avertisements 2

ভারতে ক্যানসারের ইনজেকশন চালু, প্রতি ডোজের দাম কত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৯ মে,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:৫৫ এএম, ১৯ মে,মঙ্গলবার,২০২৬

Text

ক্যানসার চিকিৎসায় বড় সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের জন্য টেসেন্ট্রিক নামের নতুন একটি ইনজেকশন বাজারে আনা হয়েছে। মাত্র সাত মিনিটে কার্যকর এই ওষুধটি বাজারজাত করেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া; যা ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসাকে আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক করবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে শিরায় বা আইভি ইনফিউশনের মাধ্যমে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপির জন্য রোগীদের হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে হতো। তবে নতুন এই ইনজেকশনটি সরাসরি ত্বকের নিচে দেওয়া হয়, যাতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিটের মতো। চিকিৎসকরা মনে করছেন, এই পদ্ধতি রোগীদের ভোগান্তি কমাবে এবং হাসপাতালের ওপরও চাপ কমাবে।

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ রূপ এনএসসিএলসি রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকা এবং বারবার যাতায়াতের কারণে বিশেষ করে বয়স্ক বা দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা যে ক্লান্তিতে ভুগতেন, নতুন ইনজেকশনের গতি ও সুবিধার কারণে তা অনেকটাই লাঘব হবে।

এই নতুন ইনজেকশনে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা ‘পিডি-এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ক্যানসার কোষগুলো মূলত এই প্রোটিন ব্যবহার করেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকে। প্রোটিনটি ব্লক হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে তা ধ্বংস করতে পারে। টিউমারে উচ্চ মাত্রার পিডি-এল১ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করেন। কারণ কেমোথেরাপি ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষের ক্ষতি করে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে, ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটি বড় সাফল্য হলেও এর আকাশচুম্বী দাম ভারতীয় পরিবারগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। চিকিৎসা চলাকালীন একজন রোগীর সাধারণত প্রায় ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের একটি বড় অংশের মানুষের কাছে এই উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকারি হস্তক্ষেপ এবং আরও সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

যেভাবে কাজ করবে

বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কেমোথেরাপির বিকল্প হিসেবে ওষুধের ব্যবহার হয়ে উঠেছে প্রধান অস্ত্র। নতুন এই ওষুধটি নির্দিষ্ট ডোজ়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হবে রোগীকে। ওষুধটির কাজ হবে ক্যানসার প্রোটিনকে বেঁধে ফেলা, যাতে তার দ্রুত বিস্তার ঘটতে না পারে। এই পদ্ধতিতে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মতো যন্ত্রণা হবে না রোগীর। বরং নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহু গুণে বেড়ে যাবে। ইমিউনোথেরাপির কাজই হলো শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলে রোগের মোকাবিলা করা। যাতে প্রতিরোধী কোষগুলো আবার জেগে উঠে লড়াই করতে পারে। এতে পুরোপুরি ক্যানসার কোষগুলো নির্মূল করা সম্ভব হয়। তবে শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধশক্তি সতেজ হয়ে ওঠে। তার জন্য কিছু ওষুধ দিতে হয় মাত্র। নতুন ওষুধটিও সেভাবেই কাজ করবে বলে দাবি গবেষকদের।

আরও পড়ুন

avertisements 2