা দেশের পচনশীল রাজনীতির চোখে আঙ্গুল দিয়ে পুরো জাতিকে রাস্তায় নামিয়ে দেড় দশকের এক মাফিয়া শাসকের হাজার টনি স্বৈরশাসনের পতন ঘটালো, সেটা বিশ্ব পরিমন্ডলে এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী গণ বিপ্লব নয় কি?
রাজনীতির নেতৃত্বহীন অপামর গণমানুষের এতবড় এই সংগ্রামকে তবুও আমরা ‘গণঅভ্যুত্থান’ বলতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছি। অথচ রাজনীতির প্লাটফরম ব্যতিরেকে পুচকে জেন-জির তরুন যুবাদের সামান্য এক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, তুষের আগুনে ধিকি ধিকি জ্বলে থাকা সমগ্র বাঙালী জাতিকে এক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামালো - সেটা গণবিপ্লব না হয়ে কেন যে গণঅভ্যুত্থান বলে চালিয়ে নেয়া হোল সেটাই আজকের দিনে লাখ টাকার প্রশ্ন। প্রশ্নটার উত্তর অবশ্যই জটিল। তবে এর কাঠামোগত মেইন সুইচের জীয়নকাঠি যে গা-সওয়া মধ্যস্বত্ত্বভোগী গুড় খাওয়াদের ধর্তব্যের উঠানে আছড়ে পড়ে তড়পানি খেয়েছে সেটা তো একটু মাথা খাটালেই ধরা পড়ে। নাম না জানা গুটিকয় তরুন যুবার সমন্বয়কারী যারা গোটা জাতিস্বত্বার আশার প্রদীপ হয়ে ধুমকেতুর মত বাংলার আকাশে আলো জ্বেলে দিল তারাই কিনা পুরনো গদবাঁধা রাজনীতির উঠানে আত্মসমর্পণ করল। আর মওকা বুঝে পরম্পরা রাজনীতির বাহকরা ‘চল্তে কা নাম গাড়ি’র গতিপথে শরীক করে নিল এই তেজদীপ্ত যৌবনে পা রাখা দেশপ্রেমিক সূর্য সন্তানদের। ফলে বাঙলার আকাশে ঈশানকোনের সেই ছোবল মারা শকুনের আনাগোনা আগের মতই স্বাচ্ছন্দ রইলো। কি ভয়ানক ট্রাজেডি!
একজন বিশ্বজয়ী নোবেল লরিয়েট তার নিজ দেশের কালো দিনগুলির কথা মনে করে রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির এহেন দূরাচারী দুঃসময়ে, বিশ্ব অলম্পিকের ব্র্যান্ড এম্বাসেডরের দায়িত্ব ছেড়ে দেশে ছুটে এসেছেন জেন জি তথা বাংলার অপামর জনসাধারনের আকাঙ্খিত বাংলাদেশ বিনির্মানের উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে। কিন্তু বিপ্লবোত্তর দেশ হিসাবে জন আকাঙ্খার জোয়ার সৃষ্টি ক’রে রাষ্ট্র কাঠামোর খোল নলচে পালটে দেয়ার সেই গতিপথ কি আমাদের দেশে তৈরী করা হয়েছিল? আমরা দেখেছি পতিত স্বৈরাচার সৃষ্ট অবকাঠামো ও প্রশাসনিক মেকানিজম নিয়ে কতিপয় নিরামিষ সফেদ এবং বয়োঃবৃদ্ধ প্রনম্য ব্যক্তিদের হটসিটে বসিয়ে একটা পুতুল খেলার আয়োজনে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পত্তন ঘটানো হোল। যেন বিশ্ববরেন্য ব্যক্তিটিকে হেয় ও অসহায় প্রতিপন্ন করার দূরভিসন্ধি নিয়ে ঢাল তলোয়ারবিহীন এক মধ্যবর্তী সরকারের দ্বারোদঘাটন করা হোল। পাঠক, পুতুল খেলার আয়োজনের সরকার ব্যবস্থার কথাটি ignorance বা তাছিল্যের রূপক হিসাবে ব্যবহৃত হলেও এই শব্দ যুগলের মধ্যে একটি খেদ ও অসহায়ত্বের মিশেল আবেদন রয়েছে। লক্ষ্য করুন, প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীর প্রধান সাহেব যখন তার দেশপ্রেমের তেজদীপ্ত জৌলুশে আলো ছড়ানো শুরু করলেন, পরবর্তীতে লক্ষ্য করা গেল সরকারী মেকানিজমের ঢিলেমী ও শৈথিল্যের ছাপ। এমনকি মিডিয়ার অবাধ স্বাধীনতার বহুমুখীতার সুযোগে একশ্রেনীর তথাকথিত প্রগতিশীল নামধারী মানুষ নতুন নতুন দোকান খুলে তাদের সেই পুরনো বস্তাপচা চেতনা ও একাত্তরের মেকি আওয়াজকে পুনরায় উচ্চকিত করার অপচেষ্টায় প্রাণপাত করার স্বাধীনতাভোগে উন্মত্ত হয়ে পড়েছে।
