avertisements 2

ফের ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি প্রশ্নবিদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৭ জুন,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ১১:২৮ পিএম, ২৭ জুন,শনিবার,২০২৬

Text

সদ্য স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ চলাকালীনই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনায় পরস্পরের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট নতুন এই উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক কার্যক্রম দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়োজিত সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে তারা এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন বাহিনী তেহরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোকে’ লক্ষ্য করে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে তারা। এই হামলার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লিখেছেন, “ইরান একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং আমরা মার্কিন পক্ষ থেকে সেই চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলেছি। সমঝোতা স্মারক কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাদের যদি কোনো আপত্তি বা সংশয় থেকে থাকে, তবে তারা আলোচনার টেবিলে কথা বলতে পারত।” তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আরও যোগ করেন, “সহিংসতার জবাব সবসময় সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আকস্মিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ওয়াশিংটন বরাবরের মতোই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি লঙ্ঘন করার পুরোনো অভ্যাস বজায় রেখেছে। আইআরজিসি পাল্টা দাবি করেছে যে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন থাকা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। একই সাথে তারা মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, “ভবিষ্যতে এই ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব আরও ব্যাপক, মারাত্মক ও কঠোর হবে।”

মার্কিন এই হামলার পর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন নীতি ও নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নীতি কিংবা আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির প্রতি মোটেও শ্রদ্ধাশীল নন।” আজিজি যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক বেপরোয়া ও নগ্ন লঙ্ঘন’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সংঘাতের পর গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমবে বলে বিশ্ববাসী আশা করেছিল। তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে এই হামলা এবং এর জেরে দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ সেই আশাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বর্তমান এই নতুন সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আবারও চরম অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা।

avertisements 2