avertisements 2

লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৪ জানুয়ারী,শুক্রবার,২০২২ | আপডেট: ১০:২২ এএম, ১০ আগস্ট, বুধবার,২০২২

Text

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের গণসংযোগে জনতার ঢল নামতে দেখা যায়। উভয়ের গণসংযোগে লোকজনের এমন উপস্থিতিতে বোঝা মুস্কিল জয় পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ। এ সিটি নির্বাচনের মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আইভী ও তৈমূরের মধ্যে। বিজয়ের মালা কার গলায় উঠবে ১৬ জানুয়ারির আগে কেউ মন্তব্য করতে পারছে না। বৃহস্পতিবার গণসংযোগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, 'আমি শুধু চাই ভোটকেন্দ্র যেন পরিষ্কার থাকে। কোনো সন্ত্রাসী যেন ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি অবনতির দিকে যায় তাহলে প্রশাসন তো আছেই। নিশ্চয়ই তারা এটা দেখবে। 

আমার ওইটা দেখার সময় নেই। আমার জনগণের কাছে যেতে হবে। তাদের ভোট চাইতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসন দেখবে। এখানে যৌথভাবে প্রশাসন কাজ করছে। এটা দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের।' নতুন ভোটাররা তাকে কেন ভোট দেবে এমন প্রশ্নের উত্তরে আইভী বলেন, 'নতুন ভোটাররা অনেক সচেতন। ওরা যেমনটা চায়, আধুনিক নগরী, খোলা ময়দান, খেলার মাঠ- আমি এসব ব্যাপারে অনেক কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও করব। আমি সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে যেমন আমার দলের কাজ করেছি তেমনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করেছি। আমি পরিষ্কারভাবে কথা বলি, আমার মধ্যে স্বচ্ছতা আছে, মিথ্যার আশ্রয় নেই না। এজন্য নতুন ভোটাররা আমাকে ভোট দেবে।' আইভী বলেন, 'কখনও আমি বাড়তি সুবিধা পাইনি আর বাড়তি সুবিধা নিতে আমি পছন্দও করি না। 

জনস্রোত যখন আমার সঙ্গে আমি কেন বাড়তি সুবিধা নিতে যাব? প্রশাসন কখনো আমার হাতের মুঠোয় ছিল না, আমি হাতের মুঠোয় নেওয়ার চেষ্টাও করিনি। আমি সব সময় মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি, তাদের পাশে রাখার চেষ্টা করেছি।' অপরদিকে বৃহস্পতিবার শহরের ১১নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, পুলিশের কার্যক্রমের কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে জনগণ ভীত না। আমার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।' তিনি বলেন, 'আমার দলের নেতাকর্মীরা তো নৌকায় ভোট দেবে না। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের কমিটি ভেঙে দিচ্ছে। কারণ তারা নৌকার পক্ষে কাজ করছে না। আন্তর্জাতিক দূতাবাসের যারা আছেন, পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী যারা আছেন তাদের সকলকে বলব আমার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। 

কেন আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ যাচ্ছে?' তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, 'কাউকে গালি দিয়ে বা খারাপ কথা বলে তো মন জয় করতে পারব না। সেটা করেই আজ সরকারি দলের মধ্যে বিশাল ফাটল, আর আমাদের মধ্যে ঐক্য। এবার পরিবর্তন আসবে, আমি সেই পরিবর্তনের নির্বাচন করছি। পোলিং এজেন্ট আমরা ৩ সেট তৈরি করে রেখেছি। আমাদের কোনো পোলিং এজেন্ট যদি গ্রেপ্তার হয়ে যায়, তাহলে আরেকজন যাতে সেই দায়িত্ব পালন করতে পারে। কেন্দ্রকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি কেন্দ্র কমিটি করা হয়েছে।' শুরু থেকেই বলা হয়েছে, আপনি একজন নির্দিষ্ট নেতার প্রার্থী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম বলেন, 'সরকার দলীয় প্রার্থী এসব কথা বলে আমার জন্য একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছে, জনগণ এখন মনে করে, আমার দল বিএনপি ও ২০ দল এখন আমার সাথে আসছে। বরং সরকারি দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে।' 

তিনি আরও বলেন, 'কাউকে ধমক দিয়ে, গালি দিয়ে তো কাজ করানো যায় না। নারায়ণগঞ্জের জনগণের কাছে মেসেজটা ক্লিয়ার যে সরকারি দলের মাঝে বিরাট ফাটল। ঢাকা থেকে মেহমানরা এসেও এই ফাটল মেটাতে পারেনি। হাতি এখন জনগণের মার্কা। হাতির মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে।' তিনি বলেন, 'সততা, ঈমান, নিষ্ঠা দিয়ে আমি যেমন দলের কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি তেমনি দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করেছি। নতুন ভোটাররা এগুলো পছন্দ করে যে আমি সত্য কথা বলি। মিথ্যার আশ্রয় আমি নেই না।'

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2