অস্ট্রেলিয়া বিএনপির খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১২ জানুয়ারী,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:৩৩ এএম, ১২ জানুয়ারী,সোমবার,২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৪ জানুয়ারি, রবিবার, সিডনির লাকেম্বা লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এক বিশেষ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দোয়া পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার উলামা ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক এবং ইসলামিক কালচার প্রোপাগেশন সেন্টারের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম। মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, জিয়া সাইবার ফোর্স-জেএডসিএফ এর নেতৃবৃন্দ এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়দার আলীর সঞ্চালনায় উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি এ.এফ.এম. তাওহীদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে বলেন, “তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধু থেকে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এসে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশকে গড়ে তোলেন।” বক্তারা আরও বলেন, “তিনি স্বৈরাচার সরকারের শত জুলুমের পরেও দেশের মানুষকে ভালোবেসে দেশের মাটিতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই আত্মত্যাগ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।”
বক্তারা তার অবদানকে স্মরণ করে বলেন, “তিনি কোটি মানুষের মনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীনতায় চির অমর হয়ে থাকবেন। শত বছর পরেও জন্ম নেওয়া শিশুটি জানবে, বাংলাদেশে একজন আপোষহীন নেত্রী ছিলেন, যিনি দেশের স্বার্থে এক চুলও কাউকে ছাড় দেননি। তার জানাজায় লাখো কোটি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।”
"বাংলাদেশ আজ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপোষহীন নেত্রী, যিনি তার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের জন্য। খালেদা জিয়া এক জীবনে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। তার লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ছিল জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। তিনি ছিলেন এক আলোকবর্তিকা, যার আলো আমাদের প্রেরণা যুগিয়েছে এবং শক্তি দিয়েছে সবচেয়ে কঠিন সময়ে।"
"তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রকৃত অভিভাবক, যিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, গ্রেফতার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কিন্তু কখনো তার দেশপ্রেম এবং দেশের প্রতি তার দায়বদ্ধতা কমেনি। তার ত্যাগ ও সংগ্রাম ছিল গভীর এবং একান্ত, যা বাংলাদেশের জনগণ কখনো ভুলবে না। তার জন্য দেশ এবং দেশের মানুষই ছিল তার পরিবারের অংশ, তার অস্তিত্ব। তার জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ এবং জনগণের সেবায় নিবেদিত। তিনি রেখে গেছেন এক অমূল্য ঐতিহ্য যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ তার মৃত্যুতে আমরা শুধু একজন নেত্রীকেই হারাইনি, হারিয়েছি দেশের জন্য আপোষহীন একজন সংগ্রামীকে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও মানবিক অবদান ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক বিশাল পথচিহ্ন হয়ে থাকবে।"
এই দোয়া মাহফিলে বক্তব্য প্রদান করেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি সহ-সভাপতি সেলিম লকিয়ত, আশরাফুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, শাহ্ আলম, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চন শাহীন, যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুস সামাদ শিবলু, কোষাধ্যক্ষ কে এম মনজুরুল হক আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম শফিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভী আহমেদ, গেলাম ফারুকী নাদিম, আসওয়াদুল হক বাবু, অস্ট্রেলিয়া যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, অস্ট্রেলিয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শিবলী, সহ-দপ্তর সম্পাদক রেজানুর রহমান রুপন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম ও মামুন।
আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ড. মনিরুজ্জামান, অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সহ-সভাপতি জয় আহমেদ সুলতান , যুগ্ম-সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মিঠু, দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান লাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান তুহিন, অস্ট্রেলিয়ার বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ খাজা দাঊদ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক ও জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ শাখার সদস্য সচিব মো: বাদশা বুলবুল, বিএনপি নেতা মোবারক মিয়া প্রমুখ।
আরও পড়ুন
এই বিভাগের আরো খবর
সিডনিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভা ও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত
অস্ট্রেলিয়া বিএনপির উদ্যোগে সিডনীতে শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা
সিডনিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন নেপথ্যে তারেক রহমান, শীর্ষক বইয়ের দ্বিতীয় মোড়ক উম্মোচন
সিডনিতে ‘বাংলাদেশ ডেমোক্রেসি সামিট ২০২৫’: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার ডাক





