avertisements 2

মুক্তিযোদ্ধা- জুলাই যোদ্ধা একটি ডকুমেন্টারী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:৫৪ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর,শনিবার,২০২৬

Text

 ওখানে কে দাঁড়িয়ে! আবছা আলোয়

ইস্পাত কঠিন উদ্যত বজ্রমুষ্টিতে।

কাউ বয় অবয়বের বিমূর্ত ছায়া

যেন আঠার শতকের বিদ্রোহী সিপাহী।


গোঁসাই পাড়ার কানু মাস্টারের 

পোলা গো - আমি চন্দন।

একটু আগে মুন্সি পাড়ার ছেলেরা

এই টি শার্ট আর ক্যাপটা দিয়ে গেল

ওটা পরেই শার্লক হোমস হয়েছি

কেমন লাগছে দেখো তো! 


কই থাকো! আগে তো দেখিনি।

পশ্চিম পাড়ার ওই যে সাত ঘর!

বিশ্বনাথ মন্ডল, তোমাদের বিশু পাহলোয়ান

আমার মামা, মুক্তিযোদ্ধা - 

একাত্তরের বীর! যুদ্ধাহত

ঢাকার মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে থাকতো।

চব্বিশের পাঁচ আগষ্ট স্ক্র‍্যাচটা বগলদাবা

করে সকালেই নেমেছিল - আর ফিরেনি।

 

তুমি আমাদের মিনুর ছেলে! 

তা তোমার বাবা কানু মাস্টার,

কেমন আছেন উনি! 

সেই যে শহরে গেলো

আর তো দেখি নে।

তোমার দাদুর ভিটায়  

বাড়িঘর করেছে বুঝি -

চন্ডিতলার গোসাই পাড়ায়।

গুনেছিলাম মিনুর বড় ছেলেটি

নামকরা আঁকিয়ে হয়েছে।


বাবা গত হয়েছেন বছর পাঁচ হোল

মা এই রসুলপুরেই বাপের ভিটায়।

ছোটবোন শ্রীময়ী মুন্সিপাড়ার 

সরকারী প্রাইমারীতে পড়ায়।

আর আমিই সেই আঁকিয়ে চন্দন

সবাই চাঁদু বলেই চেনে। 

জুলাইয়ের সেই চন্দন - 

কেন মিছিলে দেখনি আমাকে!

এই যে দেখ, বাম হাতটা ভাঙা

হেলমেট বাহিনীর আশীর্বাদ।

পানি লাগবে পানির সেই মুগ্ধ!

পাশেই বজ্রমুষ্টির মুখ - ওটাই আমি।

 

তা বেশ, এখন কি করা হয়!

-পড়াই, ঢাকার চারুকলায়।

মাঝে সাঝে আসতে হয়

চারুকলার পরীক্ষক হয়ে,

চিত্রার পাশ ঘেঁষে বেঙ্গলে। 

আমাদের প্রিয় সুলতানের 

বেঙ্গল আর্ট কলেজ।


তা বাপু পার্টি টাটি কর নাকি

ওই যে এনসিপি নাহ্‌ কি!

বেশ করেছো এটার দরকার আছে

দেশটাকে গিলে খেল

পারিবারিক চাঁদের হাট যেন!

সেরাদের সের দরে বিক্রি করে

ওরা সোয়া’সের হতে চায়।


 ভালই বলেছেন -

এতেই হবে, আমরা এসেছি

বাকীটা আপনারা করবেন।

আর হাঁ, আমি বাংলাদেশী

চাষাভুষা পুর্ব বাংলার বাঙালী।

টালিগঞ্জ কলেজ স্ট্রীটের

বাঙালী বাবু হতে চাইনা।

তেইশ বছর বাঙালী নিজের সাথে 

লড়াই করে নিজেকে চিনিয়েছে

আমাদের বীর - বিশু মামারা। 

পাশের বাড়ির বাঙালী বাবুদের দেখুন! 

পিয়ারী হিন্দুস্তানের যপমালা হাতে

আশিটি বছর কাটিয়ে দিল

এখন বুঝছে হিন্দু হিন্দির ঠেলা! 

বায়ান্ন ঊসত্তরের বিছুটি গায়ে

 সাঁতার শুরু হোল বলে!


খোকা বিশুরা আমাদের ভূখন্ড দিয়েছে

আমরা সেই মাটিতে দাঁড়াতে চাই।

অবশ্যই বীর মুক্তিদের সামনে রেখে

জুলাইয়ের ঘর গুছানোর ডাকে

মামাটাও বেওয়ারিশ হোল।

কি অপুর্ব মেলবন্ধন!

ওরা বাংলার আঁধার ঘরে 

জ্বলন্ত এক মোমের বাতি।


আর এই আমরা! 

স্বাধীন ভূখন্ডের ফুটন্ত গোলাপ

আপন বৈভবে নিজস্ব অস্মিতা 

তৈরীর জ্বলে উঠা বারুদ।

 ওরা মুক্তিযোদ্ধা! দেশের সুর্যসন্তান 

ওদেরই সন্তান - আমরা জুলাই যোদ্ধা,

মুক্তচিন্তায় আপন অস্মিতায়

হেঁটে চলার অতন্দ্র প্রহরী। 

-০-

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2