avertisements 2

মিলারদের পাশে বসে ডিলারদের দুষলেন মন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১১ মে, বুধবার,২০২২ | আপডেট: ০৪:১৭ এএম, ১৯ মে,বৃহস্পতিবার,২০২২

Text

ভোজ্যতেলের সংকটের জন্য ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিং-এ তিনি আরও বলেন, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কারচুপির কারণে বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। দামও বেড়েছে। বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেন হলো, তা খুঁজে পাওয়া গেছে। এই কারচুপি বড় গ্রুপের কেউ করেনি। করেছে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

এর আগে ভোজ্যতেলের সংকটের কারণ জানতে ব্যবসায়ী, মিলারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে আমদানিকারক ও মিলারদের মধ্যে সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা, এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিকুল আথহার তাসলিম, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের দিদার মো. কবিরুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
তবে বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্‌ঘাটিত কারণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত না। বাজারে চাহিদার তুলনায় মালের সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি হয়েছে। প্রতি মাসে ২-৩ লাখ টন মাল লাগে। কারও দোকানে নিয়মিত মাল পাওয়া যায়নি।’

ঢাকার মৌলভীবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘৩১ বছর ধরে তেল বিক্রি করি। অথচ গত এক-দেড় মাস তেল বিক্রি করতে পারি নাই।’ খুচরা ব্যবসায়ীর কত বোতল তেল রাখার সুযোগ আছে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তেলের সরবরাহ আসে মিলারদের কাছ থেকে ডিলারদের কাছে, এরপর খুচরা দোকানদারের কাছে। মিলাররা তেল না দিলে ডিলার ও খুচরা দোকানি তেল কোথায় পাবে?’

এদিকে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করাকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘এভাবে বলা আমার ঠিক হয়নি।’ তিনি বলেন, ঈদের পর ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে এ কারণে সবাই তেল ধরে রেখেছেন। যারা তেল ধরে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ অভিযান চালাচ্ছে। জরিমানা করছে। তেল কত দামে আমদানি করা, আর কত দামে খালাস করা হয়েছে, সে তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে নেওয়ার পর ট্যারিফ কমিশন হিসাব করে দাম ঠিক করেছে।

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা ঠিক।

কারণ (ব্যবসায়ীদের) বলেছিলাম রমজানকে সামনে রেখে দাম বাড়াবেন না। কিন্তু তারা ঈদের সাত দিন সেই কথা রাখেনি।’ তিনি বলেন, ‘গৃহস্থ পর্যায়ে (ভোক্তা) অনেকেই তাঁর চাহিদার চেয়ে বেশি তেল মজুত করেছেন।’ তিনি পার্শ্ববর্তী দেশে বাংলাদেশের তুলনায় বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারতে এক লিটার তেল বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১৩-২২৪ টাকা, পাকিস্তানে ২৩৬-২৩৮ টাকা ও নেপালে ১৯৭-২১৪ টাকা।

আগামী জুন মাস থেকে এক কোটি পরিবারকে টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান। তবে টিসিবির তেলের দাম বাড়ানো বা হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে সংস্থার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান বলেন, বাজারে দামের সঙ্গে ব্যবধান বেশি হলে সমস্যা বাড়বে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ভোজ্য তেলের সংকটে খুচরা ব্যবসায়ীদেরও দায় আছে। তেল সরবরাহ এখন আবার শুরু হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন দোকানে ১ লিটার, ২ লিটার ও ৫ লিটারে বোতলজাত ভোজ্যতেল কিছু কিছু পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, যাদের কাছে পুরোনো তেল মজুত ছিল তাদের অনেকই দামের স্টিকার তুলে ফেলছেন। গতকাল পূর্ব রামপুরার একটি মুদি দোকানে ৫ লিটারের একটি বোতলের স্টিকার তুলে ফেলতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানদার দাবি করেন, বোতলে খোলা তেল ছিল।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৮০-১৯২ টাকা ও পাম তেল ১৭৫-১৭৮ টাকা এবং এক লিটারের বোতল ১৯৫-২১০ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৮০-৯৯০ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছিল। যদিও সরকার গত ৫ মে খুচরা মূল্য প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৮০ টাকা ও পাম তেল ১৭২ টাকা এবং এক লিটারের বোতল (সয়াবিন) ১৯৮ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৮৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2