Main Menu

জাতীয় ঐক্য কি সময়ের দাবী ?

মো: আসাদুজ্জামান: কয়েকদিন আগে বামপন্হীরা করোনা ভাইরাসের মত বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন । বিএনপি মহাসচিব সর্বজনাব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সংকটের শুরুতেই এর ভয়াবহতা এবং অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন । সর্বজনাব তারেক রহমান শুধুমাত্র কর্মীদের পাশে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় নেতা কর্মীদের ।বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির পর একই আহবান রেখেছেন ।সবগুলো ডাকই জাতীয় ঐক্যের অনুঘটকের ভূমিকা রাখে । কিন্ত কোন ডাকই নীতি নির্ধারকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফেরাতে এখনো পারে নি । সরকার তার সাধ্যমত নিজস্ব দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করে যাচ্ছে । এটা এক ধরনের গুয়ার্তুমি নয় তো ? আজ কোন একটি টেলিভিশন রিপোর্ট করেছে যে বিশ্ব সেরা অর্থনীতিবিদরা বলেছেন , করোনার ইফেক্টে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে কম পক্ষে নয় লক্ষ কোটি ডলারের ক্ষতি হবে । বাংলাদেশের ক্ষতি কত হবে ? বাংলাদেশ কি তা ধারন, বাহন এবং মোকাবিলা করতে পারবে ? বাংলাদেশের গরীব, দু:খী, ভূখা, নাঙা,শ্রমজীবি -মেহনতি মানুষ কি এর প্রভাবে পঙ্গু হয়ে পড়বে ? না কি ঘুরে দাঁড়াবে অদম্য সাহস আর শক্তি নিয়ে ? কেউ কেউ মনে করেন করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে সব শোষিত -মধ্যবিত্ত-শ্রমজীবি - মেহনতি মানুষ সমাজ বদলের নতুন এক নিয়ামক শক্তিতে পরিনত হবে । বামপন্থিরা কিংবা সাধারন মানুষের রাজনীতির ধারক মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর কি সেই সম্ভবনার কথা ভেবে এই জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছেন ? ইংরেজীতে একটা কথা আছে- Nothing is above politics ! এক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করতে চাই বিএনপি এবং বামপন্থিরা মানব কল্যানের রাজনীতির উদ্যোগ নিয়েছেন ।
       সে যাই হোক ! বাস্তবতা হলো, করোনার কালো থাবা সরকার সিরিয়াসলি নেওয়ার পর এখনো এক মাসে পার হয়নি । ইতিমধ্যে ত্রাণ বিতরনে অনেক অসংগতি দেখা গেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কারও কারও বিরুদ্ধে ত্রানের চাল চুরি এবং চুরি করা চাল ঘরের মেঝেতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগের তীর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে । এরমধ্যেও নিন্দুকেরা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যরাতের ভোট ডাকাতি এবং ১৯৭৪ সালের রিলিফ চুরির রেফারেন্স টেনে সরকারের নিন্দা করছে । কেউ কেউ বলছে, রিলিফ চুরি-ভোট চুরি আওয়ামীলীগের ঐতিহ্যের অংশ । আওয়ামীলীগ হয়তো এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলবে ! আমি বলি ত্রানের চাল চুরি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কি না তা ইতিহাস বিচার করবে ঠি ক যেভাবে চুয়াত্তর কে বিচার করছে । ২০১৮ সালের মধ্যরাতের ভোট চুরি নিয়ে আমি কিছু এখানে লিখবো না । শুধু বলবো , এই মহাজাগতিক সংকটের সময় যদি চাল - গম চুরি হয় তাহলে সেটা কিন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পার পাওয়া যাবে না ! এ জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে । এটা চুয়াত্তরের পুনরাবৃত্তি হয়ে যেতে পারে , দূর্ভিক্ষ বয়ে আনতে পারে !! ইতিমধ্যে দেখা গেছে ত্রানের দাবিতে কোন কোন জায়গায় মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, জামালপুরে বুভূক্ষ জনতা ত্রানবাহী ট্রাক থেকে নিজেদের মত চাল কেড়ে নিয়েছে,  ত্রান চাইতে গিয়ে অসহায় বৃদ্ধ রক্তাক্ত হয়েছে , ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ক্ষুধার যন্ত্রনায় একজন মেহনতি মানুষ আত্মহত্যা করেছে ! এ সবই কিন্ত অশনী সংকেত !
      করোনামুক্ত করতে কতদিন সময় লাগবে তা আমরা জানি না , চীনের মত দেশের লেগেছিল ৭৮ দিন, তারপরও নতুন করে সেখানে ধরা পড়ছে , আমরা এখনো ৩০ দিন পার করিনি ; এখনো বন্যা , ঘূর্নিঝড় কিংবা খরার আক্রমণ আমাদের জীবনে নিত্য বছরের অভিশাপ হিসেবে আসেনি ! তারপরও ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ পাচ্ছি । এ আর্তনাদ শ্রমজীবি-মেহনতি  সর্বহারা শ্রেনীর গন্ডি পেরিয়ে নিন্ম মধ্যবিত্তদের কাতর আর্তনাদ । এই মিছিলে অচিরেই শামিল হবে উচ্চ মধ্যবিত্তরা । সবকিছুই কিন্ত ইঙ্গিত করে জাতির জীবনে দূর্যোগের ঘনঘটা , অশনী সংকেতের !
        আমাদের অর্থনীতির প্রধান তিনটি লাইফ লাইন হলো বৈদেশিক শ্রমবাজার, গার্মেন্টস শিল্প এবং কৃষি খাত । বৈশ্বিক মন্দার কারনে বৈদেশিক শ্রমবাজার এবং গার্মেন্টস শিল্প সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে সেটা অনুধাবন করার জন্য এত্তবড় অর্থনীতিবিদ হওয়ার প্রয়োজন হবে বলে আমার মনে হয় না । গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মরত অনেক শ্রমিক বেকার হওয়ার আশংকায় রয়েছে, অনেক নতুন এবং ক্ষুদ্র শিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি হবে এটা সহজেই অনুমেয় ! কৃষিখাত কতটা ঘুরে দাঁড়াবে সেটা নির্ভর করবে ক্ষমতাসীনরা কতটা আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো দূরদর্শী কৃষি বিপ্লব ঘটাতে পারবে তার উপর! ব্যার্থতায় বাংলাদেশ মৃত্যু উপত্যকায় রুপ নিতে পারে !
    চলমান সংকটে বিদেশী ঋন কিংবা অর্থনৈতিক সহযোগীতা প্রত্যাশা কতটা যৌক্তিক বা প্রত্যাশিত হবে তা আমার মত ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মীর পক্ষে বিবেচনা করা বা অনুধাবন করা সম্ভবপর নয়, সমীচিনও নয় । তবে এটুকু বুঝতে পারছি, ট্রাম্পের আল্ট্রা ন্যাশনালিজম যেমন আমেরিকার হাতকে সংকুচিত করবে তেমনি দারুন হিসেবী ইউরোপকে তাঁদের নিজস্ব রুটি রুজির দিকেই নজর দিতে হবে বেশী । চীন তার ক্ষয়ে যাওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগ্রাসী ব্যাবসায়ী নীতিতে মনযোগী হবে । আর আই এম এফ/ এডিবি/ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কতটুকু এগিয়ে আসবে সেটা দেখার বিষয় । এহেন পরিস্থিতে বিশ্বের সামনে এসে দাঁড়াবে নয়া ঔপনিবেশিক যুগ , অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদ বনাম নতুনভাবে সৃষ্ঠ শোষিত-মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সাথে বিশাল এক দ্বন্দের রুপরেখা ; শুরু হবে নতুন যুগের লড়াই । কারা জয়ী হবে সেটা নির্ভর করবে নেত্রীত্বের বিচক্ষনতা এবং যোগ্যতার উপর ! তবে মানুষ মরবে, না খেয়ে মরবে, লড়াই করতে যেয়ে মরবে ।
     সে যাই হোক, চলমান এবং আগামী ভয়াবহ দিন মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামীলীগ এবং এর নেত্রীত্বাধীন সরকারকে এখনই জাতীয় ঐক্যের পথে আসতে হবে , সততা নিয়ে ক্ষমতার মোহের উর্ধ্বে উঠতে হবে, মানুষ বাঁচাতে হবে, দেশ বাঁচাতে হবে , বাঙালী কিংবা বাংলাদেশীদের বাঁচাতে হবে । টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া রুপসা থেকে পাথরিয়া পর্যন্ত সকল দলের রাজনৈতিক কর্মীদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য, কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত সকল স্তরের রাজনৈতিক এবং সামাজিক ঐক্যই মুক্তির একমাত্র পথ। মানুষ এবং দেশ বাঁচানোর একমাত্র পথ। বাঙ্গালী এবং বাংলাদেশীদের বেঁচে থাকারা একমাত্র অবলম্বন। জাতীয় ঐক্য দেরী হলে সেই ক্ষতি হবে অপূরনীয়।  
লেখকঃ রাজনৈতিক কর্মী এবং আইনজীবি ।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT