avertisements 2

কেমন হবে বিএনপির নয়া মন্ত্রিসভা, আলোচনায় যারা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারী,রবিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৮:২৯ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারী,রবিবার,২০২৬

Text

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দীর্ঘ বিশ বছর পর ফের ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় যাচ্ছে দলটি। এমন বিজয়ে দলটির এই কাণ্ডারি বেশ সতর্কভাবে পা ফেলছেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতি সচল ও দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান তারেক রহমান। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে অভিজ্ঞ, দক্ষ, তরুণ ও মেধাবীদের সমন্বয়ে মন্ত্রিপরিষদ সাজাতে চান তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে কারা থাকছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া না গেলেও অনেকের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

দলের একাধিক সূত্র জানিয়েঝে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। তাকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেতে পারেন স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান।

এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, আজিজুল বারী হেলাল, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মোহাম্মদ আলী আসগর মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

মন্ত্রিসভায় স্থান করে নেওয়ার আলোচনায় আরো অছেন নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, শরীফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আফরোজা খান রিতা, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আনম এহসানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, ড. রেজা কিবরিয়া, মো. মোশাররফ হোসেন, দীপেন দেওয়ান ও সাঈদ আল নোমান।

মিত্রদের মধ্যে সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নূরকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। আলোচনায় আছেন মাহমুদুর রহমান মান্নাও (টেকনোক্র্যাট)।

জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে বিজয়ী হলে গঠন করা যায় সরকার। অর্থাৎ মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ আসনে জয়ী হলে সরকার গঠন করতে পারে একটি দল। সেই হিসাবে ৬৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসনে বিশাল জয় নিয়ে এবার সরকার গঠনের পথে বিএনপি। এ ছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসন, এবং আদালতের নির্দেশে ফলাফল স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম ২ ও ৪ আসনের ফল এলে বাড়তে পারে বিএনপির সংসদ সদস্য সংখ্যা। এর সঙ্গে রয়েছে তাদের মিত্রদের আরও ৩টি আসন।

সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সেই সময় তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছিল। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক জয় পেয়েছিল ১৯৫টি আসনে। আর এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ছিল বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে ভোটের মাঠে বিএনপির কাছে বিশাল ব্যবধানে হেরেছে জামায়াত। ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৬৮টি আসনে। তাদের মিত্ররা পেয়েছেন আরও ৯টি আসন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি সর্বশেষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতায় আসে ২০০১ সালে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর মেয়াদ পূর্ণ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র দেন। এর আগে এই দলটিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করতে স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।

সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়। এরপর তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেয় স্থায়ী কমিটি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। প্রথমবার দলের নেতৃত্ব পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয় এনে দিলেন তারেক রহমান। এমন বিজয়ের পর জনগণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উষ্ণ শুভেচ্ছায় ভাসছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, ২০ বছর পর দেশের জনগণ আবার বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে মনে রাখতে হবে, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় দেশি-বিদেশি শক্তি জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে যে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই ষড়যন্ত্র এখনও চলমান। সুতরাং মেধাবীদের পাশাপাশি বিশ্বস্ততার বিষয়টিও আমলে নিয়ে নতুন সরকার গঠনের পক্ষে এই নেতা।
 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2