avertisements 2

রোহিঙ্গা: উখিয়ায় দুর্গম পাহাড়ের ঢালে গভীর রাতে গুলিতে দুজন নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১০ আগস্ট, বুধবার,২০২২ | আপডেট: ০৯:৩৯ এএম, ২ এপ্রিল, বুধবার,২০২৫

Text

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের গুলিতে দুইজন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরান হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ক্যাম্প-১৫ এর সি ৯ ব্লকের দুর্গম পাহাড়ে ঢালে রাত পৌনে বারটার দিকে ওই দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহতরা হলেন হেড মাঝি আবু তালেব ও একই ক্যাম্পের সাব ব্লক মাঝি সৈয়দ হোসেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মাঝি বলতে নেতা বোঝানো হয়। এ নিয়ে এ ক্যাম্পে এলাকাতেই গত দু মাসে তিন জন নিহত হলো।

পুলিশ ও স্থানীয় রোহিঙ্গা সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহত দুজন রাতে ক্যাম্প এলাকার পাহাড়ি অংশে উঠেছিলো এবং সেখানেই তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এগার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আছে বাংলাদেশের শরনার্থী শিবিরগুলোতে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরান হোসেন বলছেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক পেতে কেউ কেউ পাহাড়ে ওঠেন বিভিন্ন সময়ে এবং যতটুকু জানা যাচ্ছে নিহত দুজন মোবাইল নিয়ে সেখানে উঠেছিলেন।

"সেখানেই যেহেতু তাদের গুলি করে হত্যা করে হয়েছে তার মানে হলো হত্যাকারীরা হয় নিহতদের পরিচিত ছিলেন বা তাদের অনুসরণ করেই হত্যাকারীরা সেখানে গেছে। পুলিশ এসব বিষয় মাথায় নিয়েই অভিযান পরিচালনা করছে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

এর আগে গত জুন মাসেও মধুরছড়া এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোহাম্মদ শাহ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছিলো। পুলিশ বলেছিলো অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা নিজের ঘরের সামনেই গুলি করেছিলো তাকে। পরে তিনি মারা যান।

এছাড়া গত নভেম্বরে র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় দুজন রোহিঙ্গা। যাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনেছিলো র‍্যাব। বাংলাদেশে সব মিলিয়ে এগারো লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের অনেকেই অনিবন্ধিত আশ্রয় শিবিরগুলোয় বসবাস করে।

বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলি, নিহত ১ নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করলেও প্রায়শ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করলেও প্রায়শ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হতাহতের ঘটনা ঘটে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আধিপত্য নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা কিংবা পাল্টা হামলার ঘটনা প্রায়শই ঘটে।

তবে গত বছর অক্টোবরে রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যার পর রোহিঙ্গাদের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই সামনে চলে আসে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মিস্টার মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠান করেছিলেন।

ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি 'মাস্টার মুহিবুল্লাহ' নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের জন্য তার পরিবারের সদস্যরা আরসা নামের একটি সশস্ত্র সংগঠনের সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছিলেন।

নব্বই-এর দশকের শুরুতে রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসে তখন থেকেই ক্যাম্পগুলোতে আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি আর্মি বা আরসা নামের একটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এই গ্রুপের নেতারা সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছেন।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2