avertisements

কীভাবে রয়েছে কম্বোডিয়ার মুসলমানরা?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬:৩৬ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,২০২০ | আপডেট: ০১:৫৬ পিএম, ২৪ অক্টোবর,শনিবার,২০২০

Text

কম্বোডিয়া বললেই রহস্যপূর্ণ বৌদ্ধ মঠের কথা মনে হয়, কিন্তু খুব কম মানুষেরই জানা রয়েছে যে কম্বোডিয়ায় ইসলামের পদচিহ্ন রয়েছে। ইন্দো-চায়না উপদ্বীপ অঞ্চলের এই দেশটি এশিয়া মহাদেশের উত্তর পূর্বাংশে অবস্থিত। উত্তর-পূর্বে লাওস, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে ভিয়েতনাম আর দক্ষিণ পশ্চিমে থাইল্যান্ড উপসাগর দিয়ে দেশটি পরিবেষ্টিত। দেশটির পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিমে থাইল্যান্ড দেশটি বর্তমান। দেশটির মোট ভূখণ্ড ১৮২০০০ বর্গ কিলোমিটার। 

১৮২৩ খ্রিস্টাব্দের আগে কম্বোডিয়ায় ইসলামের প্রসার হয়নি। ঐতিহাসিকদের মতে, এই সময় বোর্নিও ও দক্ষিণ চীন সমুদ্র থেকে চাহম উপজাতিরা কম্বোডিয়ায় পা রাখে। চাহমরা ছিল ইসলাম ধর্মাবলম্বি, অতএব, তখন থেকেই এই দেশে ইসলামের প্রসার শুরু হয়। 

বর্তমানে কম্বোডিয়ায় ১৫ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বি মানুষ রয়েছে, কিন্তু বহির্বিশ্বের কাছে তাদের খবর বিশেষ পৌঁছয় না। যেহেতু দেশটিতে বৌদ্ধ ধর্মই মূল, তাই দেশীয় মুসলমানদের হজের জন্য দেশের বাইরে যাওয়া নিষেধ। 

চাহম মুসলমানরা কম্বোডিয়ার কামপং চাহম অঞ্চলে বসবাস করে। এই অঞ্চলে ছোট ছোট গ্রাম জুড়ে তাদের জীবন যাপন। কম্বোডিয়ার অন্যান্য অধিবাসীদের সঙ্গে তাদের জীবন যাপনের পদ্ধতি বিশেষ মেলে না। প্রত্যেকটি গ্রামের নিজস্ব ছোট মসজিদ রয়েছে যেখানে গ্রামবাসীরা উপাসনা অনুষ্ঠান ইত্যাদি করতে পারে। চাহম উপজাতির মুসলমানরা নিজ প্রজাতির মানুষ ভিন্ন আর কাউকে বিয়ে করে না। যদি অন্য উপজাতির মানুষ ইসলাম ধর্ম নিতে রাজি হয় তবেই বিয়ে সম্ভব হয়। চাহমরা তাদের নারীদের অসম্ভব সম্মান করেন ও আগলে রাখেন। বিশেষ করে মেয়েদ্র কুমারিত্ব তাদের সমাজে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়েদের পনেরো বছর বয়স হলে তারা ‘কারো’ নামের উৎসব পালন করে, এর মাধ্যমে বোঝা যায় মেয়ে কিশোরী থেকে যুবতী হয়েছে। চাহমরা মেয়েদের উর্বর ভূমির সঙ্গে তুলনা করে থাকে।

প্রত্যেকটি গ্রামে একটি সাধারণ প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে, একজন বা দু’জন গ্রামপ্রধান সেই বিভাগ পরিচালনা করেন। গ্রামপ্রধানের মূল কাজ ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ম বজায় রাখতে সাহায্য করা। মসজিদের ইমাম, খাতিব, মুয়াথিন নিয়োগ করাও গ্রামপ্রধানের অন্যতম কর্তব্য। 

এই গ্রামগুলি মূলত ‘হায়েস্ট কাউন্সিল অফ ইসলামিক রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ারস ইন কম্বোডিয়া’ বা এইচ সি আই আর এ সি-র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এই কাউন্সিলে একজন ইমাম ও তার সহায়করা বর্তমান। কাউন্সিলটি আবার কম্বোডিয়ার ‘বুদ্ধিস্ট মিনিস্ট্রি অফ রিলিজিয়ান অ্যান্ড কাল্ট’ দপ্তরের অন্তর্গত। 

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এই দেশে দুটি ইসলামিক সোসাইটির পত্তন হয়,

প্রথমটি, দ্য সেন্ট্রাল ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অফ কম্বোডিয়া, যেটি মূলত মুসলমানদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার তত্ত্বাবধান করে।

দ্বিতীয়টি, কম্বোডিয়া ইসলামিক ইউথ অ্যাসোশিয়েশন, যেটি মূলত ছাত্রদের শিক্ষাবিষয়ক, সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থার তত্ত্বাবধান করে। যে সমস্ত মুসলমান ছাত্ররা গ্রাম থেকে শহরে পড়তে আসে তাদের দেখাশোনা করে এই সংস্থাটি।

তবে সংস্থাদুটির এত চেষ্টা সত্ত্বেও কম্বোডিয়ার বেশিরভাগ ইসলাম ধর্মাবলম্বি মানুষ এখনও অজ্ঞানতা অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। বেশিরভাগই খুব সামান্য লেখাপড়া জানেন, বেশিরভাগই কুর-আন পড়তে পারেন না। গ্রামের মসজিদ্গুলির মধ্যে যে মাদ্রাসা রয়েছে তাতেই অল্প অঙ্ক, হিসাব ও খানিক লিখতে শেখেন তারা। কাজ কর্মে এখনও পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। 

একসময় চাহম মুসলমানের ঘোরতর প্রভাব ছিল কম্বোডিয়ার রাজনৈতিক অবস্থায়। রাজার আমলে বৌদ্ধ মন্ত্রীর অন্তত একজন মুসলমান সহায়ক থাকতই। এমনকি রাজার সভায় একজন মুসলমান সভাসদ থাকতেন যিনি ছিলেন তৎকালীন মুসলমানদের প্রতিভূ। কিন্তু ক্রমশ এই প্রভাব কমতে থাকে।

তবে, ১৯৭০ সালের পর আবার এই অবস্থার উন্নতি হয়। সেনেট হলে একজন মুসলমান প্রতিনিধি, হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে চার জন মুসলমান প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। এছাড়া বিদেশ নীতি ও রাষ্ট্রনীতিতেও মুসলমান প্রতিনিধিরা নিযুক্ত হন। 

কমিউনিস্টদের আক্রমণ থেকে কম্বোডিয়াকে অনেকাংশেই ঠেকিয়ে রেখেছিলেন এই মুসলমান প্রতিনিধিরা, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। ১৯৭৫-এ কমিউনিস্টরা কম্বোডিয়ার দখল নিলে অন্যান্যদের মত মুসলমানদেরও দুর্দশার অন্ত থাকে না।

তবে, বর্তমানে, কম্বোডিয়ার অন্যান্য অধিবাসীদের সঙ্গে মিলে মিশেই রয়েছে চাহম মুসলমানরা। 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements