যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে চীন, মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১১ এপ্রিল,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:৪৫ এএম, ১২ এপ্রিল,রবিবার,২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মাঝেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নের বরাতে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমরাস্ত্র ইরানে পৌঁছাতে পারে।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বড় ভূমিকা রাখার দাবি করার পর এমন গোয়েন্দা তথ্যকে অত্যন্ত 'উসকানিমূলক' হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে, যেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তাঁর দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, চীন সরাসরি এই অস্ত্র না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। মূলত চালানের উৎস গোপন রাখতে এবং আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতেই এই কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে করে বেইজিং একদিকে নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে চাইছে, আবার অন্যদিক দিয়ে মিত্র ইরানের সাথে সামরিক সখ্যতা বজায় রাখছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন মূলত ইরানের কাছে ‘ম্যানপ্যাড’ (কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য বিমান বিধ্বংসী) ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে এই অস্ত্রগুলো মার্কিন নিম্ন-উচ্চতার বিমানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে এই অস্ত্রগুলো পুনরায় মার্কিন বাহিনীর জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, চীন সংঘাতের কোনো পক্ষকেই কখনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি এবং এ সংক্রান্ত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বেইজিং উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে একে একটি 'উদ্দেশ্যমূলক গুজব' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, বিমানটি একটি কাঁধে রাখা তাপ-সন্ধানী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে। ইরানও একটি ‘নতুন’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল, তবে সেটি চীনের তৈরি কি না তা এখনও অস্পষ্ট।
যুদ্ধের শুরু থেকেই চীনা কোম্পানিগুলো ইরানকে বিভিন্ন দ্বিমুখী ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে চীন সরকার যদি সরাসরি অস্ত্র পাঠায়, তবে তা হবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তেহরানের প্রতি সমর্থনের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। যা মধ্যপ্রাচ্যে চীনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
সূত্র: সিএনএন





