দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ব বাজারে সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে (প্রতি আউন্স প্রায় ৪,০৬৪ ডলারে নেমেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারেও সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা কমিয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ভোর সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৬৭.৫১ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দাম ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১.৬ শতাংশ কমে ৪,০৮৩.৯০ ডলারে দাঁড়ায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নিয়েছে। তবে তেহরান এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, আলোচনায় তারা এমন কোনো ছাড় দেয়নি। ফলে দুই দেশের মধ্যে হওয়া নাজুক শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি তহবিলে প্রবেশাধিকার নিয়ে চুক্তির একটি ধারা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাকের মতে, যুদ্ধজনিত চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ এখন স্বর্ণবাজারকে প্রভাবিত করছে। বন্ডের দাম কমছে, মুনাফা (ইয়িল্ড) বাড়ছে, ডলার শক্তিশালী হচ্ছে—আর এর প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের দামে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও, উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় এর আকর্ষণ কমে যায়। এদিকে ডলার এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার এখন চলতি বছরে ফেডের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ধরে মূল্য নির্ধারণ করছে। অথচ গত সপ্তাহের ফেড বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা মাত্র একবার হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছিলেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৯ শতাংশ কমে ৬১.৪৪ ডলারে, প্লাটিনাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৬৩৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ০.৮ শতাংশ কমে ১,২২৭.৪১ ডলারে নেমে এসেছে।





