আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
২০২৪ সালে ডিসেম্বরে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বাসা থেকে ছাগল একটা খাওয়া হইছে, দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেছেন, ‘আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ নন। উনি এই অন্তর্বর্তী সরকারে ছিলেন এক দেড় বছরের মতন; এর মধ্যে উনি গরু, ছাগল, মুরগি পালা শুরু করেছেন। ওই যেখানে গরু, ছাগল, মুরগি পালতেন, সেখানে পুলিশের সিকিউরিটিও দাঁড় করিয়েছেন।’
আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সাথে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমি মনে করি যে, আসিফ নজরুলের একটা ছাগল খাওয়া হয়েছে, দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। আর আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ নন। উনি এই অন্তর্বর্তী সরকারে ছিলেন এক দেড় বছরের মতন; এর মধ্যে উনি গরু, ছাগল, মুরগি পালা শুরু করেছেন। ওই যেখানে গরু, ছাগল, মুরগি পালতেন, সেখানে পুলিশের সিকিউরিটিও দাঁড় করিয়েছেন।”
পাটওয়ারী আরও বলেন, “আসিফ নজরুলের এটা যারা খেয়েছে, আমি মনে করি তাদের আরেকটাও খাওয়া উচিত ছিল। তবে যেটা আমাকে ফ্রেমিং করা হচ্ছে, এটা সত্য নয়। মানে পুরো দোষটা আমার ওপর দেওয়া হচ্ছে। দেখেছি কারা কারা খেয়েছে, কী খেয়েছে। আমি ওদেরকে বলব— উনার আরেক একটা ছাগল না খাওয়াতে তাদেরকে ধিক্কার জানাচ্ছি, তারা আরেকটা খায়নি কেন। তাদেরকে বলছি, আরেকটাও খেতে; আর সামনে সুযোগ পেলে তারা যেন সুন্দর করে আরেকটাও খেয়ে ফেলে।”
সম্প্রতি সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের ‘ঠিকানা’ শিরোনামের একটি টকশোতে ‘ছাগলচুরি’ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “ছাগলচুরির ব্যাপারটা আমি আসলে বলতে চাই না। এটা আমার জীবনে ঘটনা ঘটা অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা। এটা যদি কেউ আপনাকে বলে থাকে প্রতিশোধ হিসেবে করেছে, তাহলে তার মতো অমানুষ, তার মতো পিশাচ, তার মতো নির্মম ও খারাপ কোনো মানুষ হতে পারে না। পুরা ঘটনাটা ওরা মজা করে করেছে।”
যেভাবে আলোচনায় আসে ছাগল চুরির ঘটনা
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা থাকার সময় ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে একটি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
জানা যায়, মন্ত্রিপাড়ার একটি বাংলোয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের একটি নৈশকালীন রাজনৈতিক বৈঠক চলছিল। সেই সময় পাশের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বাংলো থেকে ছাগলটি চুরি করার পরিকল্পনা করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে ছাগল চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি করা ছাগলটি জবাই করে ওই রাতের ভোজে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের উচ্চপর্যায়েও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে তখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনার সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ছাত্রনেতা রিফাত রশিদের জড়িত ছিলো বলে তৎকালীন কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টকশোতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘটনার সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তিনি ছাগলটি রান্না করে খাওয়ার বিষয়টি সত্য বলে উল্লেখ করেন। তবে ঘটনাটিকে কেউ কেউ আসিফ নজরুলকে এক ধরনের ‘শিক্ষা দেওয়ার’ ঘটনা হিসেবে দেখলেও, অনেকে এটিকে পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রচলিত দুষ্টুমি হিসেবেও দেখছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
আরও পড়ুন
এই বিভাগের আরো খবর
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা
রুমিন আপার মধ্যেও ‘হাসিনার ছায়া’ দেখছেন দুষ্ট লোকেরা: রাশেদ খান
মুখোশধারী অনেকে এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনে ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ





