নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এজাহার আমি লিখিনি, বললেন মামলার বাদি
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২:১৪ পিএম, ১৬ অক্টোবর,শুক্রবার,২০২০ | আপডেট: ০৮:২২ পিএম, ৪ এপ্রিল,শুক্রবার,২০২৫

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারটি বাদি সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলামের নিজের লেখা নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার চরভদ্রাসন থানায় সকালে মামলা দায়ের করে বের হওয়ার পর সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সাংবাদিকদেরকে একথা জানান।
সিনিয়র ওই নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম মামলা দায়ের করে বের হওয়ার পরপরই মুখোমুখি হন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের। এসময় সাংবাদিকেরা তার কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আমি এমপি মহোদয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। তবে এই এজাহারের কিছুই আমার লেখা না। ঢাকা থেকে ওই এজাহার লিখে পাঠানো হয়েছে। আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি মাত্র।’
তিনি বলেন, ‘এজাহারে কি আছে সেটি আপনারা দেখেছেন। এতে এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে চরভদ্রাসন থানায় নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নওয়াবুল ইসলামের করা মামলার এজাহারটি গ্রহণ করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসমিন খানম। এসময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও একজন সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই উপ-নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করায় জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে মোবাইল ফোন করে কৈফিয়ত তলব ও সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হলে মহাসড়ক অবরোধসহ নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশোভন আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। একইসাথে নির্বাচনের দিনে একটি ভোট কেন্দ্রের বুথের সামনে জাল ভোট দেয়া ও ধুমপান করার সময় একজন পোলিং এজেন্টকে আটকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেদেরকে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া একজন সংসদ সদস্য হওয়া সত্ত্বে নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থেকে নির্বাচনের প্রচারণা ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বলে ওই এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।