Main Menu

আজব এক সময়ে আমরা ! 

রাশেদুল ইসলাম:  জন্ম থেকেই  জেনেছি মানুষ সামাজিক প্রাণী । পরস্পর নির্ভরশীল ।  মানুষ একা বাস করতে পারে না । পবিত্র কোরআনে মানুষকে সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করার কথা বলা হয়েছে । মহামতি গৌতম বুদ্ধ নিজেও  সংঘের উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন । শুধু ইসলাম এবং বৌদ্ধ ধর্মই নয়- সনাতন হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ পৃথিবীর সকল ধর্মেই নির্দিষ্ট  কোন কোন দিনে, সমাজের সকল মানুষের একত্র সমাবেশের বিধান রয়েছে । কারণ, কেবলমাত্র একত্রে সমবেত হওয়ার মাধ্যমেই মানুষ কাম্য সামাজিক হয়ে ওঠে; মানুষের মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধা,  ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ভাব গড়ে ওঠে । আর, এটাই মানব সভ্যতার অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি । কিন্তু কোভিট ১৯ প্রাদুর্ভাবের এই সঙ্কটকাল এক আজব সময় যেন ! মানবসভ্যতার ইতিহাস বিষয়ক যাবতীয় শিক্ষাদীক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত  চিত্র এখন দৃশ্যমান ! অসম্ভব সংকটময় এক ক্রান্তিকালের মুখোমুখি যেন গোটা পৃথিবী ! 

 আমি নিজে যথেষ্ট বাস্তববাদী মানুষ ।  কিন্তু, মাঝে মাঝে অনেক ঘটনা আমাকে বিমর্ষ করে ।  যেমন হয়েছে আজ সকালে । একটা অনলাইন পত্রিকার ছবি আমার সব  চিন্তা এলোমেলো করে দেয় । ছবিটি ভারতের আলীগড়ের । ছবিতে ৪ বোনকে বাবার মৃতদেহের খাটিয়া বহন করতে দেখা যায় । এ   দৃশ্যের ছবি তোলার মানুষ আছে; কিন্তু, খাটিয়াতে কাঁধ লাগানোর কেউ নেই । চার মেয়েকেই বহন করতে হয়েছে বাবার মৃতদেহ । 

 

জানা যায় বাবার নাম সঞ্জয় কুমার । পেশায় চা বিক্রেতা । যক্ষা রোগে মারা গেছেন তিনি । কিন্তু, করোনা আতংকে সমাজের কেউ এগিয়ে আসেনি ।  বাধ্য হয়ে তাঁর চার মেয়েকেই বাবার লাশ বয়ে নিতে হয়েছে শ্মশানে । তাদেরকেই দাহ করতে হয়েছে নিজের বাবার মৃতদেহ । কি এক অদ্ভুত সময়ের  মানুষ আমরা ! এখানে করোনা ভাইরাস যতটা না ভয়ংকর- তারচেয়ে বেশী ভয়ংকর দিক হোল মানুষের মনুষ্যত্ব লোপ পাওয়া । এদিকটা বোধ হয় ভাবার সময় এখনই । 

আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে  । শুরু থেকেই সরকারের যে আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা ছিল, সাধারণ মানুষ একইভাবে আন্তরিক হোলে,  আজ এই দুশ্চিন্তার কারণ হত না । তারপরও সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত, এই মহাদুর্যোগের মাঝেও আমাদের  দেশের মানুষ এখনও মানবিক জ্ঞানশুন্য হয়নি । আমাদের চিকিৎসকগণসহ দায়িত্ব প্রাপ্ত সকলেই জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন । সমাজের অনেকেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন ।  এখানে মনে রাখা দরকার যে, রাত যত গভীর হয়, সূর্যোদয়ের সময় তত এগিয়ে আসে । করোনা ভাইরাসে কোন দেশের ক্ষতি কতটা হবে, এটা যেমন ভাবনার বিষয়; কিন্তু তার চেয়ে বেশী 


 

ভাবনার বিষয়, করোনা উত্তর কালের মানুষের সাথে পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর কোন পার্থক্য থাকবে কি না ?  

মানুষের মধ্যে যদি মানবিক গুণই  না থাকে, তাহলে অন্য প্রাণীর সাথে তার পার্থক্য কোথায় ? তাই, এই মহাদুর্যোগকালে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিরাময়ে নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি, এই মহাসংকটকালে মানুষ কিভাবে তাঁদের মানবতাবোধ বজায় রাখতে পারে সেদিকটাও  মাথায় রাখা জরুরি । সমাজের সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে । সকলের সম্মিলিত মেধা ও শ্রম দিয়ে করোনাভাইরাসের মত এই অপশক্তিকে আমাদের রুখতে হবে । অন্যথায় গোটা মানব সমাজকে অনেক বেশী মূল্য দিতে হতে পারে ।

পৃথিবীর সকল মানুষ করোনার  অভিশাপ থেকে মুক্তি পাক – এই প্রত্যাশা । 

৬ এপ্রিল, ২০২০ । 









 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT