দিলারা জাহান
যেভাবে রাষ্ট্রই তৈরি করে ধর্ষকদের
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৪ ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,২০২৪ | আপডেট: ১২:৪৩ এএম, ৭ জুন,রবিবার,২০২৬
বাংলাদেশে ধর্ষণ এখন আর একক অপরাধ নয়— এটি আমাদের সামাজিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির যৌথ পাপফল। অপরাধীরা জানে, আইন আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ দুর্বল; আদালতের জটিলতা, জামিনের অপব্যবহার, মামলার ধীরগতি— সব মিলিয়ে তারা নিশ্চিন্ত থাকে। একজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা যত সহজ, তাকে সাজা দেয়া ততই কঠিন।
এই সমাজে ধর্ষণের দায় আজও পোশাকে, আচরণে, কিংবা মেয়েদের স্বাধীনতায় চাপিয়ে দেয়া হয়। অথচ বাস্তবতা হলো— ধর্ষিতার বয়স এখন পাঁচ, আট, দশ। তারা কোনো পোশাকই পরার বয়সে পৌঁছায়নি। সুতরাং এই দায় ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের।
রাষ্ট্র তখনই অপরাধীর কারখানা হয়ে ওঠে, যখন বিচারপথে ন্যায় মরে যায়। পূজার ধর্ষক সাইফুল আট বছর জেলে থেকে মুক্ত, অন্য ধর্ষকরা জামিনে মুক্ত হয়ে ফুলের মালা পরে বাড়ি ফেরে— এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি। এমন সমাজে ধর্ষণ কেবল অপরাধ নয়, এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একধরনের অনুশীলিত সংস্কৃতি— যেখানে অপরাধীরা জানে, শেষ পর্যন্ত তাদের কিছুই হবে না।
আইনজীবী, পুলিশ, প্রশাসন— সবাই তাদের অংশ নিচ্ছে এই নীরব চক্রে। একজন ধর্ষককে রক্ষা করা মানেই ভবিষ্যতের আরও পাঁচজন ধর্ষককে জন্ম দেয়া। এই চক্র থামাতে হলে আইনের প্রয়োগে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে— এমন শাস্তি, যা ভয় তৈরি করবে, শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে।
আমরা বারবার দেখি— রাষ্ট্র নীরব, সমাজ নির্বিকার। আমাদের প্রতিবাদ কাগজে বন্দি হয়ে যায়। অথচ প্রতিটি মেয়েশিশু, প্রতিটি নারী এই অন্যায়ের ভার বহন করছে প্রতিদিন।
এই নৈঃশব্দ্যের মধ্যেই আসল ভয় লুকিয়ে আছে। কারণ যতদিন আমাদের কন্যা, বোন, মা নিরাপদ নয়— ততদিন আমরা কেউই নিরাপদ নই।
রাষ্ট্রের উচিত এখনই বুঝে নেয়া— ধর্ষক জন্ম নেয় পরিবারে নয়, জন্ম নেয় রাষ্ট্রের অকার্যকর আইন ও ন্যায়ের অভাবে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই দায়িত্ব নেয়, তবে এ সমাজে কোনো ধর্ষক আর জন্ম নেবে না।
লেখকের আরও লেখা
দেশে ১০ শতাংশ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করলেন আদালত
সেই উপদেষ্টারা কে কোথায়
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যায় সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ
যে কথা হয়নি বলা: শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
আজ থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে, কোন পথে কত
সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৫০ জন উদ্ধার, আটক ৯
বিজিবির তৎপরতায়, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ১৭ জন ফিরলো ভারতে
ব্রিটিশ তরুণ নওয়াক হত্যাকাণ্ড, উত্তপ্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নীল অর্থনীতি
মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে নতুন সোস্যাল মিডিয়া বার্তা দিলেন দীপেন দেওয়ান
ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
আইসিইউতে পিতা, হোটেলে ওঠেন ছেলে, সেখানেই এক পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



