avertisements

নিক্সন গ্রেফতার হলে অচল হবে দক্ষিণবঙ্গ!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩:৪৯ পিএম, ১৭ অক্টোবর,শনিবার,২০২০ | আপডেট: ০৫:১৭ পিএম, ৩১ অক্টোবর,শনিবার,২০২০

Text

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে নিয়ে এখন উত্তপ্ত সারাদেশ। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন সারাদেশ তর্ক-বিতর্ক চলছে । এরই মধ্যে মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন গতকাল বৈঠক করে নিক্সন এর বিচার দাবি করেছে এর প্রেক্ষিতে নিক্সন চৌধুরী গ্রেফতার হতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে কিন্তু চরভদ্রাসনে নিক্সন চৌধুরী অনুসারীরা বলছে শুধু ফরিদপুর-৪ আসনের নয়, পুরো বাংলাপদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে তার।

নিক্সন চৌধুরী যদি অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয় তাহলে পুরো দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চল অচল দেবেন তারা।এই সাথে রাজনীতিবিদদের উপর প্রশাসন হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় পর্যায়ে গতকাল নিক্সন চৌধুরী সমর্থকরা কর্মীসভা করে এই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।এর মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।তারা বলেছেন নিক্সন চৌধুরী বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এটি একটি চক্রান্ত। এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তাহলে তার কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

উল্লেখ্য, পরপর দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিক্সন চৌধুরী ফরিদপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।যার কারণে এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে,নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তাদের ‘গালিগালাজ ও হুমকির’ ঘটনায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুজিবর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন চৌধুরীর) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকার।

অভিযোগের বিষয়ে চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন অনুবিভাগ) শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছি। এটি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়। এখানে যদি কোনো আচরণ বিধি ভঙ্গ হয়ে থাকে, সেটা নির্বাচন কমিশন দেখবে। ”

চিঠিতে বলা হয়, ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয় নিয়ে হুমকি, মিথ্যা, মানহানিকর ও অশালীন বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন), চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. কাউছার এবং তার অনুসারীরা।

তাদের এ ধরনের আচরণ উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১৬ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন মর্মে প্রতীয়মান হয় উল্লেখ করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোনে গালিগালাজের যে অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন। তাঁর দাবি, বক্তব্যকে ‘সুপার এডিট’ করা হয়েছে। এমন গালিগালাজ তিনি করেননি।
 মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মুজিবর রহমান এসব দাবি করেন। গত শনিবার অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসন উপজেলার উপনির্বাচনে ‘ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে’ এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
মুজিবর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের মাঠে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়ায় আমাদের এক কর্মীকে গাড়িতে তোলেন ম্যাজিস্ট্রেট। আমি ইউএনওকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানাই। এর বাইরে যে বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো এডিট করা। এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

’ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা এসব ছড়াচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
চরভদ্রাসনের ইউএনওর সঙ্গে তাঁর ‘মধুর সম্পর্ক’ দাবি করে মুজিবর রহমান বলেন, ‘সংসদীয় আসনের তিন উপজেলার চরভদ্রাসন ও সদরপুরের ইউএনও নারী আর ভাঙ্গার ইউএনও একজন পুরুষ। তাঁদের সঙ্গে ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক। তাঁদের সঙ্গে মিলেমিশে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি।’

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ বলেন, গত শনিবারের উপনির্বাচনের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয় জেলা প্রশাসন। নির্বাচনের আগের দিন কেন ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হলো? ইসির কী এ–বিষয়ক চিঠি আছে? নির্বাচনের দিন বিজিবি সঙ্গে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটদের মারমুখী আচরণ করতে দেখা গেছে। যেখানে নৌকার ভোট বেশি, সেখানেই ম্যাজিস্ট্রেটরা বেশি তাণ্ডব করেছেন।
শনিবার নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকারকে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুমকি দেন সাংসদ মুজিবর রহমান। এ প্রসঙ্গে মুজিবর রহমান বলেন, সারা দিন ম্যাজিস্ট্রেটরা যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তাতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত ছিল। প্রশাসনের অনুরোধে তিনি নেতা-কর্মীদের ‘ঠান্ডা’ করতে গিয়েছিলেন।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে মুজিবর রহমান দাবি করেন, তিনি কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ করেননি। যদি আচরণবিধি ভেঙে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা হবে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরের দিন সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইউএনও আমার ভাঙ্গার বাড়িতে যান। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও কোনোভাবেই আমার বাড়িতে আসতে পারেন না। জেলা প্রশাসকও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।’

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements