avertisements 2

জাতীয় পরিচয়পত্র দুটি, বয়স কমিয়ে সরকারি চাকরি!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৩ মে,শুক্রবার,২০২২ | আপডেট: ০৫:৩৪ এএম, ২১ মে,শনিবার,২০২২

Text

আতাউর রহমান সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পারখাতা গ্রামের আব্দুস শুকুর সেখের ছেলে। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক শ্রেণি পাস। ১৯৭৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম তার। তবে এই পরিচয় বেশিদিন রাখলেন না আতাউর রহমান।

দ্বিতীয়বার জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে কমিয়ে নিয়েছেন বয়স। সেই পরিচয় পত্র দিয়ে নিয়েছেন সরকারি চাকরি। বর্তমানে আতাউর সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের আওতায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (ওয়েম্যান) হিসেবে কর্মরত আছেন।

আতাউর নিজের প্রয়োজনে প্রতারণার মাধ্যমে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করিয়েছেন। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি ইতিমধ্যে নজরে এসেছে সিরাজগঞ্জ সদর নির্বাচন অফিস কর্তৃপক্ষের। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে তারা।

২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সবশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, ছোনগাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পারখাতা গ্রামের ভোটার তালিকায় ৯০ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে আতাউর রহমানের নাম। সেখানে তার জন্ম ১৯৭৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বলে উল্লেখ আছে। একই তালিকার ১৫৭ নম্বর সিরিয়ালেও রয়েছে আতাউরের নাম। এবার ১৯৮৩ সালের পহেলা জানুয়ারি তার জন্ম দেখানো হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন অফিসের ওবেব সাইটে দেখা গেছে শুধু বয়স নয়, দ্বিতীয়বার আতাউর তার পেশা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাও পরিবর্তন করেছেন। এতে একবার তাকে স্নাতক পাস এবং অন্যবার পঞ্চম শ্রেণি পাস দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, ৯০ নম্বর সিরিয়ালে পরিচয়ে তার পেশা শিক্ষক থাকলেও ১৫৭ নম্বর সিরিয়ালের পরিচয়ে পেশায় একজন কৃষক উল্লেখ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আতাউর জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কমিয়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি নেন। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের আওতায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (ওয়েম্যান) হিসেবে কর্মরত আছেন।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজার রহমান জানান, আতাউর রহমান প্রথমে ২০০৭ সাথে এবং দ্বিতীয় বার ২০১২ সালে ভোটার হয়েছেন। বর্তমানে তার দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরই সচল রয়েছে। তথ্য গোপন করে দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়া ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আহসানুর রহমান জানান, আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে তার কিছু করার নেই। ব্যবস্থা নিতে পারবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশীর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিপন আলী বলেন, 'আবেদনের তথ্য যাচাই-বাছাই ও পুলিশি তদন্তের পর সেসময়ের নিয়োগ কমিটি আতাউর রহমানকে চাকরি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ নেই। একজনের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা অপরাধ। নির্বাচন কমিশনে যদি সে দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তিনি চাকরিচ্যুত হবেন। '

অভিযুক্ত আতাউর রহমান বলেন, 'চাকরির জন্যই বয়স কমিয়ে দ্বিতীয়বার পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়। আমি প্রথম পরিচয়পত্রটি নষ্ট করতে আবেদন করেছি। ' স্নাতক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আষ্টম শ্রেণির সনদ দিয়ে চাকরিতে ঢুকেছি। ওই তালিকায় পঞ্চম শ্রেণি পাশ উল্লেখ থাকলে তারা ভুল করেছে।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2