avertisements

জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক: চীন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬:১৮ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর,শনিবার,২০২০ | আপডেট: ০৭:২১ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,২০২০

Text

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন অভিযোগ তুলে অস্ট্রেলিয়ার এক সাংবাদিককে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আটকে রেখেছে চীন।

আটক চেং লেই ‘চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক’ এর (সিজিটিএন) একজন উপস্থাপক।

চীনের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘তার অপরাধ কার্যক্রম চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করছে’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

বিবিসি জানায়, গত ১৪ অগাস্ট চেংকে আটক করা হয়।

ইংরেজি ভাষার চ্যানেল সিজিটিএন-র প্রভাবশালী বাণিজ্য প্রতিবেদকদের একজন চেং। তিনি বেইজিংয়ে কাজ করছিলেন।

গত অগাস্টে হঠাৎ করেই তাকে আর টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছিল না। বন্ধু এবং স্বজনদের সঙ্গেও তার কোনও যোগাযোগ ছিল না। প্রাথমিকভাবে চীন বলেছিল, তাকে অজ্ঞাত স্থানে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে। তখন তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।

কিন্তু এখন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলছেন, চীন সরকার ‘জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে’ তাকে আটক করেছে।

‘‘কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।”

এ বিষয়ে আর কোনও তথ্য দেননি চীনা ওই কর্মকর্তা। চেংয়ের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ‘অপরাধের’ অভিযোগে তদন্ত হচ্ছে সেটাও পরিষ্কার না।


ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিং-ক্যানবেরা সম্পর্কের অবনতি এবং চেং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, আটক হতে পারে এই ভয়ে আস্ট্রেলিয়ার আরও দুই সাংবাদিক চীন ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

তার হলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ব্যুরোর চীন প্রতিনিধি মাইকেল স্মিথ ও অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) প্রতিনিধি বিল বার্টলস। মঙ্গলবার সকালে তারা দু’জন সিডনিতে পৌঁছান বলে জানায় দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

অস্ট্রেলীয় ওই দুই সাংবাদিকের উপরও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল চীন। পরে বেইজিং ও ক্যানবেরার মধ্যে পাঁচ দিনের কূটনৈতিক দরকষাকষি শেষে চীন ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তারপরই তড়িঘড়ি করে ওই দুই সাংবাদিক দেশে রওয়ানা হন।

দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে তাদের দু’জনকেই চীনা কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে।

কয়েকদিন আগে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাংহাই ও বেইজিংয়ে স্মিথ ও বার্টলসের বাসায় আচমকা হানা দেয়। তারপর থেকেই দুই সাংবাদিক আটক হওয়ার আতঙ্কে ভুগছিলেন।

গত কয়েক বছরে নানা কারণে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অনেক দিনের। তবে সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে চীনের অবহেলা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তে অস্ট্রেলিয়া সমর্থন দেওয়ায় সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে।

আরও পড়ুন

avertisements