Main Menu

COVID - 19 কি তাপমাত্রা বা আদ্রতার সাথে সম্পর্কিত?

দক্ষিন গোলার্ধে ঠান্ডা আবহাওয়া শুরু হলে কি অস্ট্রেলিয়াসহ দক্ষিন গোলার্ধের দেশগুলোতে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে?


তাপমাত্রা COVID -19 কে প্রভাবিত করে কি-না তা’ প্রমানিত নয়। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী, গবেষক এবং অধ্যাপক ড: মিল্টন হাসনাতের সাথে কথা হচ্ছিলো তাপমাত্রা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রনে কোনো প্রভাব ফেলে কি-না। জনাব মিল্টন মনে করেন করেনাভাইরাস সংক্রমনে তাপমাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই বা প্রমানিত নয়। কিন্তু উইন্টার সিজনে অস্ট্রেলিয়ায় যদি বর্তমান হেলথ ক্রাইসিসের ওপর ফ্লু’র তীব্রতা বেড়ে যায় তবে করোনা মহামারী মারাত্মক আঁকার ধারন করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস এবং ওয়েদার নিয়ে গুজব রয়েছে যে আসন্ন গ্রীষ্মের তাপমাত্রা এবং আদ্রতা করোনাভাইরাস ছড়ানো বন্ধে সহায়তা করবে। সে কারনে দক্ষিন গোলার্ধের দেশগুলোতে শীতের আগমন আরও ভীতি ছড়াচ্ছে।

বাস্তবতা হচ্ছে:
- নিশ্চিতভাবে শীতের সিজনে ফ্লু’র আক্রমন বেড়ে যায়; কিন্তু বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নয় যে ঠান্ডা আবহাওয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমন বেড়ে যায়,
- বিশেষজ্ঞরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম শুরু হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমন বেড়েই চলবে,
- দক্ষিন গোলার্ধে যেহেতু উইন্টার শুরু হয়েছে সেহেতু ফ্লু’র আক্রমন করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে। বিশেষজ্ঞগন তাই অস্ট্রেলিয়াতে সবাইকে ফ্লু’র শট নেয়ার উপদেশ দিচ্ছেন

কুইনসল্যান্ড ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক লিন্ডা সিলভি বলেন যে ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাস হয়তো অপেক্ষাকৃত ঠান্ডায় এবং কম আদ্রতায় স্থায়িত্ব পায়। শীতের সময় মানুষের মধ্যে ঘরে থাকার প্রবনতা বেশী। কারন অনেকেরই সর্দি-কাশি হয়ে থাকে এবং ঠান্ডা এড়ানোর জন্য মানুষ ঘরে থাকতে চায়।

- গিনিপিগের ওপর পরিচালিত এক গবেষনায় প্রমানিত যে অধিক ঠান্ডায় এবং কম আদ্রতায় ফ্লু ভাইরাস ট্রান্সমিশন হয়ে থাকে;
- UV(Ultra Violet) গ্রীষ্মকালে প্রবল থাকে এবং ভূমিতলের ফ্লু ভাইরাস বিনাশ করে; 
- কিন্তু সেই তাপমাত্রা জ্বরের তাপমাত্রা থেকে বেশী হতে হবে;

ব্যতিক্রম লক্ষ্যনীয়:
- গ্রীষ্ম প্রধান অন্চল যেখানে আলাদা কোনো সিজন নেই সেসব এলাকায় আবার বছর জুড়ে ফ্লু’র সংক্রমন দেখা যায়;
- মূল কথা হচ্ছে ফ্লু’র বৈশিষ্ট্যের সাথে COVID-19 এর বৈশিষ্ট্য সাযুজ্য নয়।

“যদি ইন্ফুয়েন্জা ঠান্ডা আবহাওয়ায় স্থায়িত্ব পায়; তবে একই ওয়েদার কন্ডিশনে হয়তো COVID-19 ও স্থায়িত্ব পেতে পারে। কিন্তু নিশ্চতভাবে বলছি COVID-19 এর তাপমাত্রার সাথে কোনো সম্পর্ক আছে এই তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই।” লিন্ডা সিলভি।