আমরা জানি, হাজারো সমস্যা ও অভাব অনটনের এই বাঙালী উঠানে বরাবরই সামাজিক অশান্তি ও চাপান উতোরের মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হয়। কিন্তু রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণ সম্পৃক্ততায় তার সমাধান সম্পন্ন করা হয়। বলতে দ্বিধা নেই, আজকের বাস্তবতার আলোকে একটি অনির্বাচিত ট্রানজিট সরকারকে লক্ষ্য করে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সরকারী মেকানিজমে চাহিদার অতুঙ্গ উচ্চাশায় হরেক রকমের দাবি দাওয়া নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা ও অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে তটস্থ করে রাখার কুট কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা স্রেফ দেশটাকে অস্থিতিশীল ও কতিপয় বিরাজনীতির নমস্য ব্যক্তিদের (যারা সরকার চালাচ্ছেন) কাজে অমনোযোগী ও হতাশা তৈরী করার ফন্দি ছাড়া অন্য কিছু নয়। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রে প্রজা পছন্দের সরকার আগে আসুক, তারপর না হয় অভাব অভিযোগ দাবি দাওয়া ওসব নিয়ে এগোনো যাবে। কিন্তু কেন এই অন্তর্বর্তীদের ঘাড়ে উঠে যুগ যুগান্তের চাহিদার পঙ্তিমালার কোরাস গেয়ে ট্রানজিট পিরিওডের এই অনির্বাচিত সরকারেকে অহেতুক বিড়ম্বনায় ফেলে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করা হচ্ছে?
আবারো সেই দুষ্টু পড়শীর কথাগুলোই সামনে চলে আসে। কারন সেখানে শুধু তারা নেই। তাদেরই মদতে রয়েছে এদেশের জনধিকৃত পরাজিত শক্তির বিরাট লটবহর। তাও আবার তাদেরই বেআইনী অতিথি হিসাবে। সেক্ষেত্রে সবকিছু বিবেচনায়, ঘরের শত্রু বিভীষনদের ঠেকানো ও পড়শি শত্রুকে নির্জীব করার লক্ষ্যে আমাদের উচিত নয় কি বাউন্ডারী প্রাচীরে লাগানো মইটিকে সরিয়ে ফেলা! এসব যত তাড়াতাড়ি করা যায় উভয় পক্ষের জন্যই তত মঙ্গল বলে মনে করি। মনে রাখা ভাল, উই পোঁকা যখন ঢিপি বানিয়ে তাদের আস্তানা গাড়ে তখন কিন্তু তারা আগা-পাছা বা গোঁড়া-ডগা কিছুই দেখে না। সব কিছু এক নাগাড়ে সাবাড় করেই ছাড়ে। আর যখন তাদের এই সর্বনেশে তান্ডব শুরু হয় তখন শত্রু মিত্রের বাছবিচারের ক্রাইটেরিয়ায় সেসব মাপা হয় না। সুতরাং সময় থাকতেই সাধু সাবধান।
কিছু ছেলেপেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলে: মির্জা আব্বাস
বাংলাদেশিদের চাকুরির প্রলোভনে রাশিয়া থেকে পাঠানো হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে
সাধু সাবধান
ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নীতি, হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল মিনিয়াপলিস
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন একজন বাংলাদেশি অধ্যাপক
৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিলো স্পেন, সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরাও
রংপুরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য আহ্বান : তারেক রহমান
স্ত্রী-সন্তানের কবর ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদলেন সাদ্দাম
শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত
ইরানে এবারের হামলা হবে আগের চেয়েও ভয়াবহ: ট্রাম্প
কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা
বিএনপি সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত হলে আপনাদের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কেন: তারেক রহমান
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা স্থগিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে লাখো বাংলাদেশি
একটি দল শুধু ঠকাচ্ছেই না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে: তারেক রহমান
ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসে যোগ দিচ্ছেন গণহত্যা চালানো যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহু!
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



