চাকরিতে ফেরার পর এবার পদোন্নতি পেলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১২ এপ্রিল,রবিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:১৯ এএম, ১৩ এপ্রিল,সোমবার,২০২৬
আলোচিত পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়াকে ২০১৫ সাল থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
রোববার (১২ এপ্রিল) এই কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) পদে পদোন্নতির আদেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ৯ মার্চ কোহিনূর মিয়াকে অপসারণের সময়কালকে চাকরি হিসেবে ধরে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পশ্চিম অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কোহিনূর মিয়া তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আর এ কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাকে কোণঠাসা করে। একপর্যায়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। বিসিএস ১২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়।
২০০৬ সালের ১২ মার্চ ধানমন্ডির রাপা প্লাজার সামনে শাহিন সুলতানা শান্তা নামের এক নারী পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেদিন তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় নিজের ছেলেকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে শান্তা ভয়ে পাশের একটি ক্লিনিকে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সদস্যরা তাকে ও তার ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার দুই দিন পর ২০০৬ সালের ১৪ মার্চ শান্তা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার কোহিনূর মিয়া ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়। এতে আপত্তি জানিয়ে শান্তা বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০০৯ সালে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন আদালত। তবে মামলার অভিযোগপত্র জমা দিতে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় লাগে এবং ২০২৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সম্প্রতি তিনজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিলেও তারা ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। এরপরই আদালত কোহিনূর মিয়াসহ তিনজনকে খালাস দেন।





