avertisements

সিডনী হিল্টনঃ নিভৃতবাসের দিনগুলি - ২

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: ০৬:০৫ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,২০২০ | আপডেট: ০৮:৫২ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর,শনিবার,২০২০

Text

প্রতিদিন মাত্র ৩৫০ জন যাত্রী সিডনী বিমান বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে বলে নির্দেশনা জারী করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ফলে এয়ারলাইনসগুলো প্রতি ফ্লাইটে ৩০-৪০ জনের বেশী যাত্রী নিতে পারছেনা। খরচ পোষাবার জন্য তাই কেবল বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। দুই বার ইকনমি টিকিট বাতিল হবার পর বুঝতে পারি আপগ্রেড না করলে আমার পক্ষে অস্ট্রেলিয়া ফিরে যাওয়া সম্ভব হবেনা। তাই বাধ্য হয়ে ১১,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (২৭, ৫০০ রিয়াল) দিয়ে ওয়ানওয়ে বিজনেস ক্লাসের টিকেট কাটতে হয়। বিমানে উঠে এর সত্যতা পেলাম। বিজনেস ক্লাসে উপচে পড়া ভিড় হলেও ইকনমিতে মাত্র ৪/৫ জন যাত্রী।  শুধু কি তাই? এখন হোটেল কোয়ারিন্টনের জন্য দিতে হবে আরো ৩ হাজার ডলার।   


অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের দেশে ফেরার সংখ্যার উপর কোটা নির্ধারণ করা আইন সন্মত কিনা এ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। প্রবাসে আটকে পড়া হাজারো রূষ্ট অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক সরকারের বিরুদ্ধে ক্লাস অ্যাকশনে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের ভোটের বাক্সে এই ক্ষোভের যে বিস্ফোরণ ঘটবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


একজন নাগরিক স্বদেশে ফিরতে পারবেনা এ কেমন কথা? সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা হাজারো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক কি যে আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সেই গল্প শুনলে চোখে জল আসবে। 


ইকনমি টিকেটধারী একজন অস্ট্রেলিয়ান মৃত্যুপথযাত্রী বাবা-মাকে দেখতে পেলো না। চাকরী হারিয়ে অর্থাভাবে এখন কারাভানে কাটাচ্ছে দিন। দিন গুনছে, কখন আসবে দেশে ফিরে যাবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অনেকে অসম্ভব কষ্ট নিয়ে প্রিয়জনের ওপারে চলে যাবার শেষ মুহুর্ত দেখছেন ফেসটাইমে। আমি আরেকজনের কথা জানি যে তার ক্যান্সারে আক্রান্ত কন্যার পাশেও থাকতে পারেনি। এমন অগনন কষ্টের গল্প আর নাইবা বললাম। 


করোনাকালে চাকরী হারিয়েছে প্রবাসে কর্মরত বহু অস্ট্রেলিয়ান।     অনেকের টিকিট বাতিল হয়েছে বহুবার। ভিসার মেয়াদ শেষ, থাকার জায়গা নেই, ক্রেডিট কার্ড শূন্য। পরিবার পরিজন নিয়ে চালচুলোহীন স্মরণার্থীর মত অনেকে দিন কাটাচ্ছে প্রবাসে।


নাগরিকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ান সরকারের মানবতাবোধ এবং সহানুভুতি নিয়ে বরাবরই অহঙ্কার করতাম। কিন্তু করোনা যেনো বদলে দিয়েছে সব। প্রবাসী অস্ট্রেলিয়ান র‌্যামিটেন্স যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের এই বিমাতাসুলভ আচরণ ও নিষ্ক্রিয়তা দেখে বিস্মিত ও ব্যথিত।  
গত ২৬ তারিখ মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় পোর্টাল গাল্ফ বাংলায় আমার কাতার ছাড়ার খবর নিয়ে অনুজপ্রতিম সাংবাদিক ও লেখক তামিমের করা নিউজটি ৪৬ হাজারেরও বেশী শেয়ার হয়েছে।  আমার জন্য কাতার মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের নীরব ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে বিস্মিত হয়েছি। দেশ-বিদেশের সব শুভাকাংখিদের জন্য রইল আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। (চলবে)

-লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন হতে সংগৃহীত

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements