avertisements 2

এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বাড়তে পারে ভয়াবহ গরম

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:১১ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর,রবিবার,২০২৬

Text

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী দুই দশকে যে ধরনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে, তার কাছাকাছি তাপমাত্রা এখনই অনুভূত হওয়ার দাবি; বাড়তে পারে তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি

অস্ট্রেলিয়ায় সামনের দিনগুলোতে অস্বাভাবিক গরম আরও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এল নিনোর প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণ আবহাওয়া এবং চরম গরমের দিনের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেইলি মেইল অস্ট্রেলিয়ার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট গবেষকদের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে যে অস্বাভাবিক উষ্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা এমন তাপমাত্রার সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আরও প্রায় ২০ বছর পর স্বাভাবিক পরিস্থিতির অংশ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যগুলোর একটি হলো—এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ‘চরম উষ্ণ’ দিনের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকতে পারে এল নিনোর প্রভাব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী এল নিনোর প্রভাব ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এটি একটি আবহাওয়াভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘটনা নয়। আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে পূর্বাভাসও পরিবর্তিত হতে পারে।

এল নিনোর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব শুধু দিনের তাপমাত্রাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাতের তাপমাত্রাও বেশি থাকার ফলে মানুষের শরীরের জন্য পর্যাপ্ত সময় ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে।

কেন এল নিনো এত গুরুত্বপূর্ণ?

এল নিনো (El Niño) হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ব্যবস্থায় পড়ে।

অস্ট্রেলিয়ায় এল নিনোর সঙ্গে সাধারণত গরম ও অপেক্ষাকৃত শুষ্ক পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে কিছু অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে এল নিনোর প্রভাব সব অঞ্চল ও সব সময়ে একই রকম হয় না। স্থানীয় আবহাওয়া, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং অন্যান্য জলবায়ু ব্যবস্থার ওপরও পরিস্থিতি নির্ভর করে।

শুধু গরম নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বড় উদ্বেগ

অতিরিক্ত তাপমাত্রা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ মানুষ, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম বিপজ্জনক হতে পারে।

তীব্র গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহস্টশন এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোক হতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের ওপরও চাপ বাড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার প্রভাব জুন ও জুলাই মাস পর্যন্তও টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ গরমের প্রভাব শুধু প্রচলিত গ্রীষ্মকালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমন আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়?

পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদে বাড়ার ফলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা হলেও, এটি যখন ইতিমধ্যে উষ্ণ হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জলবায়ুর সঙ্গে মিলে যায়, তখন কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রার চরম পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।

এ কারণে গবেষকেরা শুধু একটি বছরের আবহাওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবণতাও বিবেচনায় নিচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ার মানুষের জন্য এর অর্থ কী?

চরম গরমের দিন বাড়লে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বাইরে কাজ করা মানুষ, নির্মাণশ্রমিক, ডেলিভারি কর্মী, চালক এবং অন্যান্য খোলা জায়গায় কাজ করা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হতে পারে।

এ ছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে, কারণ গরমের সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ফ্যানের ব্যবহার বাড়ে। তীব্র তাপপ্রবাহের সময় হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

কীভাবে সতর্ক থাকা যায়

চরম গরমের সময় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সাধারণত পর্যাপ্ত পানি পান, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা পোশাক পরা এবং সম্ভব হলে শীতল পরিবেশে থাকার পরামর্শ দেয়।

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের একা গরম পরিবেশে না রাখা, নিয়মিত তাদের খোঁজ নেওয়া এবং হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি

‘৪৪ শতাংশ বেশি চরম উষ্ণ দিন’ এবং ‘২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত এল নিনো’—এসব তথ্য প্রতিবেদনে উদ্ধৃত পূর্বাভাস ও গবেষণার হিসাব। এগুলোকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি শহর বা পুরো দেশের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বাস্তব পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং নতুন আবহাওয়া-তথ্য পাওয়ার সঙ্গে পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে।

সূত্র: Daily Mail Australia-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন; ছবিতে দেওয়া তথ্য।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2