
জালাল উদ্দিন আহমেদ
দ্বিচারিতা
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৫ এপ্রিল,শনিবার,২০২৫ | আপডেট: ০৩:০৪ এএম, ৬ এপ্রিল,রবিবার,২০২৫

মানুষের জন্ম রহস্য স্থান কাল পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে ধর্ম প্রাধান্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষনও আছে। বিজ্ঞান তার দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে বানরের লেজ কেটে তাকে বিবর্তনের মধ্যে ফেলে মনুষ্য রূপ দিয়ে ধন্য করেছে। তো সেই মানুষ তার সৃষ্টির আদি রহস্য ভেদ করে পাহাড় জঙ্গল জল ডিঙ্গিয়ে হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় আজকের ডিজিট্যাল আলো ঝলমল দুনিয়ার মালিক হয়েছে। তবে অঞ্চল ভেদের বাস্তবতায় মানুষ তার আঞ্চলিক স্বকীয়তায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। আবার আবহাওয়া ও প্রকৃতির কল্যানে মানুষের চেহারা আকৃতি রঙ ও গঠন প্রণালী ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে বিকশিত হয়েছে। এমনকি ভাষা সংস্কৃতিও ভিন্নতায় সমৃদ্ধ হয়েছে। এটাই বোধ হয় সৃষ্টির রহস্য। এই রহস্যময় সৃষ্টির গোঁড়াই হাত দিয়ে আমাদের যেমন বানরের উত্তর পুরুষ হওয়ার প্রয়োজন নেই, তেমনি স্রষ্টার ঐশী প্রদত্ত ব্যক্তি বিশেষকে সমতুল্য করে অন্য কাউকে উপস্থাপন করারও অধিকারপ্রাপ্ত আমরা নই। আমরা স্রষ্টার সৃষ্টি এবং প্রাণীকুলের শ্রেষ্ঠ জীব একথা অনস্বীকার্য। সেভাবেই ইহজাগতিক ভূমন্ডলে আমাদের পথ পরিক্রমা চলমান।
মানুষ নামের এই প্রাণীকুলের আচার-বিচার,ভাষা-সংস্কৃতি,ভব্যতা-সভ্যতা এমনকি তাদের জীবন যাপনের বৈচিত্র থাকলেও, এই বিশ্ব ভূমন্ডলে তারা এক অর্থেই মনুষ্য জাতি এবং সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে স্বীকৃত। সৃষ্টির রহস্য ও তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের নিমিত্তেই হয়তো সৃষ্টির আদিকাল হতেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মানব কল্যানের নিমিত্তে ঐশী ক্ষমতা সম্পন্ন মহা মানবের আবির্ভাব ঘটেছ। এই মহা মানবেরাই স্রষ্টার রহস্য উদঘাটনে ঐশী প্রদত্ত বাণী সমূহ জগত সংসারে প্রকাশ ও প্রচার করে মানুষকে স্রষ্টা বন্দনায় একত্রিত করেছেন। মানুষ তার নিজস্ব স্বকীয়তা বিনির্মানে ধর্মীয় অনুশাসনের বিধি বিধানের মনস্তাত্ত্বিক নির্যাসে নিজেকে প্রস্তুত করেছে।
এভাবেই ধর্মীয় আবরনে পুষ্ট হয়ে মানুষ সামাজিক জীবনকে পুষ্টতা দিয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই সামাজিক পুষ্টতা থেকেই তারা জনপদ গঠনে অগ্রনী হয়েছে। সুতরাং মানুষের আদিম মধ্যম ও আধুনিক বিবর্তনের গ্রাফ চিত্র নিয়ে আমরা যতই বাগাডম্বর করিনা কেন, মূল সূত্র হোল ধর্ম। ভেদাভেদ আছে এবং থাকবেই। এটা প্রকৃতির নিয়ম। তবে এটা বললে ভুল হবে, প্রকৃতিই আমাকে সব শিখিয়েছে। কারন প্রকৃতির অফুরন্ত যোগানে আমরা মানব সন্তানেরা তার সর্বোচ্চ নির্যাস নিংড়িয়ে আমাদের চাহিদার সবকিছু নিজের মত ক’রে আপন করে নিচ্ছি। কিন্তু পরিশীলিত জীবনবোধের মুল মন্ত্র আসে ধর্মীয় আবরনের মধ্য দিয়ে। ধর্মই আমাদের সুষম করে সমাজ সংসারে প্রস্ফুটিত করেছে।
আজকের দিনে ধর্ম পরিচয়ের আত্মরম্ভিতায় বলীয়ান হয়ে মানুষ যে দুরাচারী আচরনে নিজেদেরকে উপস্থাপনে গলদঘর্ম হচ্ছে, তার মূলে রয়েছে সেই সৃষ্টি রহস্যের আদিকথা। কেননা সৃষ্টির আদি সময়ে মনুষ্যকুলে তখন জীবন বাঁচিয়ে টিকে থাকাটাই ছিল চ্যালেঞ্জিং। সেক্ষেত্রে বাহুবল, হিংস্রতা ও গোষ্ঠিবদ্ধভাবে জীবিকা নির্বাহই ছিল তাদের মূল কথা। ধর্ম বর্ণ আচার বিচারের বালাই সেখানে অর্থহীন ছিল বলেই ধরে নেয়া যায়। প্রাণীকুলের অন্যান্য প্রজাতির ন্যায় সৃষ্টির এই ভূমন্ডলে তাদেরকে বাহুবল শক্তিমত্তা ও হিংস্রতার আশ্রয়েই টিকে থাকার সংগ্রামে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হোত। সেই বাহুবল, সেই হিংস্রতা, সেই হিংসা বিদ্বেষ ঘৃণা নিয়েই মানুষ এখনো তার জীবন সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে। সভ্যতার ক্রম বিকাশে মানুষের জন্য সেই হিংসা বিদ্বেষ ঘৃণা শক্তিমত্তা প্রয়োগের বর্বরতা আজ পরিমার্জিত ও পরিশীলিত আকারে বিরাজ করছে। তবে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের এই কাম ক্রোধ মোহ মদ মাৎসর্যকে মানুষ কখনোই বিসর্জন দিতে পারেনি। এই ইন্দ্রীয় শক্তির পঞ্চনামা যখনই মানব চেতনায় মাত্রাতিরিক্ত আকারে প্রয়োগ হয়েছে তখনই সৃষ্টির এই সাজানো মানব সমাজে অনাচার অত্যাচারের মোড়কে ধংস ও বিশৃংখলার সূত্রপাত হয়েছে। অর্থাৎ সৃষ্টির আদি আচরনে প্রাণীজগতের সমপর্যায়ে বিচরন করা মানবকূল সময়ের বহমানতায় যতই শিক্ষা সভ্যতা জ্ঞান বিজ্ঞান বিত্ত বৈভব ও ধর্মাচারনে পরিমার্জিত বা পরিশীলিত হোক না কেন, তার জন্ম রহস্যের আদিমতা থেকে সে কি কখনো মুক্ত হতে পেরেছে?
হিংসা বিদ্বেষ মোহ মদ মাৎসর্য আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ন্যুনতম মানবিক মূল্যবোধেও মানুষ আজ বিচলিত বা লজ্জাবোধে আড়ষ্ঠ হয় না। - একজন বাঙালী রাজনীতির কুলাঙ্গার, ২০২৪ এর কচি বাচ্চাদের জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের আগেও মহা পরাক্রমশালী শাসক ছিলেন তিনি। দেশের তথাকথিত ঘুনে ধরা (গণতান্ত্রিক) রাজনীতির কোন কৌশলই তাকে গদিচ্যুত করতে পারেনি। সেই দোর্দন্ড প্রতাপশালী স্বৈরশাসক সামান্য এক ছাত্র সমাজের বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনে পর্যদস্তু হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন এবং পরিবার পরিজন নিয়ে দেশ ছেড়ে প্রানে বাঁচলেন। তথাকথিত বন্ধুবেশী প্রতিবেশীর রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে তিনি এখন তাদেরই আস্কারায় নিজ দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টিতে ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। দেশে রেখে যাওয়া এক পাল্প বস্তাপচা তথাকথিত রাজনীতির কীট তার এই অপকর্মে সাড়া দিয়ে নিজ দেশে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করছে। সেক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তকমা লাগানো বন্ধুবেশী প্রতিবেশী এবং তার রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিভাবে এই অনৈতিক কর্মকান্ডের সহযোগী হচ্ছে সেটাই মাথায় আসে না। একজন গণধিকৃত এবং বিতাড়িত স্বৈরশাসককে মানবিক মূল্যবোধের কোন প্রফাইলে ফেলে এই অনৈতিক কর্মকান্ডের যৌথ প্রযোজকের ভূমিকায় বন্ধুবেশী প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি এই কাজটি করছেন বা করাচ্ছেন সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন। এছাড়া নিজদেশে হাজারো সাম্প্রদায়িক অরাজকতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত দেশটি পার্শবতী দেশ সমূহের প্রায় সবার সঙ্গেই বিভিন্ন অর্থনৈতিক সামাজিক সামরিক বিষয়ে খরদারির খেসারতে আজ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। একমাত্র অবশিষ্ট বন্ধু প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে দাদাগিরি দেখাতে গিয়ে এবং নিজ দেশের সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে আড়াল করতে গিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মিথ্যে প্রচারনায় নেমে নিজেদেরকে নিজেরাই এখন হেয় প্রতিপন্ন করছে। ফলশ্রুতিতে অবশিষ্ট পরীক্ষিত প্রতিবেশী বন্ধু হিসাবে বাংলাদেশকেও আজ তারা হারাতে বসেছে।
- গত শতাব্দীর আশির দশকে আরব বসন্তের সেইসব সুখময় দিনগুলিতে আফ্রো-এশীয় দেশগুলি যখন নিজেদের শক্তি সামর্থ্যের চুড়ান্ত লক্ষ্যে এগোচ্ছিল তখন সামান্য এক রাসায়নিক/জৈবিক বোমায় সংখ্যালঘুদের হত্যার মিথ্যে অভিযোগে দুনিয়ার মোড়ল রাষ্ট্রটি আরব দেশগুলির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিল। যার খেসারতে সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশগুলি আজ ছন্নছাড়া এবং অভ্যন্তরীন গৃহ বিবাদে জর্জরিত। মানুষের বিবেক বিবেচনা এবং মনুষ্য আচার বিচারের কোন্ স্তরে এই অমানবিক ধংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল সেটাই বোধে আসেনা।
