avertisements 2

১৫ রোগী হত্যা: চিকিৎসকের যাবজ্জীবন, তদন্তে আরও ৭৬ সন্দেহজনক মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৯ জুলাই,বৃহস্পতিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৭:২৩ পিএম, ৯ জুলাই,বৃহস্পতিবার,২০২৬

Text

পরিকল্পিতভাবে ১৫ জন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হত্যার দায়ে জার্মানির এক ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ চিকিৎসককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, তার অপরাধের পরিধি আরও বড় হতে পারে। ইতোমধ্যে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৭৬টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

জার্মানির গোপনীয়তা আইনের কারণে ৪১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের  পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। বার্লিনের ওই আদালতের নথিতে ওই চিকিৎসককে শুধু ‘ইয়োহানেস এম.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিনি ১২ জন নারী ও তিনজন পুরুষকে হত্যা করেন। নিহতদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে। সবাই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং বাড়িতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রোগীদের সম্মতি ছাড়াই তিনি প্রাণঘাতী ওষুধের মিশ্রণ প্রয়োগ করতেন, যার ফলে তাদের মৃত্যু হতো। পরে অপরাধের আলামত নষ্ট করতে একাধিক ঘটনায় বাড়িতে আগুনও লাগিয়েছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতারের কয়েকদিন আগে একই দিনে দুই রোগীকে হত্যা করেন তিনি। প্রথমে মধ্য বার্লিনে ৭৫ বছর বয়সী এক পুরুষকে হত্যা করেন। কয়েক ঘণ্টা পর পাশের এলাকায় ৭৬ বছর বয়সী এক নারীও তার শিকার হন। ওই নারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টাও করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও তা সফল হয়নি।

প্রায় এক বছর ধরে চলা বিচারের অধিকাংশ সময় নীরব থাকলেও গত মাসে তিনি ১২ জন রোগীকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, রোগীদের কষ্ট থেকে মুক্তি দিতেই তিনি এমন কাজ করেছেন। তার ভাষায়, “আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে আমি সঠিক কাজ করছি। পুরো সময় আমি ভেবেছিলাম এটাই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো।” একই সঙ্গে তিনি তার কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমাও চান।

তবে প্রসিকিউটরদের ধারণা, প্রমাণিত ১৫টি হত্যাকাণ্ডই পুরো ঘটনার একটি অংশ মাত্র। বর্তমানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৭৬টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। এসব অভিযোগও প্রমাণিত হলে এটি জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম বড় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।

বিচারের সময় নিহতদের স্বজনরা আবেগঘন সাক্ষ্য দেন। ২০২১ সালে নিহত ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর মা বলেন, “সে কখনো বলেনি যে সে আর বাঁচতে চায় না।” আর ২০২৪ সালে নিহত ৭২ বছর বয়সী এক নারীর ছেলে আদালতকে জানান, তার মা ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বেঁচে থাকার ইচ্ছা ছিল প্রবল।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, চিকিৎসকের অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর। তাই তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাজা শেষে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে তার চিকিৎসা পেশায় কাজ করার লাইসেন্স। ফলে তিনি আর কখনো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

তথ্য সূত্র- বিবিসি।

avertisements 2