বিয়ের দাবিতে স্কুলশিক্ষিকার অনশন, লাপাত্তা প্রেমিক সহকারী জজ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক স্কুলশিক্ষিকা। তবে প্রেমিকার অনশনের খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন তার প্রেমিক ইউনুস আলী, যিনি বগুড়া জজ কোর্টে সহকারী জজ (সিভিল জজ) হিসেবে কর্মরত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জহির মোড় এলাকায় ইউনুস আলীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই শিক্ষিকা। শনিবার দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার অনশন চলছিল।
অনশনরত শিক্ষিকার নাম আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তি (২৯)। তিনি টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাকির হোসেন লস্করের মেয়ে। বর্তমানে তিনি রংপুরের হারাগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ইউনুস আলী টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জহির মোড় এলাকার জয়নাল আবেদীনের চতুর্থ ছেলে। তিনি বগুড়া জজ কোর্টে সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তি তার বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার খবর পেয়ে ইউনুস আলী সেখান থেকে চলে যান।
অনশনরত শিক্ষিকার দাবি, ইউনুস আলীর সঙ্গে তার দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তিন বছর আগে ইউনুস আলী সহকারী জজ হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। অন্যদিকে, প্রায় এক বছর আগে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরও বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় তাকে এ পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলে জানান প্রাপ্তি।
প্রাপ্তির অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউনুস আলীকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নানা অজুহাতে তিনি বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। সম্প্রতি ইউনুস আলী গোপনে অন্যত্র বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছেন বলে জানতে পারেন তিনি। এরপর শুক্রবার দুপুরে বিয়ের দাবিতে ইউনুস আলীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। তবে তার আসার খবর পেয়ে ইউনুস আলী বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন প্রাপ্তি।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনুস আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।





