দিলারা জাহান
বিনা খরচে দাসী পাঠানো অভিযান
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর,রবিবার,২০২৩ | আপডেট: ০২:২৬ পিএম, ২৩ আগস্ট,রবিবার,২০২৬
দেশে বেকার নারীর সংখ্যা কমাতে কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে “গৃহকর্মী”— মানে সুন্দর করে বললে “হাউজ মেইড”, আর সত্যি বললে “ঘরের দাসী”। শুনেছি, যাওয়া বিনা খরচে! শুধু একটু ধৈর্য ধরলেই হুর-পরী হওয়ার প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে মিলে যাচ্ছে।
সরকার বলে, “আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন করছি।”
হ্যাঁ, একদম ঠিক—মধ্যপ্রাচ্যের রান্নাঘরে, লন্ড্রিতে, আর পর্দার পেছনে তাদের ক্ষমতা এখন তুঙ্গে। কোনো নারী যদি নিজের দেশে কাজ না পায়, তাহলে বিদেশে গিয়ে মালিকের শখের খেলনা হতে পারে—এটা বোধহয় নতুন ধরণের নারী উন্নয়ন মডেল।
সৌদি ভিসা অফিসে নাকি নতুন নিয়ম এসেছে—
নারী যাবে, সঙ্গে পুরুষ অভিভাবক যাবে। বাহ, দারুণ বুদ্ধি! এখন থেকে ধর্ষকও সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়ে যাবে। মানে, নারী গেলে “সম্মান রক্ষা কর্মকর্তা” হিসেবে সঙ্গে থাকবে এক গেলমান প্রার্থী—প্যাকেজ ডিল!
ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা—সব দেশ যখন তাদের নারীদের পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে, আমরা তখন গর্বিতভাবে বলি, “না না, আমরাই পারব!” কারণ আমরা জাতি হিসেবে এমন, অন্যরা আগুনে পুড়ে গেলে আমরা গিয়ে হাত গরম করি।
তাদের মেয়েরা যখন নির্যাতনের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে, আমরা তখন টিভিতে বসে বলি, “ওরা ঠিক প্রশিক্ষণ পায়নি।”
বাহ! ধর্ষণের আগেও এখন ট্রেনিং দরকার হয়, এটাই নতুন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম।
সৌদি আরবে এক গৃহকর্মীর মাসিক আয় নাকি ১৫ হাজার টাকা।
অবশ্য, “ধর্ষণ” বোনাস হিসেবে যোগ করলে আয়টা বেড়ে যায়, শুধু টাকাটা মেলে না—মেলে ঘা, ভয়, আর নিঃশেষ মানসিকতা।
তবু সরকার গর্ব করে বলে, “আমাদের নারী শ্রমিকরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিচ্ছে।”
মানে—আমাদের মেয়েরা এখন দেশের রেমিট্যান্সের “বডি কারেন্সি”।
আর ধর্মীয় বুদ্ধিজীবীরা বলেন, “ওরা নিরাপদ, ওখানে পর্দা আছে।”
হ্যাঁ, পর্দা আছে—শুধু ভেতরে যা হয়, সেটা আল্লাহ ছাড়া কেউ দেখে না।
যখন গৃহকর্মী কাঁদে, তার কান্নার আওয়াজ কাবা ঘরের দেয়াল পেরোয় না।
যখন সে ধর্ষণের শিকার হয়, তখন নাকি ওর পাপ—কারণ সে নাকি দাসী, আর দাসীর তো অধিকার থাকে না, তাই না?
আমরা দেখি, শুনি, জানি—তবু চুপ থাকি।
কারণ ডলার আসে।
কারণ অর্থনীতির নাম করে আমরা মানবতার পিঠে কুঠার মারতে অভ্যস্ত।
আমরা এমন এক জাতি, যারা মুদ্রার দিকেই তাকাই, মেয়ে মানুষ মরছে না বাঁচছে, তা দেখার সময় নেই।
একদিন হয়তো ইতিহাস লিখবে—
“বাংলাদেশ তার মেয়েদের মর্যাদা রপ্তানি করেছিল বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে।”
তখনও আমরা গর্ব করে বলব—“দেখো, আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েছে!” ধিক তোমাদের রেমিট্যান্সের যা খরিদ করা হয় নারীর সম্ভ্রম দিয়ে।
লেখকঃ ব্লগার,সমাজকর্মী ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট
লেখকের আরও লেখা
মাঝ আকাশে বিমানে যাত্রীর ল্যাপটপ বিস্ফোরণে আগুন, আহত ৫
বিস্মৃত পরম্পরায় বিমূঢ় এক জাতি - ১
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, রাজপুত্র হলেন বেলজিয়ামের গাড়ি বিক্রেতা
ভারতের বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে দিতে হবে নতুন চার্জ
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আইনমন্ত্রী
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে খুনের মূল রহস্য উদঘাটন, আটক ২
টাঙ্গাইলে ৪ কোটি টাকায় ব্যয়ে নির্মিত সেতুর নেই সড়ক সংযোগ
বাতিল হলো বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশে আরোপ করা ট্রাম্পের ভিসানীতি
সিজারের অপারেশনে পেটে গজ রেখে সেলাই, প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬ এমপি ভোট দেননি, যা জানা গেলো
২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
রাজশাহীতে চলন্ত ট্রেন থেকে তেল চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ১২ সেপ্টেম্বর
রাষ্টপতি নির্বাচন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, বৃহস্পতিবার ভোট
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
নাতিদের জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু



