avertisements 2

অস্ট্রেলিয়ার OAM পদক পেলেন বাংলাদেশি অধ্যাপক শাহজাহান খান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:০৭ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,২০২৬

Text

ব্রিসবেন: অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেডেল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া (OAM) পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক এমেরিটাস অধ্যাপক শাহজাহান খান।

১৭ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের গভর্নমেন্ট হাউসে এক অনুষ্ঠানে কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর ড. জেনেট ইয়ং তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক তুলে দেন।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ডে উপলক্ষে অধ্যাপক শাহজাহান খানকে OAM দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার ইসলামিক সম্প্রদায়ের প্রতি সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

গবেষণা থেকে সমাজসেবা

অধ্যাপক শাহজাহান খান শুধু অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ নন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি একজন স্বীকৃত পরিসংখ্যানবিদ।

১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন তিনি। এর আগে কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে গাণিতিক পরিসংখ্যানে পিএইচডি করেন। ১৯৯৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডে (UniSQ) যোগ দেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ফাউন্ডিং প্রফেসর অব স্ট্যাটিস্টিকস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিক্যাল কনসাল্টিং ইউনিট। তাঁর তত্ত্বাবধানে ২০ জন শিক্ষার্থী পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২৬০টির বেশি।

পরিসংখ্যান বিষয়ে তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে Meta-Analysis Methods উল্লেখযোগ্য। তিনি Journal of Applied Probability and Statistics-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদকও ছিলেন।

গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি ISESCO Gold Medal, ISOSS Gold Medal এবং Q M Hossain Gold Medalসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

টুওম্বায় মসজিদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা

একাডেমিক জগতের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সমাজের উন্নয়নেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন অধ্যাপক শাহজাহান খান।

তিনি Islamic Society of Toowoomba-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং Toowoomba Islamic Charitable Trust-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে একটি সাবেক চার্চ ভবন অধিগ্রহণ করা হয়, যা পরে টুওম্বার প্রথম মসজিদে রূপ নেয়।

মুসলিম ও অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে তিনি টুওম্বার বার্ষিক আন্তর্জাতিক খাদ্য উৎসব ও Mosque Open Day আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব আয়োজনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ অংশ নেন।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ পুনর্নির্মাণ

২০১৫ সালে টুওম্বার Garden City Mosque-এ দুটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মসজিদটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগে তখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অধ্যাপক শাহজাহান খান।

মুসলিম ও অমুসলিম—দুই সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। পরে নির্মিত নতুন মসজিদে ৫০০-এর বেশি মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আন্তধর্মীয় সম্প্রীতিতে কাজ

অধ্যাপক শাহজাহান খান দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় আন্তধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজনীতিক, মেয়র, কাউন্সিলর, ধর্মীয় নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে কাজ করেছেন।

তিনি Islamic Council of Queensland এবং Australian Federation of Islamic Councils-এর সঙ্গেও দায়িত্ব পালন করেছেন। UniSQ-তে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত Multicultural Staff Network-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।

শরণার্থী, নারী, তরুণ এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তহবিল সংগ্রহেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশেও দায়িত্ব পালন

অধ্যাপক শাহজাহান খান ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত Asian University of Bangladesh-এর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২২ সালে UniSQ তাঁকে Professor Emeritus হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরের বছর তাঁর নামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Professor Shahjahan Khan Scholarship চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

তিনি Bangladesh Academy of Sciences-এর Expatriate Fellow হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন।

দীর্ঘ একাডেমিক জীবন, গবেষণা এবং অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ—এই দুই ধারার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এবার OAM পেলেন অধ্যাপক শাহজাহান খান।

ব্রিসবেনের গভর্নমেন্ট হাউসে তাঁর হাতে পদক তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলো।
 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2