দিলারা জাহান
যেভাবে রাষ্ট্রই তৈরি করে ধর্ষকদের
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৪ ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,২০২৪ | আপডেট: ১০:০৮ এএম, ৭ ফেব্রুয়ারী,শনিবার,২০২৬
বাংলাদেশে ধর্ষণ এখন আর একক অপরাধ নয়— এটি আমাদের সামাজিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির যৌথ পাপফল। অপরাধীরা জানে, আইন আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ দুর্বল; আদালতের জটিলতা, জামিনের অপব্যবহার, মামলার ধীরগতি— সব মিলিয়ে তারা নিশ্চিন্ত থাকে। একজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা যত সহজ, তাকে সাজা দেয়া ততই কঠিন।
এই সমাজে ধর্ষণের দায় আজও পোশাকে, আচরণে, কিংবা মেয়েদের স্বাধীনতায় চাপিয়ে দেয়া হয়। অথচ বাস্তবতা হলো— ধর্ষিতার বয়স এখন পাঁচ, আট, দশ। তারা কোনো পোশাকই পরার বয়সে পৌঁছায়নি। সুতরাং এই দায় ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের।
রাষ্ট্র তখনই অপরাধীর কারখানা হয়ে ওঠে, যখন বিচারপথে ন্যায় মরে যায়। পূজার ধর্ষক সাইফুল আট বছর জেলে থেকে মুক্ত, অন্য ধর্ষকরা জামিনে মুক্ত হয়ে ফুলের মালা পরে বাড়ি ফেরে— এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি। এমন সমাজে ধর্ষণ কেবল অপরাধ নয়, এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একধরনের অনুশীলিত সংস্কৃতি— যেখানে অপরাধীরা জানে, শেষ পর্যন্ত তাদের কিছুই হবে না।
আইনজীবী, পুলিশ, প্রশাসন— সবাই তাদের অংশ নিচ্ছে এই নীরব চক্রে। একজন ধর্ষককে রক্ষা করা মানেই ভবিষ্যতের আরও পাঁচজন ধর্ষককে জন্ম দেয়া। এই চক্র থামাতে হলে আইনের প্রয়োগে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে— এমন শাস্তি, যা ভয় তৈরি করবে, শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে।
আমরা বারবার দেখি— রাষ্ট্র নীরব, সমাজ নির্বিকার। আমাদের প্রতিবাদ কাগজে বন্দি হয়ে যায়। অথচ প্রতিটি মেয়েশিশু, প্রতিটি নারী এই অন্যায়ের ভার বহন করছে প্রতিদিন।
এই নৈঃশব্দ্যের মধ্যেই আসল ভয় লুকিয়ে আছে। কারণ যতদিন আমাদের কন্যা, বোন, মা নিরাপদ নয়— ততদিন আমরা কেউই নিরাপদ নই।
রাষ্ট্রের উচিত এখনই বুঝে নেয়া— ধর্ষক জন্ম নেয় পরিবারে নয়, জন্ম নেয় রাষ্ট্রের অকার্যকর আইন ও ন্যায়ের অভাবে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই দায়িত্ব নেয়, তবে এ সমাজে কোনো ধর্ষক আর জন্ম নেবে না।
লেখকের আরও লেখা
‘এক পুলিশ জড়িয়ে ধরে বাঁচাতে চাইলে রাগে তাকে সরিয়ে দিই’
পাকিস্তানে মসজিদে হামলা, সন্দেহের তীর প্রতিবেশী দেশের দিকে
হিজাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমালোচনার মুখে মামদানি
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন করবে না বিএনপি
ভোটের মৌসুমে মাদক ব্যবসা রমরমা
রাজধানীর পল্লবীতে একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার
রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ খুললো
আইসিসি-বিসিবি-বিসিসিআই
শেখ হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছরের কারাদণ্ড
নির্বাচনি প্রচারণায় বিষোদগারের প্রতিযোগিতা
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের পোশাকের ব্যবসা দখলের আশায় ভারত
সকালে কমে রাতেই বাড়লো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা
কিছু ছেলেপেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলে: মির্জা আব্বাস
বাংলাদেশিদের চাকুরির প্রলোভনে রাশিয়া থেকে পাঠানো হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে
সাধু সাবধান
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



