avertisements 2

বিএসএমএমইউ এর অনিয়মে জ্যেষ্ঠতা লংঘন, ছাত্রীর অধীনে শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৮ জুন,শনিবার,২০২৪ | আপডেট: ১১:২৬ পিএম, ১৮ জুন,মঙ্গলবার,২০২৪

Text

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ এইচ এম জাকির হোসেন শিকদার। ২০১৭ সালে তিনি যখন এ বিভাগের শিক্ষক নাজিয়া মেহনাজ তখন তাঁর ছাত্রী হিসেবে একই বিভাগে এম.এস. পরিক্ষা দেন। ১৩ বছরের ব্যবধানে আজ এক সময়ের ছাত্রী ডা. নাজিয়া মেহনাজের অধীনে শিক্ষকতা করছেন ডা. এএইচএম জাকির হোসেন। শিক্ষক হিসেবে ডা. এএইচএম জাকির হোসেন এর জন্য ঘটনাটি হতে পারতো সম্মান, মর্যাদা ও গৌরবের। যদি যোগ্যতা ও দক্ষতার সঠিক মূল্যায়নে শিক্ষার্থী অতিক্রম করে যেতেন শিক্ষককে। এখন ডা. এএইচএম জাকির হোসেন এর জন্য বিষয়টি গ্লাণি ও দূঃখ, পরিতাপের। কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে- এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য চিকিৎসক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এর সাথে লিয়াজু করে এবং জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব ভাগিয়ে নিয়েছেন পেডিয়াটিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজিয়া মেহনাজ। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে অনুসরণ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কমিটির নির্দেশনাও। অনুসন্ধানে জানা যায়-

১৭ ডিসেম্বর ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াটিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান করা হয় এ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজিয়া মেহনাজকে। এ বিষয়ে উপাচার্যের নিকট জ্যেষ্ঠতা লংঘনের অভিযোগ করেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এএইচএম জাকির হোসেন।

ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে- সে সময় বিপুল পরিমান আর্থিক লেনদেনের কথা শুনেছেন তারা। সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়- পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. নাজিয়া মেহনাজ একই বিভাগের জেষ্ঠ্য চিকিৎসক ডা. এএইচএম জাকির হোসেন এর চেয়ে ১৩ বছরের কনিষ্ঠতম চিকিংসক।

দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে হতভম্ব অনেকেই। অনুসন্ধান করে জানা যায়- ডা. নাজিয়া মেহনাজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সহকারী অধ্যাপক, অর্থডনটিক্স বিভাগের চিকিৎসক হেলাল উদ্দিন এর স্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র মতে চিকিৎসক হেলাল সাবেক উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমদের সাথে বিপুল পরিমানের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে স্ত্রী নাজিয়া মেহনাজকে বিভাগের চেয়ারম্যান করেন। এ সময় একই বিভাগের জেষ্ঠ্য চিকিৎসককে ডিঙিয়ে তারই ছাত্রীকে এ পদন্নতি দেওয়া হয়।
জানা যায়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশান এর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ২৭ জুলাই ২০২২ সিন্ডিকেটের সভায় জ্যেষ্ঠতা লংঘনের দায়ে বর্তমান বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. নাজিয়া মেহনাজকে পদন্নোতিতে না দেওয়ার পরমর্শ দিয়েছিলেন। এর পরেও একটি চক্র পরবর্তী ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে অনুপস্থিত রেখে ডা. নাজিয়া মেহনাজকে পদন্নতি দিয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। সে সময় সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য ৬০ দিন সময় দিয়ে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সাধারণত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৩০ দিন মেয়াদে হয়ে থাকে। সে সময় নিয়োগপত্র জমা দেয়ার আগের দিন চিকিৎসক নাজিয়া মেহনাজের চাকরির বয়স ৩ বছর পূর্ণ হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৬০ দিন মেয়াদ হওয়াতে এবং মেয়াদের আগের দিন তার পূর্ণ ৩ বছর চাকরির বয়স হওয়ায় চিকিৎসক নাজিয়া মেহনাজ খুব সহজেই আবেদন করতে পারেন সহযোগী অধ্যাপকের জন্য। দীর্ঘ ৬০ দিন মেয়াদ চলাকালীন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ছিলো রহস্যজনক! জানা গেছে- এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী সমন্বয় করে কেনাকাটায় মনোযোগ দেন। গত ১ জুলাই ২০২৩ তারিখে জোহরা খাতুন, সিনিয়র স্টাফ নার্স (ইনচার্জ) পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগ, ডেন্টাল অনুষদ থেকে একটি ডেন্টাল ইউনিট ক্রয়ের জন্য সভাপতি, বিভাগীয় ক্রয় কমিটি, পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে আবেদন করেন। সে সময়ে বিভাগীয় ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন চিকিৎসক এ এইচ এম জাকির হোসেন সিকদার। সূত্র থেকে জানা যায়, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ডা. নাজিয়া মেহনাজ সম্পূর্ণ দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেন। ডা. নাজিয়া মেহনাজ তাঁর দেবর অর্থাৎ স্বামী চিকিৎসক হেলালের ছোট ভাই আক্তার হোসাইন এর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এমএমএম ট্রেড ইন্টারন্যাশলয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দূর্নীতি করে একটি ফোশান চায়না ডেন্টাল ইউনিট মেশিন স্থাপন করেন। পি পি আর-২০০৮ অনুসরন না করে শুধুমাত্র নিজস্ব লোক দিয়ে মেশিন স্থাপন করায় বিভাগীয় চিকিৎসকগণের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

২৫ জুলাই ২০২৩ তারিখে একটি নতুন আদেশে চিকিৎসক নাজিয়া মেহনাজকে বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব করা হয়। অথচ ১ জুলাই ২০২৩ তারিখ হতেই তিনি নিজেই নিজেকে ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব দেখিয়ে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়ম বহিঃভূর্ত। এর আগে ক্রয় কমিটিতে রাখা হয়েছিলো পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকির হোসেন সিকদারকে। ক্রয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে কারও নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করার বিরোধিতা করায় তাকে বাদ দেওয়া হয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে ক্রয় করার কোনো বিধান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের ক্রয় কমিটি থাকে। ক্রয় কমিটি গঠনের নিয়ম বিভাগের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান আছে। তিনি তা লঙ্ঘন করে অন্য বিভাগের দুইজন শিক্ষককে যুক্ত করেছেন। এদের একজন অর্থডন্টিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশীষ কুমার বিশ্বাস।
পেড্রিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিলো- নির্দিষ্ট বিভাগ থেকে এফসিএস এমএস ডিগ্রি পাপ্ত কাউকে নিয়োগ দিতে হবে। তিনি তা অমান্য করেছে নিয়োগ দিয়েছেন ডা. কামাল আব্দুল্লাহ শান্তকে যিনি এ বিষয়ে পড়াশোনা করেননি।

এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে সরেজমিনে গিয়েও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে করা হলে তিনি পরে কল ব্যাক করবেন বলে জানান। পরবর্তীতে তাকে মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেয়া হলেও তিনি মেসেজের কোনো উত্তর দেননি।
 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2