- স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক অভিশপ্ত ঘোষিত একটি জাতিস্বত্ত্বাকে প্রতিষ্ঠিত করার মনোবাসনায় বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্র সমূহ ফিলিস্তিন নামক পবিত্র মাটির একটি দেশে সেই অভিশপ্ত জাতিকে পুনর্বাসিত করে তাদের রাষ্টের পত্তন ঘটিয়েছে। আর সেই অভিশপ্ত জাতিস্বত্ত্বার আশ্রিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি আজ আশ্রয়দাতা দেশটির জন্য বিষফোঁড় হয়ে আশ্রয়দাতাকেই আশ্রয়হীন করার মদ মত্ততায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে এসবের মদদ তারা পাচ্ছে ঐসব শক্তিধর বড় বড় রাষ্ট্রগুলির কাছ থেকে। মানবতার ফেরিওয়ালা সেজে শক্তিধর মোড়ল রাষ্ট্রগুলি প্রতিনিয়ত অনৈতিকভাবে সেই অভিশপ্ত দখলবাজ জাতি রাষ্ট্রটিকে শক্তি ও অর্থের সবটুকু দিয়ে নিজেদের দ্বিচারিতাকে হালাল করে চলেছে।
এভাবেই মানব জাতির অর্জিত সভ্যতা কৃষ্টি ও কালচার আজ তার পুরনো জন্মলগ্নের আদিমতায় পরিপুর্ণ হতে যাচ্ছে। পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের অশুভ শক্তির ছটায় মনুষ্য অর্জনের আচার আচরন নৈতিকতা সহমর্মিতা মানবতা সবকিছু আজ ফ্যাকাশে রক্তহীন জড় পদার্থে পরিণত হয়ে পড়েছে। মানুষ তার সৃষ্টির আদিমতম সময়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুখ ও মুখোশের দ্বিচারিতায় পৃথিবী আজ অশান্তির ছোবলে ধুকে ধুকে ঝাঁঝরা হয়ে পড়ছে। সভ্যতার অতি ছোঁয়ায় মানব চরিত্রের মানবতা ও নৈতিকতা আজ কচু পাতার ফোঁটাজল হয়ে সৃষ্টি জগতে লুকোচুরি খেলার উন্মত্ততায় অট্টহাসি হাসছে।

এক যুগ পর হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান রাজনৈতিক সংলাপ

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরও ২০১৬ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরায়েল যান অনন্ত-বর্ষা

জিবলি বানিয়ে হ্যাকারের ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো?

ভারত থেকে ফের সংঘাতের বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা

প্রথম ধাপে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

দ্বিচারিতা

অবশেষে শুক্রবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন ইউনূস-মোদি

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনারের পরিচয়পত্র পেশ

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে প্রাণহানি ছাড়াল ২৭০০

সবার আগে ঈদের তারিখ ঘোষণা করলো অস্ট্রেলিয়া

২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেল বাংলাদেশ

ব্যাংককে ভূমিকম্পে ধসে পড়ল ভবন, আটকা ৪৩

ফ্ল্যাট, প্লট, ঘের, খামার—সবই আছে অপূর্বর

ডিসির বাংলোর গর্তে মিললো সংসদ নির্বাচনের সিলমারা বিপুল ব্যালট

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা বাংলাদেশে, উচ্চ ঝুঁকিতে ৪ অঞ্চল

দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!

গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!

কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক

সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু

সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন

অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ

অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা

কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার

হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার

খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি

কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু

মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু

হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক
