শেকলবদ্ধ পঞ্চাশ
অজল জালাল
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ মার্চ,শনিবার,২০২২ | আপডেট: ০৩:২৩ এএম, ২ এপ্রিল,
বুধবার,২০২৫

১
পথ চলায় বড্ড
হোঁচট খাচ্ছি আজকাল।
সিকি শতাব্দী আগেও
ছিল না এসব।
কি সব আইন কানুন
নিয়মের শেকল।
২
বাঙালীর কপাল বড় পোড়া
মধ্য আগষ্টের সেই সাতচল্লিশে
ভিন জাতীয় উলোট করা গন্ধ।
বছর ঘুরতেই মুখের ভাষা
কেড়ে নেয়ার উলঙ্ঘ ঘোষনা
মাথায় বাজ পড়ার সূচনা।
৩
ধর্মমতে এক হওয়া
বিজাতীয় শাসনের তেইশটি বছর।
বায়ান্ন চুয়ান্ন করে
ঊনসত্তরে মুষ্টিবদ্ধ হাত।
একাত্তরে এসে যোদ্ধা
বাঙালী স্বমহিমায় ভাস্মর।
৪
আপন অস্তিত্বের উঠানে একাত্তরে
বাঙালী জমিন পেল।
পেল আর বলি কেন!
ছিনিয়ে আনলো লক্ষ বলিদানে।
বাঙালীর রাজনীতি রাষ্ট্রনীতি
সবকিছু আপন বৈভবে।
৫
শুরুর মহালয়া ষষ্ঠিতেই কাত,
স্বাধীন দেশের নির্বাচন!
ছাপ্পা আর ছিনতাইয়ের
মহোৎসব যেন।
মহান নেতার মুখ চেয়ে
তবুও স্বস্তির নিঃশ্বাস।
৬
ক্ষমতার উপচে পড়া বৈভবে
রাজনীতির অনুশীলন যেন
কচুপাতার ফোঁটা জল।
মহানায়কের ছত্রপতি সাজার
ফরমানে একদল একনেতা
নতুন সাম্রাজ্যের পত্তন!
৭
দুর্ভাগা বাঙালীর কাল্ রাত্রি
ফিরে এলো ফের সেই মধ্য আগষ্টে।
বাকরুদ্ধ বাঙালীর শিরোমনি
পিষ্ট হলো বুটের আঘাতে।
সেই থেকে পনেরটি বছর
পোষাকী-আশেকীর বৃহস্পতি যেন।
৮
পিতা ঘোষকের জজবায়
ফিরে এলো গণতন্ত্র!
হেরিডিটির শিকলবদ্ধ আবরনে।
এ জমিনে আমরাই
কার ঘাড়ে কটা মাথা
ভিন্নমত পোষনে সক্ষম!
৯
মহানায়ক-সিপা্হশালারের পরম্পরা আর শেকড় বাকড়ের পসার
ক্ষমতার সিঁড়িপথে একচোখা দৈত্য।
বাংলার গণতন্ত্র আর নির্বাচন!
এভরিথিং ফেয়ার এন্ড লাভলি
শুধু তালগাছটা আমার!
১০
অবিশ্বাসের বেড়াজালে
একবার গলেছিল পাথর।
কেয়ার টেকারের ঘাড়ে চড়ে
স্বস্তির নিঃশ্বাস পনেরটি বছর।
সেটাও উবে গেল-
নিরঙ্কুশের আস্ফালনে!
১১
দলীয় সরকারের পদতলে
সবকিছু এক নিঃশ্বাসে-
এটাই গণতন্ত্রের শেষকথা!
অবশেষে যা হবার তাই
নির্বাচন ভোটাধিকার! সব ঠিক
শুধু তাল গাছটার মালিকানা বাদে।
১২
তাইতো বলছিলুম
চলতে বড্ড হোঁচট খাচ্ছি।
একপক্ষীয় দৈত্যের গরল নিঃশ্বাস
কালাকানুনের তারছেঁড়া শেকল,
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও
শ্বাসরুদ্ধ বাঙালীর ওষ্ঠাগত প্রাণ।