avertisements 2

কিম জং উনের মৃত্যু নিয়ে কেন এত গুজব ছড়ায়?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২০ অক্টোবর,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:৩৯ এএম, ২১ অক্টোবর, বুধবার,২০২৬

Text

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব নতুন নয়। সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখা গেছে। এরপরও প্রশ্ন উঠেছে, কেন বারবার এমন গুজব ছড়ায় এবং তা এতটা আলোচনার জন্ম দেয়?

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রডং সিনমুন প্রকাশিত ছবিতে ৪২ বছর বয়সী কিমকে তার মেয়ে কিম জু আয়ে ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে দেখা যায়। তবে ছবিগুলো ঠিক কখন তোলা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, কিম কোমায় আক্রান্ত হয়ে বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং পরে মারা গেছেন। তার দাবি, উত্তর কোরিয়ার চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা না থাকায় কিমকে চীনে নেওয়া হয়েছিল। পরে তার মরদেহ গোপনে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপকে জানিয়েছেন, কিমের মৃত্যুর গুজবের সমর্থনে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।

উত্তরসূরি নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, কিমের মৃত্যুর গুজব বারবার ফিরে আসার অন্যতম কারণ উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা। দেশটি তিন প্রজন্ম ধরে কিম পরিবারের শাসনে থাকলেও কিম জং উনের পর কে ক্ষমতায় আসবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, কিম তার মেয়েকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সামরিক প্রদর্শনীতে মেয়ের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে তার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে কোনও নারী রাষ্ট্রপ্রধানও হননি।

কিমের বাবা কিম জং ইল ২০০৮ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর কিম জং উনকে দ্রুত ক্ষমতার উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনা হয়। ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় এলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তাকে কয়েক বছর ব্যয় করতে হয়।

গুজবের পেছনে স্বাস্থ্যঝুঁকিও
কিমের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তিনি অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী এবং ধূমপায়ী। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা একাধিকবার জানিয়েছে, তার জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিম পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে।

কিমের আকস্মিক মৃত্যু হলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চীনের সীমান্তে শরণার্থী সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকায় বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

২০২০ সালেও কিমের হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। সে সময় এক উত্তর কোরীয় পলাতক দাবি করেছিলেন, কিমের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি ‘৯৯ শতাংশ নিশ্চিত’। পরে কিম জনসমক্ষে হাজির হলে সেই দাবি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় রাষ্ট্রগুলোর একটি উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। দেশটির নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও সীমিত। ফলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষেও অনেক খবর যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই তথ্যের ঘাটতিই গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।

কিমের মৃত্যুর সাম্প্রতিক দাবিও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রমাণিত নয়। উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা, তার স্বাস্থ্য এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব- সব মিলিয়ে এ ধরনের গুজব বারবার আলোচনায় ফিরে আসে। সূত্র: বিবিসি

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2