Main Menu

করোনা ভাইরাস কি আবর্তিক হতে পারে?

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিবিসির সায়েন্স ম্যাগাজিন কি বলছে দেখা যাক্। মৌসুমী তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে মানুষ এবং সমাজের আচরনে পরিবর্তন ঘটে। তেমনি সচরাচার জানা ভাইরাসগুলোর সংক্রমন মৌসুমী এবং আবর্তিক হয়ে থাকে। নিকট ভবিষ্যতে COVID-19 আবর্তিক হতে পারে কি-না এই প্রশ্ন বিবিসি জিজ্ঞেস করেছিলো লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের ভাইরোলজিস্ট ড: মাইক স্কিনারকে।


ভাইরাসের মৌসুমী বা আবর্তিক হওয়া বলতে আমরা কি বুঝে থাকি?
আমরা কিছু ভাইরাসের সাথে পরিচিত যেগুলো নির্দিষ্ট সময়ান্তে নিয়ম করে ফিরে ফিরে আসে। উদাহরনস্বরূপ আমরা ইনফ্লুয়েন্জা, সাধারন সর্দি-কাশি এবং চিকেনপক্স (Rarely seen now a days) ইত্যাদি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মাফিক কমিউনিটিতে ফিরে আসে। বিশেষ করে ইনফ্লুয়েন্জা শীতের সময়ে সংক্রমিত হয়ে থাকে; কিন্তু বসন্তের শেষে বা গ্রীষ্মে ইনফ্লুয়েন্জার সংক্রমন থাকেনা।


যে ভাইরাস বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সংক্রমন করে থাকে সেগুলোকে মৌসুমী ভাইরাস বলা হয়ে থাকে। যদি কোনো এক বছরে এই সংক্রমন অতি সংখ্যায় হয় তখন সে অবস্থাকে মহামারী বলা হয়ে থাকে। তবে এই ভাইরাস একটি দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় বা কিছু কিছু দেশে হয়ে থাকে। সেজন্য এগুলোকে এন্ডেমিক ভাইরাস বলা হয় যখন COVID-19 পেন্ডেমিক বা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে। COVID-19 এখনও এন্ডেমিক হয়নি। এই ভাইরাসটি মাত্র প্রাণীদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়ে এখন পেন্ডেমিক হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা এখন ভাবছেন করোনাভাইরাস মৌসুমী এবং এন্ডেমিক হবে কি-না।


কেনো কিছু ভাইরাস আবর্তিক হয়ে থাকে তার এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠিত যুক্তি নেই। কিন্তু কিছু প্যারামিটারের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয় কোন্ ভাইরাস বাৎসরিক আবর্তন করে থাকে। এমনও নয় যে শুধুমাত্র শীতকালে এই ভাইরাস সংক্রমিত করে থাকে। ভাইরাসের সংক্রমন বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে ভাইরাসটি আবর্তিক কি-না। শ্বাসকষ্টজনিত ভাইরাসের সংক্রমন সাধারনত শীতকালে চরমাকার ধারন করে। অরিজিনাল ভাইরাসটি অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা এবং ইউভি লাইটের মধ্যে সারভাইব করতে পারেনা।


পরিবেশগত তাপমাত্রা অবশ্য সরাসরি ভাইরাসের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনা যেটা আমরা মনে করে থাকি। ভাইরাস অনেকটা ন্যানোমেশিনের মতো এবং পারিপার্শিক প্রতিকুল তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে। কিন্ত উচ্চতর তাপমাত্রা পরিবেশের অন্যান্য উপাদানকে প্রভাবিত করে যেমন আর্দ্রতা। স্যাঁতসেতে মেঝে ভাইরাস পতিত হলে তা’ ডিসইনফেক্টান্ট করা যতো সহজ হয় শুষ্ক আবহাওয়ায় তা’ সম্ভব হয়না। শুষ্ক আবহাওয়ায় সমতল বা যেকোনো মেঝেতে ভাইরাসজনিত লিকুইড পতিত হলে দ্রুত শুঁকিয়ে ভাইরাস শক্ত আবরন তৈরী করতে সমর্থ্য হয় এবং তা’ সহজে উত্তোলন করা সম্ভব হয়না। আবার অতি তাপমাত্রায় সূর্যালোকে ইউভি থাকে। ইউভি সাধারনত মিউটেজ্নিক হয়ে থাকে এবং ভাইরাসের জেনেটিক ম্যাটারিয়াল ধ্বংস করে দেয়।


অধিক মাত্রায় সূর্যালোক ক্রমশ ভূপৃস্ঠ থেকে ভাইরাস ধ্বংস করবে। এক থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে সূর্যালোকের সংস্পর্শে ভূমিপৃস্ঠ থেকে দশ গুন ভাইরাস কমে যাবে। অর্থাৎ ১,০০০ পার্টিকেল থেকে ১০০ তে নেমে আসবে।


শীতকালে ভাইরাস ছড়ানোটা আমাদের আচরনের ওপরও নির্ভর করে। এই সময়টায় আমারা পারষ্পরিক বেশী কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করি। পরিবারের সবাই মিলে ভীড় করে থাকি।


এখন প্রশ্ন হচ্ছে COVID-19 এর ক্ষেত্রে উপরোক্ত ফরমূলা কি আদৌ কার্যকরী?

