চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরান
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী,
বুধবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:৫৮ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী,
বুধবার,২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান চীনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চলেছে, যার মাধ্যমে তারা চীনে তৈরি সিএম‑৩০২ ধরণের সুপারসনিক প্রতিরক্ষা‑মূলক ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করবে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র তার সম্ভাব্য হামলার মুখে ইরান উপকূলে বৃহৎ নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে।
সুপারসনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর সীমা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং এগুলো কম উচ্চতায় দ্রুত গতিতে উড়ে গিয়ে জাহাজভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের আঘাত ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং অঞ্চলে মার্কিন নৌসেনার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
সরাসরি ক্রয় আলোচনা অন্তত দুই বছর আগে শুরু হলেও গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর আলোচনা তীব্রভাবে এগিয়েছে। গত গ্রীষ্মে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক ও সরকারী কর্মকর্তারা চীনে ভ্রমণ করেন, যার মধ্যে ছিলেন ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী মাসুদ ওরাই।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ইরানের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে, এবং এখন সেই চুক্তি কার্যকর করার উপযুক্ত সময়।’
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানান, তারা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির আলোচনা সম্পর্কে সচেতন নয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস সরাসরি এ আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করেনি, তবে একটি কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বা তার পারমাণবিক প্রোগ্রাম নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিএম‑৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় ইরানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকীকরণ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের আগে ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার গত বছরের যুদ্ধে কমে গেছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত China Aerospace Science and Industry Corporation (CASIC) এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে বাজারজাত করছে, যা বিমানবাহী জাহাজ, ধ্বংসাস্ত্র বা স্থলভিত্তিক লক্ষ্যও ধ্বংস করতে সক্ষম।
এ ছাড়া ইরান চীনের সঙ্গে ম্যানপ্যাডস, প্রতিব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি‑স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে চীন ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান সীমিত করার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে।
সূত্র: রয়টার্স