চায়না থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে যেখানে দেখানো হয়েছে যে তাপমাত্রা এবং আদ্রতা বাড়ার সাথে COVID-19 এর সংক্রমন হ্রাস পায়।
লিন্ডা সিলভি বলেন, “গবেষনাপত্রটিতে তাপমাত্রা এবং আদ্রতার সাথে COVID-19 এর সংক্রমন বাড়া বা কমার ব্যাপারে সুনিশ্চিতভাবে বা পরিষ্কারভাবে কার্যকরন সম্পর্ক দেখানো হয়নি। প্রকাশিত গবেষনাপত্রটিতে অনেক ত্রুটি রয়েছে।” লিন্ডা আরও বলেন যে গবেষনাপত্রটি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনে বা অন্যান্য যে সমস্ত দেশে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়েছে গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপের প্রভাবের কথা একেবারেই উল্লেখ করেনি।

আমেরিকার এ্যারাইজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটেশনাল এপিডেমিওলোজির এক্সপার্ট শেরি টাওয়ার্স বলেন, “গবেষনাপত্রটি বিশেষজ্ঞদের মাঝে বিশ্লেষণ না করেই প্রকাশিত হয়েছে।” শেরির মতে  বিশ্বের অধিকাংশ দেশে টেস্টিং কিটের স্বল্পতা, পিপিই’র সরবরাহ না থাকা ইত্যাদির কারনে কনফার্মড কেসের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে না জানার ব্যাপারটি গবেষনাপত্রটিতে উল্লেখিত হয়নি।

ড: শেরি টাওয়ারস আরও বলেন, “করোনাভাইরাস অত্যন্ত  সংক্রমনযোগ্য; এমনকি ১৯১৮ সালের স্পেন ফ্লু মহামারীর থেকেও অধিক হারে সংক্রমনযোগ্য। এই সংক্রমন গরম বা আদ্র আবহাওয়ায়ও চলতে থাকবে।”

ড: সিলভি বলেন, “তাপমাত্রা বিবেচনা না করে বলছি সংক্রমনের হার বাড়বে। যেহেতু মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাসটি ছড়ায় সেহেতু সংক্রমন পুরোপুরিভাবে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আচরনের ওপর নির্ভর করছে।”

তাপমাত্রা পৃথিবীর কোথায় কতো ডিগ্রী থাকবে তার ওপর নয় বরং একজন ইনফেক্টেড মানুষ ক’জনকে ইনফেক্টেড করলো তার ওপর নির্ভর করছে COVID -19 এর 
সংক্রমন ।

ইউনিভার্সিটি অব কুইনসল্যান্ডের রসায়ন এবং মলিকিউলার বায়োসাইন্স বিভাগের রিসার্চ ফেলো ক্রিস্টি শর্ট বলেন যে মানুষের ঠান্ডা লাগলে মানুষ অসুস্থ বোধ করে। কিন্তু কেনো তা’ এখনও স্পষ্ট নয়। তার মতে যদি কেহ হাইপোথার্মিক (যদি তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী’র নীচে নেমে যায়) হয়ে থাকে তবে স্পষ্টত শরীরের বহু অংশ কাজ করবেনা। ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে কারও ঠান্ডা লাগছে। বরং বলতে হবে নির্দিষ্ট কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। 
সুতরাং শীতের সময় একটা অতিরিক্ত জাম্পার গায়ে পরিধান করলেই কিন্তু করেনাভাইরাস ঠেকানো যাবেনা।

ড: শর্ট বলেন, “তাপমাত্রা বিবেচনায় না নিয়েই বলছি আসন্ন শীতে রেগুলার ফ্লু ভাইরাস করেনাভাইরাস মহামারীর সংক্রমনকে অনুপ্রানিত করবে।” তিনি বলেন, “করোনাভাইরাস এবং ফ্লু’র কম্বিনেশন টোটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনাকে ভেঙ্গে দিতে পারে।”

ড: শর্ট অস্ট্রেলিয়ানদেরকে ফ্লুশট নেয়ার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। তিনি এটাও বলেছেন যে ফ্লুশট নিলেই করোনাক্রান্ত হবেনা তার কোনো গ্যারান্টি নেই। তবে হেলথকেয়ার সিস্টেমকে করোনা মোকাবেলায় সাহায্য করবে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT