avertisements 2

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি, আমি দেশে ফিরতে চাই : গাজায় আটকে পড়া হুসাইনের আকুতি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১০ সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:৫২ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,২০২৬

Text

গাজায় আটকে পড়া হুসাইন ছবি: সংগৃহীত

বাবার চাকুরির সুবাদে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাংলাদেশ ছেড়ে ফিলিস্তিনে পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের সন্তান আবু হুসাইন কারিম রালী। তার বাবা ছিলেন ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতের দেহরক্ষী। পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তার পরিবার স্থায়ীভাবে গাজাতেই থেকে যায়। তবে দীর্ঘ বছর পর বর্তমানে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও তীব্র সংকটের মুখে পড়ে পাঁচ সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে স্বদেশে ফেরার আকুল আকুতি জানিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি। 

শৈশব পেরিয়ে যৌবনে পা রাখার পর গাজায় এক ফিলিস্তিনি নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন হুসাইন। একে একে তাদের পাঁচ সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে তার বয়স ৩৫ বছর। গাজায় বসবাস করলেও তার মন পড়ে থাকে জন্মভূমি বাংলাদেশে। সন্তানদের কাছেও প্রায়ই নিজের দেশ ও শৈশবের গল্প করেন তিনি।

চারদিক থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসন ঘিরে থাকলেও গাজায় ইমামতির সীমিত আয় দিয়ে জীবনের প্রথম দিকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মোটামুটি ভালোই দিন কাটছিল তার। এমনকি ২০১৪ সালের যুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা গাজা ছেড়ে চলে গেলেও আবু করিম থেকে যান। যুদ্ধ, গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও গাজার মানুষের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।


তবে এবারের যুদ্ধ তার জীবনের সব হিসাব যেন ওলটপালট করে দিয়েছে। স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে প্রতিটি দিন কাটছে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও অভাবের মধ্যে। যুদ্ধের হামলায় প্রাণ হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটানোর শঙ্কাই এখন তাকে বেশি তাড়া করছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে চান আবু করিম। সম্প্রতি মিশরে এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদকের কাছে বাংলাদেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান তিনি। আরবিতে লেখা ওই বার্তায় নিজের পরিবার ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতির করুণ চিত্র তুলে ধরেন আবু করিম।

বার্তায় তিনি লেখেন, ‘সর্বশেষ যুদ্ধটি যেন আমার জীবনে সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে এসেছে। যুদ্ধের কারণে জীবনধারণের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদের তীব্র সংকটে পড়েছি। পরিবার নিয়ে গাজা থেকে বের হওয়ার জন্য আমি বারবার চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত আমার কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় এখনো প্রকৃত অর্থে যুদ্ধ শেষ হয়নি। চারদিকে ভয় ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, আর অবরোধও প্রায় পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। আমি এখনো আমার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে গাজা থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছি। গাজার সাধারণ মানুষের মতো আমিও প্রতিদিন নানা ধরনের সংকট ও অভাবের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি। আল্লাহ ছাড়া আমাদের কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহই আমাদের সহায়।’ 

মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের সহযোগিতায় কাজ করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হুজাইফা খান জানান, পরিবারটিকে প্রথমে মিশর হয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসার একটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

পরবর্তীতে জর্ডান হয়ে আবু করিম ও তার পরিবারকে বাংলাদেশে নেওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য পথ নিয়েও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

এমন বাস্তবতায় স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন গাজায় আটকে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু হুসাইন কারিম রালী।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2