 
ইনফ্লুয়েন্জা বা অন্যান্য ভাইরাসের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং অতিরিক্ত সূর্যালোক থেকে ইউভি কার্যকর হলেও COVID-19 এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা আদৌ কাজ করছে কি-না তা’ প্রমানিত নয় এবং এখনও বিজ্ঞানীদের জন্য তা’ বলা কঠিন। অস্ট্রেলিয়া ভাবছে যদি করোনাভাইরাস সংক্রমন আসন্ন শীত মৌসুমে সামাজিক দূরত্ব পদ্ধতি অনুসরন করে নিম্ন পর্যায়ে রাখা যায় তবে সামারে প্রকোপ কমে যাবে এবং ইতোমধ্যে তারা প্রতিষেধক আবিষ্কারে সক্ষম হবে। সামারে ইনফ্লুয়েন্জার প্রকোপ এখানে একেবারেই থাকেনা। সেখানেও বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে।


আবার যেসব অন্চল গ্রীষ্মমন্ডলীয় সেসব অন্চলে মৌসুম খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আবার ইনফ্লুয়েন্জার ইনফেকশন রেটও কম। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থার মতে COVID-19 তাপমাত্রা নির্বিশেষে ছড়িয়ে পড়ছে। সুতরাং করোনাভাইরাস ছড়ানো তাপমাত্রা এবং মৌসুম এর ওপর নির্ভর করছেনা।


বিশ্ব এখন COVID-19 এর প্রথম ধাক্কা মোকাবেলা করছে। এই স্তরে করোনাভাইরাসের কাছে আমাদের ইমিউনিটি নেই। তবে ইমিউনিটি তৈরী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কিভাবে তৈরী হবে? মানুষ আক্রান্ত হবে এবং সুস্থতার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ইমিউনিটি তৈরী হবে। পরবর্তী স্তরগুলোতে অধিকহারে মানুষের মধ্যে ইমিউনিটি তৈরী হতে থাকবে।


এক পর্যায়ে ব্যাপক হারে সমাজে ইমিউনিটি তৈরী হবে এবং করোনাভাইরাস প্রকারান্তরে খুব কম মানুষকেই সংক্রমিত করার জন্য পাবে। এই পর্যায়ে ভাইরাসটি এন্ডেমিক হবে এবং সিজনাল ভাইরাসে রূপান্তরিত হবে। এবং সমাজে যাদের তখনও পর্যন্ত ইমিউনিটি তৈরী হয়নি এমন মানুষদের সংক্রমন করবে।


যখন করোনাভাইরাস এন্ডেমিক পর্যায়ে পৌঁছাবে তখন বিজ্ঞানীরা কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে এবং তখন করোনাভাইরাসের সংক্রমন রোধ হবে।


অতীত মহামারী রোধে গৃহীত পদক্ষেপ থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। ড: মাইক করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করেছেন ১৯৮০ সালে। ঐ সময়ে দু’টি সম্পর্কে ধারনা ছিলো- OC43 এবং 229E। সারস্ ভাইরাস আসার পর আরও দু’টি করোনা ভাইরাসের ধারনা পাওয়া যায়। ধারনা করা হয় সহাস্রাধিক বছর পূর্বে বাদুর থেকে এই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি এবং নোভেল করোনাভাইরাস হিসেবে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে। এবং মানুষের চলাচলের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।


বিজ্ঞানীদের মূলত: এখন দৃষ্টি কোন্ দিকে?
বিজ্ঞানীরা করোনাভারাসের পরবর্তী ধাক্কা কিভাবে সামলানো যাবে সেদিকে দৃষ্টিপাত করছেন। বিজ্ঞানীরা এখন সিরোজিকাল টেস্ট করে দেখছেন মানুষের COVID-19 এর বিপরীতে এন্টিবডিস রয়েছে কি-না এবং তা’হলে তাদের ইমিউনিটি রয়েছে। পরবর্তী ধাপে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিজ্ঞানীরা এটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারে সক্ষম হবেন বলে ভাবছেন। তবে প্রতিষেধক আবিষ্কারই হচ্ছে চুড়ান্ত লক্ষ্য। হতে পারে প্রতিষেধক আবিষ্কারে এক থেকে দেড় বছর সময় নিতে পারে।


বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে হতে পারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে করোনাক্রান্তদের এন্টিভাইরাল কাজ করছে কিন্তু পরবর্তীতে সেই কারনে ভাইরাসের মধ্যে ভ্যাকসিনের বিপরীতে রেসিসট্যান্স তৈরী হতে পারে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT