avertisements 2

২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২০ আগস্ট,বৃহস্পতিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:১৬ এএম, ২১ আগস্ট,শুক্রবার,২০২৬

Text

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের (জোটের) প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তারমধ্যে ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দলীয় সংসদ সদস্য না হওয়ায় স্বতন্ত্র সদস্যরা দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনকে ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচনে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), এরপর  ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন নির্বাচনি কর্তা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেন, ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আবার শিক্ষকতা পেশায় ফেরেন।

১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যখন দেশব্যাপী আন্দোলন চলে, তখন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের মধ্যদিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন মির্জা ফখরুল। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ৫ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। সে থেকে আজ পর্যন্ত মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীকালে শপথ গ্রহণ না করায় নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন এবং নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির পরীক্ষিত ও পরিশীলিত নেতা হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হলেন বিএনপির এই দীর্ঘদিনের কাণ্ডারী।

 

avertisements 2