মুচলেকা দিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি, সাবেক স্পীকার শিরীন শারমিনের
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনগত জটিলতা ও পাসপোর্টসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা কাটলেই তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তথ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পদত্যাগের পর থেকেই তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত। মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও যোগাযোগ সীমিত করেছেন বলে জানা যায়। সামাজিক অনুষ্ঠান থেকেও দূরে রয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবার-পরিজনের কাছেও স্পষ্ট তথ্য নেই।
গণঅভ্যুত্থানের সময় তার সরকারি বাসভবনে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার পর তিনি ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন—এমন তথ্যও আলোচনায় রয়েছে। পরবর্তীতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন না বলেও জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানায়, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি “মুচলেকা” বা শর্তসাপেক্ষ সমঝোতার বিষয় আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে আপাতত সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ না নেওয়ার শর্ত থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, তিনি এখনো নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। এদিকে তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, প্রাথমিকভাবে কানাডা বা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইউরোপের অন্য কোনো দেশও গন্তব্য হতে পারে।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতাও তার বিদেশযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ই-পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়ম হয়েছে, যা এখন তদন্তাধীন।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ এপ্রিল গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও রংপুরে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে সবকিছু বিবেচনা করেই জামিন দিয়েছেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।





