avertisements 2

যুক্তরাজ্যে নতুন অভিবাসন নীতি

ব্রিটেনে নাগরিকত্ব হারানো ঝুঁকি, তালিকায় বাংলাদেশিসহ ৯০ লাখ মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৫ ডিসেম্বর,সোমবার,২০২৫ | আপডেট: ০৫:৫৮ পিএম, ৩১ জানুয়ারী,শনিবার,২০২৬

Text

যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান বংশোদ্ভূতসহ প্রায় ৯০ লাখ মানুষ। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রানিমিড ট্রাস্ট এবং আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের সংগঠন রিপ্রিভ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন এমনটাই বলছে। মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। রানিমিড ট্রাস্ট এবং রিপ্রিভের গবেষণা বলছে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতায় আইনগতভাবেই নাগরিকত্ব হারাতে পারেন যুক্তরাজ্যে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ; যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ। বর্তমান আইনে সরকার যদি মনে করে যেকোনো ব্রিটিশ নাগরিক অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে। এমনকি তিনি সেই দেশে কখনো বসবাস না করে থাকলেও বা নিজেকে সে দেশের নাগরিক বলে মনে না করলেও, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর নাগরিকদের ঝুঁকিতে ফেলছে। বর্তমান ‘নাগরিকত্ব বাতিলের ব্যবস্থা’ এখন মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি পদ্ধতিগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ এসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিষয়টিকে বিশ্লেষকরা, ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ‘উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারি’র সঙ্গে তুলনা করছে। অধিকারকর্মীদের মতে, এর ফলে নাগরিকত্বের একটি বর্ণভিত্তিক স্তরবিন্যাস তৈরি হয়েছে। এতে মুসলিমদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার শর্তসাপেক্ষ হয়ে পড়ছে, যা শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রিপ্রিভের মায়া ফোয়া মিডল ইস্ট আইকে বলেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আগের সরকার মানব পাচারের শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল। আর বর্তমান সরকার এই চরম ও গোপন ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ৯০ লাখ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেন, তাদের জন্য এটি (এ চরম ও গোপন ক্ষমতা) বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে যদি পুরোপুরি কর্র্তৃত্ববাদী কোনো সরকার সামনে ক্ষমতায় আসে।

রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যথেচ্ছ কর্র্তৃত্ব ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শাবনা বেগম মিডল ইস্ট আইকে বলেন, উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী আইনগুলোর মতোই এখানে কার্যকর কোনো নজরদারি ব্যবস্থা নেই, যা এ ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার ঠেকাতে পারে। তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব কোনো সুযোগ নয়, এটি একটি অধিকার। অথচ একের পর এক সরকার নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে দ্বিস্তরের নীতি চালু করছে। ফলে বিপজ্জনক একটি নজির তৈরি হচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2